Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৫-২০১৩

কলকাতার রাস্তায় ডালবড়া খেলেন ক্যামেরন


	কলকাতার রাস্তায় ডালবড়া খেলেন ক্যামেরন
কলকাতা, ১৫ নভেম্বর- কলকাতা ও হাওড়া: সকালে শখ হয়েছিল ফুচকা খাওয়ার৷ বাধ সেধেছিল নিরাপত্তা৷ ইচ্ছে ছিল হাওড়া বৃজে পায়চারি করবেন৷ তা-ও হয়নি৷ দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়েছেন হাওড়া স্টেশনের সামনে মিনিট তিনেক হেঁটে৷ তবে সন্ধেয় তাকে পায় কে! ভরদান মার্কেটের সামনে আশ মিটিয়ে ডালবড়া খেলেন৷ চাটনির সঙ্গত বেশ মনে ধরেছে৷ জেনে নিয়েছেন রেসিপিটাও৷ ঝটিতি সফরে কলকাতার স্বাদ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন৷ সমাপতনই হবে৷ যে দোকানের ডালবড়ায় মজে দিনান্তে টুইটারে ছবি পর্যন্ত আপলোড করেছেন, তার নাম 'ভিক্টোরিয়া বড়া'!
 
বৃহস্পতিবার দিনভর ঠাসা কর্মসূচি৷ হাতে সময় ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা৷ তার মধ্যেই শহরের আস্বাদ নিলেন, দিলেন শহর সাজাতে প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস৷ বোঝালেন, বৃটিশ ভারতের প্রথম রাজধানী কলকাতার প্রতি তার দরদ কতটা৷ তার মধ্যেই আইআইএমের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করা, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে বৈঠক৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আইআইএমের ছাত্রী ঋষা চৌধুরী বা ডালবড়া বিক্রেতা অনুপম চৌহান—কলকাতা নিয়ে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর আবেগে মুগ্ধ সবাই৷ কলকাতায় ক্যামেরন 'ভিনি, ভিডি, ভিসি'৷
 
বৃহস্পতিবার কাঁটায় কাঁটায় দুপুর দুটো তেরো মিনিটে দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ৷ যাওয়ার কথা ছিল আকাশবাণী ভবনে৷ কিন্ত্ত বৃটিশ আমলের স্থাপত্য, বৃটিশ নির্মাণ নৈপুণ্যের সাক্ষী হাওড়া বৃজ দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেন৷ কনভয়ের মুখ ঘোরে হাওড়া অভিমুখে৷ পথে চোখে পড়ে ফুচকাওয়ালা৷ শালপাতা হাতে দাঁড়ানোর ইচ্ছে 'মঞ্জুর' করেননি নিরাপত্তারক্ষীরা৷ হাওড়া বৃজের উপর হাঁটাও আটকেছে সে কারণে৷ তবে পুরোনো প্ল্যাটফর্মের বাইরে খানিক হেঁটেছেন৷ এরপর আকাশবাণীতে নির্ধারিত সাক্ষাৎকার পর্ব সেরে সটান জোকা৷
 
আইআইএমে সাকুল্যে মিনিট তিরিশেক ছিলেন৷ প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগেই মন জয় করলেন৷ ছাত্রছাত্রীদের, কলকাতারও৷ কেন কলকাতায় আসা, গোড়াতেই বলে দিলেন সে কথা৷ ক্যামেরনের কথায়, 'কলকাতা আমার প্যাশন৷ কলকাতাকে কেন্দ্র করেই ভারত-বৃটেন উন্নয়নের নতুন ধারার সূত্রপাত হতে পারে৷ অন্য রাষ্ট্রপ্রধানরা দিল্লি, মু্ম্বই ঘুরে যান৷ কিন্ত্ত কলকাতার প্রতি আমাদের যে পরিমাণ দরদ এবং আবেগ রয়েছে, তা আপনাদের সামনে তুলে ধরতেই আমার এখানে আসা৷' তার কথায় গঙ্গার স্রোতে মিশল টেমস৷ বললেন, 'লন্ডনের মতো এখানেও আমরা পরিকাঠামো গঠন, পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যায়ন নিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে পারি৷ আমরা টেমস পরিষ্কার করেছি৷ এ শহরের নদীর ক্ষেত্রে আমরা সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারি৷'
 
এ প্রসঙ্গেই জুড়েছেন, 'আপনাদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য মুখিয়ে আছি৷' শিক্ষাক্ষেত্রেও এ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে বৃটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মেলবন্ধন ঘটাতে আগ্রহী ক্যামেরন৷ কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, 'কলকাতাই হল শ্রেষ্ঠ মেধার আঁতুরঘর৷'
 
রবীন্দ্রনাথ থেকে হিগস-বোসন, যোগসূত্র ঘটল ক্যামেরনের কথায়, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পাওয়ার নোটিফিকেশনের একশো বছর হচ্ছে এ বারই৷ যে কণা নিয়ে মৌলিক বিজ্ঞানে এত হই-চই, সেই হিগস-বোসনের 'বোস'ও (সত্যেন্দ্রনাথ বসু) তো এ শহরের বিজ্ঞানী! কলকাতায় আসার এ-ও এক কারণ৷'
 
জোট সরকার থেকে অর্থনৈতিক মন্দা বা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে সওয়াল, প্রশ্নোত্তর পর্বে উঠে এসেছে বিবিধ প্রসঙ্গ৷ স্নোডেনের মতো বিতর্কিত প্রসঙ্গ এড়াননি তো বটেই, বরং শচিনের ফ্যান ক্যামেরন তা লুফে নিয়েছেন অনায়াসে৷ কেন নজরদারির প্রয়োজন, সে যুক্তির পাশেই সাজিয়েছেন স্নোডেনকে গ্রেপ্তারির পক্ষে যুক্তি৷ অকপট ভাবে সিরিয়ার বিরোধিতায় সরব হয়েছেন, আবার ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য নিজের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দরজা খোলা, সে আশ্বাস দিতেও কার্পণ্য করেননি৷ ক'জন ভারতীয় ছাত্রছাত্রীকে ভিসা দেয়া হবে? ক্যামেরনের জবাব, 'দেয়ার ইজ নো লিমিটেশন অফ নাম্বারস৷' আইআইএমে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার আগে একপ্রস্থ আলোচনা সেরে নেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জয় বুধিয়ার মতো পাঁচ শিল্পপতির সঙ্গে৷
 
এরপর বৃটিশ ডেপুটি হাইকমিশনে সাক্ষাত্ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে৷ রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আবাসন, পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সৌন্দর্যায়ন-- মুখ্যমন্ত্রী চান, এ সব ক্ষেত্রে কাজ হোক যৌথ উদ্যোগে৷ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে খবর, বৈঠকে রীতিমতো সন্ত্তষ্ট ক্যামেরন৷ তার কাছে বৈঠক 'ইতিবাচক এবং গঠনমূলক'৷ মুখ্যমন্ত্রীকে ক্যামেরন জানিয়েছেন, এ রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী তার সরকার৷ আলোচনার অধিকাংশ জুড়েই ছিল বিনিয়োগ প্রসঙ্গ৷ উঠেছে রাজারহাটের কথা৷ কী ভাবে সেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য পসরা সাজানো হচ্ছে, ক্যামেরনকে তা সবিস্তারে জানিয়েছেন মমতা৷ সব শুনেবুঝে আগ্রহ বেড়েছে ক্যামেরনেরও৷ সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীকে লন্ডনে যাওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী৷ কলকাতার স্মৃতি হিসেবে তার হাতে মুখ্যমন্ত্রী তুলে দিয়েছেন নিজের লেখা বই, কুর্তা-পায়জামা এবং ডোকরা শিল্পসামগ্রী৷
 
ফেরার পথেই বড়ায় মজেছিলেন৷ বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর এমন 'ছেলেমানুষি'? তার তো রাশভারী হওয়ার কথা! ভুল৷ নিজেই যে বলে গেলেন, 'এজ ডাজ নট ম্যাট্যার৷' ঘণ্টা সাতেকে এই ক্যামেরনকেই চিনল কলকাতা৷ 

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে