Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৬ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২০-২০২০

আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতেই সিপিবির সমাবেশে হামলা

জাহাঙ্গীর আলম


আ.লীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতেই সিপিবির সমাবেশে হামলা

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি - ঠিক ১৯ বছর আগে রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, তৎকালীন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত এবং বিব্রত করার জন্য এই বোমা হামলা ঘটানো হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম বাংলাদেশের (হুজি) সদস্য এবং তাদের ধারণা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির লোক কাফের, বিধর্মী, নাস্তিক, ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী নয়, ইসলাম ধর্মের শত্রু এবং আল্লাহকে খোদা মানেন না। সে কারণে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশে আসামিরা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে তারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে।

বিচারক বলেন, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি আসামিরা পল্টন ময়দানে কমিউনিস্ট পার্টির মহাসমাবেশে বোমা হামলার মাধ্যমে একজন নিরীহ-নির্দোষ মানুষকে হত্যা করেছে। আসামিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে নরকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সে কারণে এদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা ও সমুন্নত রাখার জন্য হরকাতুল জিহাদের জঙ্গিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত মনে করেন আদালত।

বিচারক আরও বলেন, ইসলাম ধর্ম শান্তি ও সত্যের ধর্ম। মহান আল্লাহ কোনো জঙ্গি সংগঠন বা কোনো দলকে ধর্মের নামে নিরীহ-নির্দোষ মানুষকে হত্যার অধিকার দেনি। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন শরিফের সুরা মায়িদার ৩২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে যে, কেউ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে, অন্য কোনো প্রাণের বিনিময় ব্যতীত পৃথিবীতে কোনো ফ্যাসাদ সৃষ্টির অপরাধ ছাড়া, সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল। উপযুক্ত অবস্থায় এই আদালত মনে করেন যে মৃত্যুদণ্ড আসামিদের উপযুক্ত এবং একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন হুজির সদস্য মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান ও নুর ইসলাম। এদের মধ্যে প্রথম চার জন কারাগারে রয়েছেন, বাকিরা পলাতক।

আসামিদের প্রত্যেককে এ মামলায় অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২/১২০ এর বি/৩৪ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। মামলার পলাতক দুই আসামি মশিউর রহমান ও রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়। এছাড়া কারাবন্দি আরিফ হাসান সুমন ও পলাতক নুর ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কারণে ৩০৭/৩২৪/৩২৬/৩৪ ধারায় তাদের লঘুদণ্ড দেয়া হয়নি।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশ চলাকালে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত ও অনেকে আহত হন। নিহতরা হলেন- খুলনার বটিয়াঘাটার হিমাংশু মণ্ডল, রূপসা উপজেলার আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরার আবুল হাসেম, মাদারীপুরের মুক্তার হোসেন ও খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস।

এ ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা করেন। এর দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন। এ মামলায় ৩৮ জন বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার সঙ্গে যোগসূত্র পেয়ে ২০০৫ সালে আবার মামলার তদন্ত শুরু হয়। ওই হামলায় মামলা হওয়ার ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ জন আসামি চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন- হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, হুজির সদস্য মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল আলম ও নূর ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর শেষের আটজন পলাতক।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২০ জানুয়ারি

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে