Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২০-২০২০

নিরুপায় হয়েই সবকিছু ছেড়েছি: প্রিন্স হ্যারি

নিরুপায় হয়েই সবকিছু ছেড়েছি: প্রিন্স হ্যারি

লন্ডন, ২০ জানুয়ারি- ব্রিটেনের রাজ সিংহাসনের দাবি ছেড়ে রাজ পরিবার থেকে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে এসেছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান। পরে এ সম্পর্কে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘তিনি নিরুপায় হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া তার আর কোনও উপায় ছিল না।’

রোববার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে প্রিন্স হ্যারি বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী মেগান রানি ও রাজপরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেজন্য কোন সরকারি অর্থ বরাদ্দ নিতে চাননি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেটা সম্ভব ছিল না।

সাবেক অভিনেত্রী স্ত্রী মেগানকে নিয়ে রাজকীয় উপাধি ও দায়িত্ব ত্যাগ করার ঘোষণা দেবার পর এই প্রথম এ নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেন প্রিন্স হ্যারি।

এর আগে এক যৌথ বিবৃতিতে প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান জানান, তারা রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন এবং বলেছেন, তারা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হবার জন্য কাজ করতে চান।

রোববার আফ্রিকার এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের জন্য প্রিন্স হ্যারির দাতব্য প্রতিষ্ঠান সেন্টেবালির এক তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে লন্ডনে কথা বলেন হ্যারি।

সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি অনুমান করতে পারি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনারা আমাদের বিষয়ে কী কী শুনেছেন। কিন্তু আমি চাই আপনারা আমার মুখ থেকেই সত্যটা শুনুন। আমি যতটা বলতে পারি, একজন রাজকুমার বা ডিউক হিসেবে নয়, কেবল হ্যারি হিসেবে।’

দিদিমা ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে নিজের ‘কমান্ডার ইন চিফ’সম্বোধন করে প্রিন্স হ্যারি বলেন, তার প্রতি সব সময় পরম শ্রদ্ধা থাকবে।

‘আমাদের ইচ্ছে ছিল সরকারি অর্থ না নিয়ে রানীর প্রতি, কমনওয়েলথের প্রতি এবং আমার সামরিক সংস্থার প্রতি দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা সম্ভব ছিল না। আমি এটা মেনে নিয়েছি, যদিও জানি এতে আমি কে বা আমার কতটা দায়িত্ববোধ আছে সেসবের কিছুই বদলাবে না।’বলেন হ্যারি।

শনিবার রানি, রাজপরিবারের ঊর্ধ্বতন সদস্যগন এবং এই জুটির মধ্যে এক আলোচনায় হ্যারি ও মেগান একমত হয়েছেন এখন থেকে তারা আর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করবেন না। আসছে বসন্ত থেকে তাদের নামের আগে রাজউপাধি আর ব্যবহৃত হবে না, এবং আনুষ্ঠানিক সামরিক দায়িত্বসহ তাদের রাজকীয় সব দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হবে।

যদিও, বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজপরিবার হ্যারি ও মেগানের জন্য নিজস্ব পৃষ্ঠপোষকতা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা চালিয়ে যাবে।

রোববার হ্যারি আরো বলেন, ‘এটা ভেবে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে যে, এটা আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমার স্ত্রী এবং আমার নিজের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়াটা খুব সহজ বা হালকা ব্যাপার ছিল না। বহু বছরের চ্যালেঞ্জের পরে বহু মাস ধরে কথাবার্তা চলার পর এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। আমি জানি আমি সব সময় সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারিনি। কিন্তু যেভাবে চলছিল, তাতে আসলেই এ ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।’

ছেলে আর্চিকে নিয়ে ভ্যানকুভার দ্বীপে ছয় সপ্তাহের ছুটি কাটানোর পর হ্যারি এবং মেগান জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাজ্য এবং উত্তর আমেরিকায় তাদের সময় ভাগাভাগি করে থাকতে চান।

মেগান মার্কেল বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে কানাডার ওয়েস্ট কোস্টে রয়েছেন। এর আগে এ মাসের শুরুতে কয়েকদিনের জন্য যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন তিনি।

গত ৮ই ডিসেম্বর হ্যারি এবং মেগান ঘোষণা করেন যে, তারা রাজপরিবারের সামনের কাতারের দায়িত্ব থেকে অবসর নিতে চান। তারা এই ঘোষণা দিয়েছিলেন রানি বা রাজপরিবারের কোন সদস্যের সঙ্গে আগাম আলোচনা ছাড়াই। এজন্যেই এ ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্কের তৈরি হয়। পরে হ্যারি-মেগানের সিদ্ধান্ত মেনে নেন রানি এলিজাবেথ।

তবে সমালোচকরা মনে করেন বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামস ও তার স্ত্রী কেড মিডলটনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী।

আর/০৮:১৪/২০ জানুয়ারি

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে