Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ , ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৮-২০১১

আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী বললেই তিনি খুশি: খালেদা

আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী বললেই তিনি খুশি: খালেদা
ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই হত্যা, গুম ও সন্ত্রাসকে বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, “গত নির্বাচনে ভারত বস্তাভর্তি টাকা পাঠিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এবার যত টাকাই দেয়া হোক আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখা যাবে না। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী বললেই তিনি খুশি।

রোববার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বিজয়ের ৪০ বছরে বিএনপি আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

খালেদা জিয়া বলেন, “দেশ এখন মহা সংকটে। দেশের আকাশে শকুনের আনাগোনা। এই সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়েছি অন্য দেশের গোলামি করার জন্য নয়। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের আবার তাদের ট্রেনিং কাজে লাগাতে হবে।”

 

খালেদা জিয়া বলেন, “স্বাধীনতার পরে যেমন গোপন চুক্তি করা হয়েছিল, এবারো তেমন গোপন চুক্তি করা হয়েছে। সংসদেও উপস্থপান করা হয়নি। করিডোর দিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর স্বাধীন দেশ নেই। শুধু নামেই আমরা স্বাধীন আছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী বললেই তিনি খুশি।”

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, “খুন গুম বন্ধ করুন। গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না। বাধা দিলে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। তখন মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের পাশে থাকবে।”

 

মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনায় আসার সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “এই সরকার পুলিশের ওপর ভর করে আছে। তাদের কোনো জনসমর্থন নেই।”
 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা কমিটির আহবায়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ব্যারিস্টার মেজর অব. শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। পরিচালনা করেন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক মসিউর রহমান। সারা দেশের কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা সকাল থেকে গায়ে সাদা গেঞ্জি ও মাথায় লাল সবুজ টুপি পড়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জড়ো হন।

 

খালেদা জিয়া বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি শের-ই বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নাম স্মরণ করে বক্তৃতা শুরু করেন।

 

তিনি বলেন, “যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে তারা তো মুক্তিযুদ্ধ করেনি। তারা তাবেদার। রণাঙ্গণে যুদ্ধ করেছেন জিয়াউর রহমান। তিনিই প্রথম অস্টম বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। এই যুদ্ধ শুধু একটি পতাকার জন্য নয়, স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশ, গণতন্ত্র আর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই আপনারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। মানুষের ওপর পাকিস্তানিদের জুলুম নির্যাতনের জন্যই জিয়াউর রহমানের ডাকে যুদ্ধ করেছিলেন। কোনো চিরকুট নয় বরং জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এসব চিরকুটের কথা সব বানোয়াট।”

 

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি তারাই ক্ষমতায় বসে। তখন সদ্য স্বাধীন দেশে অনেক সাহায্য এসেছিল সব তারা লুট করেছে। তারা ২৫ বছরের গোলামি চুক্তি করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তিনি প্রশ্ন করেন, গোলামি চুক্তির জন্য কি আপনারা যুদ্ধ করেছিলেন।

 

বিরেধীদলীয় নেত্রী বলেন, স্বাধীনতার পরের সরকারে কিছু লোক ছাড়া সবাই ছিল অযোগ্য। তাদের দেশ পরিচালনার অযোগ্যতার কারণে তিন বছরের মাথায় দেশে দুর্ভিক্ষ হয়। সেই দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ না খেয়ে মারা যায়। একদিকে তখন দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের সন্তানদের সোনার মুকুট পরিয়ে বিয়ে করিয়েছে।”

 

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ এই দেশের স্বাধীনতা চায়নি। তারা চেয়েছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। একদিকে পাকিস্তানিরা মানুষ হত্যা করছিল, অন্যদিকে তারা আলোচনা চালাচ্ছিল। তখন শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন।”

 

খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতারা দেশে সামরিক শাসন জারি করেছিল। জিয়াউর রহমান সামরিক শাসন তুলে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস বসিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ থেকে বের করে উন্নয়নের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তিনি দুর্ভিক্ষের দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। আর তখনই জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হলো। তাকে হত্যা করা হলো। কারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে তাও একদিন বেরিয়ে আসবে। তবে আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না বিধায় বিচার আচারে যাইনি। প্রতিহিংসা নয়, জিয়া আমাদের উন্নয়নের রাজনীতি শিখিয়ে গেছেন।”

 

তিনি বলেন,  “শেখ মুজিব সরকার ফারাক্কা বাঁধ চালু করার অনুমতি দিয়েছিল। ফারাক্কা বাঁধের কারণে সব নদী শুকিয়ে গেছে। এখন তারা আবার টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের কাজ করছে। আমি বার বার এর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। অথচ এই সরকার এর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে না। তাদের দলের লোকেরা বলে টিপাইমুখ বাঁধ হলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। এদের কি দেশপ্রেমিক সরকার বলা যায়? এই টিপাইমুখ বাঁধ হলে সিলেট অঞ্চল শুকিয়ে যাবে। আবার যদি ভূমিকম্প হয় তখন সিলেট অঞ্চল পানি নীচে তলিয়ে যাবে।”

 

 

 

যুদ্ধারপরাধের বিচার

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “আমরাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে কেনো ছেড়ে দেয়া হয়েছিল? তারা থাকলে তো আর যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজতে হতো না। তারাই বলতো কারা স্বাধীনতার সময় তাদের সঙ্গে কাজ করেছে।”

 

তিনি বলেন, “যুদ্ধাপরাধের বিচার স্বচ্ছ,আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ হতে হবে। সত্যিকারের যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের ধরতে হবে। আওয়ামী লীগের দলের মধ্যেই অনেক বড় বড় পদে যুদ্ধাপরাধীরা বসে আছে। তাদের আগে ধরতে হবে। ট্রাইব্যুনালের বিচারককেও নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনো দলীয় লোক দিয়ে বিচার চলবে না।”

 

গুম করে হত্যা

খালেদা জিয়া বলেন, “এখন প্রতিনিয়ত মানুষ গুম করে হত্যা করা হচ্ছে। সাদা পোশাকের মানুষ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এই হত্যা প্রথম শুরু হয়েছিল সিরাজ সিকদারকে হত্যার মধ্যে দিয়ে। তখন সিরাজ সিকদারকে হত্যা করে সংসদে বলা হয়েছিল ‘কোথায় সিরাজ সিকদার’। এটা খুবই দুঃখজনক। এখন আবার সরকার তার ব্যর্থতা ঢাকার জন্য খুন গুম শুরু করেছে। তারা লাশের রাজনীতি করছে। ৭২-৭৫ সালে ৪০ হাজার মানুষ হত্যা করেছে। আর গত তিন বছরে তারা ১৫ হাজার মানুষ হত্যা করেছে। এজন্য একদিন তাদের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।”  

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার

খালেদা জিয়া বলেন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য একদিন তারা জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। তাদের দাবির মুখে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলাম। কয়েকবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলই ক্ষমতায় গেছে। এখন তারা সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।”

 

সরকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সোচ্ছার হওয়ার আহবান জানিয়ে খালেদা বলেন, “আপনারাই তো বলতেন অস্ত্র জমা দিয়েছেন ট্রেনিং জমা দেননি। সেই ট্রেনিং এখন দেশ রক্ষায় কাজে লাগাতে হবে। দেশের জন্য একবার যুদ্ধ করেছেন। এবার দেশ রক্ষায় যুদ্ধ করতে হবে।”

 

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে এলডিপির সভাপতি কর্নেল অব. অলি আহমদ বীর বিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. ইবরাহিম বীর প্রতীক, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেদোয়ান আহমেদ, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বক্তব্য দেন।

 

এছাড়া বিএনপি নেতাদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার  মওদুদ আহমদ, মির্জা আববাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, এয়ার ভাইস মার্শাল অব. আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ, শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল অব. আইন উদ্দিন, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলমা, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, জয়নুল আবদিন ফারুক, নুরুল ইসলাম মনজুর, মজিবুর রহমান সরোয়ার, অধ্যাপক মো. শাহজাহান, নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক রেজাউল করিম, জয়নাল আবেদিন ভিপি জয়নাল, শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, সিরাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিন, এসএম শফিউজ্জামান খোকন প্রমুখ। উল্লেখ্য যারা বক্তৃতা দেন তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে