Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১০ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৮-২০২০

আ.লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে মাস্টারপ্লান হয়েছে : রিজভী

আ.লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে মাস্টারপ্লান হয়েছে : রিজভী

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি - বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সিইসির নেতৃত্বে কতিপয় কমিশনার ও ইসির কর্মকর্তারা আগামী ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে রেখেছে। আর সেজন্যই সিটি নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা কমিশন সভায় স্থান পায় না।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আজ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে যত অভিযোগ কমিশনে করা হয়েছে, সবগুলোই অপ্রয়োজনীয় কাগজের ঝুড়িতে নিক্ষেপ করা হয়েছে। কারণ, এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সেবক। সুতরাং তার কাছ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে।’

‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দুজন ভিন্ন ব্যক্তি হলেও তাদের কণ্ঠস্বর একটাই। তারা নির্বাচন নিয়ে একই সংগীত গাইছেন’,- যোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বরূপ উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে যে অবস্থা বিরাজমান ছিল অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নেতা-কর্মীদের হয়রানি, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের ঘুম কেড়ে নেয়ার নীতি এবারও তারা অব্যাহত রেখেছে। বন্ধুরা, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আওয়ামী লীগকে জেতাতে ততটাই মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঢাকা শহরে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। বরাবর নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া হয়। এবার ঢাকা সিটি নির্বাচনে সেই উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সুতরাং সন্ত্রাসের বাতাবরণে একদলীয় ভোট অনুষ্ঠিত করার জন্য বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান ও তার প্রীতিধন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রতিদিনই নানা প্রকাশের আক্ষেপে নব নব রূপে স্ফুরিত হচ্ছেন। সুশাসন নয়, আওয়ামী লীগ যে সন্ত্রাস বিতরণের কেন্দ্র সেটিরই বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন একদিন আগে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’। এই ভোটে নির্বাচন কমিশনের যেভাবে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। সিটি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর থেকে আজ পর্যন্ত যে তিনটি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়, তার কোনোটিতে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি, অনিয়ম বা প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে কোনো আলোচনা হয়নি। আজ নির্বাচন কমিশনে যে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতেও ঢাকা সিটি করপোরেশন সম্পর্কে কোনো বিষয় আলোচ্যসূচিতে নেই।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে যেসব অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে কমিশনে কোনো প্রকার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এসব অভিযোগের পেছনে যে অসন্তোষ, তা বিস্ফোরিত হলে সিটি করপোরেশন নির্বাচন যথোপযুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হবে না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।’

রিজভী বলেন, ‘একটু আগে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন আমাকে ফোন করে জানালেন যে, ধানমন্ডিতে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত প্রচারণা কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। সেখানকার ওসি ও ডিসি দাঁড়িয়ে থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। আপনারা দেখছেন, গত পরশুদিন গোপীবাগে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনার পর উল্টো বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মামলা দায়ের করার পর এ পর্যন্ত ১০-১২ জনকে গ্রেফতার করে এখন রিমান্ডের নামে চলছে অকথ্য নির্যাতন। ৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীসহ শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এই অজ্ঞাতনামা আসামি করার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে গণগ্রেফতার চালিয়ে এলাকাকে বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারশূন্য করা।’

তিনি বলেন, ‘৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিনের ক্যাম্প থেকে হামলা করা হয়, দোতলা থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ১২ জনের মতো বিএনপি নেতাকর্মীকে আহত করা হয়। আহতদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিকও রয়েছেন। অথচ এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেয়নি ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান। উল্টো ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান আজিজ নিজে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। তিনি যেন ওই থানায় যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অনুকূলে রাখার জন্য ওয়ারী থানার ওসি দায়িত্ব পালন করছেন।’

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২৮ জানুয়ারি

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে