Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৩-২০২০

তিন সপ্তাহে সৌদি থেকে ফিরলেন আড়াই হাজার বাংলাদেশি

তিন সপ্তাহে সৌদি থেকে ফিরলেন আড়াই হাজার বাংলাদেশি

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি - সৌদি আরব থেকে প্রায় শূন্য হাতে দেশে ফেরত এসেছেন আরও ২১৭ জন। এদের মধ্যে বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ ফ্লাইটযোগে এসেছেন ১০৩ জন এবং রাত ১টা ১০ মিনিটে একই এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০২ ফ্লাইটযোগে এসেছেন ১১৪ জন। এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছেন।

বরাবরের মতো বুধবারও যারা ফেরত আসেন, তাদের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় জরুরি সহায়তা দেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

বুধবার ফেরত আসেন টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার দুই ভাই সুজন মিয়া ও মিন্টু মিয়া। সুজন পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে মাত্র চার মাস আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। আর মিন্টু মিয়া যান ২৩ মাস আগে। মিন্টুর আকামার (কাজের অনুমতিপত্র) মেয়াদ পাঁচ মাস থাকলেও সুজনের আকামা তৈরি করে দেননি কফিল (নিয়োগকর্তা)। দুই সহোদরই কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।

এ দু’জনের মতো অনেকটা শূন্য হাতে ফেরত আসেন নড়াইলের সুজন বিশ্বাস। বিমর্ষ চেহারায় সুজন বিমানবন্দরে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, এজেন্সি ও দালালের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কি?

প্রতারণার শিকার সুজন বলেন, অফিসে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে তিন মাস আগে সৌদি আরবে পাঠায় আমাকে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো কাজ পাইনি। বরং ধরা পড়ে দেশে ফিরতে হলো খালি হাতে।

আরেক ফেরত কর্মী টাঙ্গাইলের লিটন মাত্র ছয় মাস আগে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ নিয়ে সৌদি যান। সেখানে গিয়ে কোম্পানিতে কাজ করলেও কোনো বেতন দেয়া হয়নি। এমনকি আকামা তৈরি করে দেননি কফিল। কর্মস্থল থেকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও কফিল আর কোনো দায়িত্ব নেননি লিটনের।

সুজন-লিটনদের মতোই দেশে ফিরেছেন নরসিংদীর মন্টু মিয়া, টাঙ্গাইলের কাদের মিয়া, সিরাজগঞ্জের জাহিদুল, সিলেটের নাজমুলসহ অনেকে, যারা এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, দেশে ফেরত আসা কর্মীদের কথায় স্পষ্ট যে প্রত্যেককে নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল দালাল চক্র ও রিক্রটিং এজেন্সি। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়েন তারা। অনেকে বেতন পাননি। অনেকে সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ফেরত এসেছেন। তারা সবাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায়। এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয়, সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

এর আগে ২০১৯ সালে ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর গত তিন সপ্তাহে দেশটি থেকে ফেরত এলেন আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি।

প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্যের বরাত দিয়ে শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭ জন, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬ জন, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫ জন, কাতার থেকে দুই হাজার ১২ জন, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ জন ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ জন শূন্য হাতে ফিরেছেন, যাদের পরিচয় ডিপোর্টি। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা- সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২৩ জানুয়ারি

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে