Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২১-২০২০

প্রশান্তসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট জব্দ

প্রশান্তসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট জব্দ

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি- আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডি এবং ১০ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ এবং সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রশান্ত কুমার হালদারের মা, স্ত্রী, ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার, দুই কাজিন অমিতাভ অধিকারী ও অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক এমডি এরফানউদ্দিন আহমেদ ও পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দীর ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ এবং সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ২০ জনের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁদের গত পাঁচ বছরের আয়কর রিটার্ন হাইকোর্টে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন চেয়ারম্যান ও পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত রবিবার ওই আদেশ দেন। আদেশের কপি প্রকাশিত হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। আইএলএফএসএলের সাত আমানতকারীর করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আমানতকারীরা তাঁদের জমা রাখা সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষণা এবং তাঁদের পাওনা ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার কামালুল আলম ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। আইএলএফএসএলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আনোয়ারা শাহজাহান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আকতারুজ্জামান। ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী জানান, আদালত কম্পানি দেউলিয়া ঘোষণা না করে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় উল্লিখিত আদেশ দেন।

আদালত যাঁদের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ করা এবং বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তাঁরা হলেন—আইএলএফএসএলের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, মোমতাজ বেগম, নওশেরুল ইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, আবুল হাসেম, মো. রাশেদুল হক, প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার নামে পরিচিত), তাঁর মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুষ্মিতা সাহা, ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার, কাজিন অমিতাভ অধিকারী ও অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরফানউদ্দিন আহমেদ এবং পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী।

এ ছাড়া জয়েন্ট স্টক কম্পানির রেজিস্ট্রারকে পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল, পিঅ্যান্ডএল অ্যাগ্রো, পিঅ্যান্ডএল ভেনচার, পিঅ্যান্ডএল বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, হল ইন্টারন্যাশনাল, হল ট্রাভেলস, হল ট্রিপ, হল ক্যাপিটাল, হল টেকনোলজি, অ্যানোন কেমিক্যাল, নর্দার্ন জুট, সুখাদা লিমিডেট ও রেপটিল ফার্মা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পি কে হালদারের পরিচালনাধীন সব কম্পানির এবং ওই সব কম্পানির নামে নেওয়া ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র, আইএলএফএসএলের ঋণ বিবরণসংক্রান্ত যাবতীয় নথি ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে আইএলএফএসএলের বর্তমান চেয়ারম্যান, এমডি ও পরিচালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আইএলএফএসএলের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠান শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে যদি ওই প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়, তাহলে শেয়ারহোল্ডার ও হাজার হাজার আমানতকারী তাঁদের টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করবেন। এতে দেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই আমানতকারীরা যাতে তাঁদের অর্থ ফেরত পান সে জন্য এই মুহূর্তে বিষয়টি দুদককে তদন্তের নির্দেশ বা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া বা ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ প্রদান করা থেকে বিরত থাকছেন আদালত।

বহুল আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পি কে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকসহ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে লোপাট করেছেন অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে তিনি বিদেশে পালিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাঁর বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করেছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

আর/০৮:১৪/২২ জানুয়ারি

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে