Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ , ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (59 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৪-২০১৩

তারেকের অর্থ পাচার মামলার রায় রোববার


	তারেকের অর্থ পাচার মামলার রায় রোববার
ঢাকা, ১৪ নভেম্বর- নির্বাচনের আগে অস্থির রাজনীতির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার রায়ের দিন ঠিক হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি আদালত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে জানিয়েছে, ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের এই মামলায় আগামী রোববার রায় দেয়া হবে।
 
বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও মুদ্রা পাচারের আরেকটি মামলায় কারাদণ্ডাদেশ নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন।
 
কোকো কারাভোগ এড়ালেও ২০১১ সালে ওই রায়ের পর থেকে জনসভাগুলোতে ছেলের কথা তুলে বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা করে আসছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
 
তবে দলের পরবর্তী কর্ণধার হিসেবে যাকে দেখে আসছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা; সেই তারেকের বিরুদ্ধে এই মামলা রাজনৈতিক ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে তাদের দাবি।
 
অন্যদিকে মামলা দায়েরকারী দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছেন তারা এবং আসামির শাস্তিও আশা করছেন।
 
তারেকের মামলার রায়ের তারিখ যখন ঠিক হল, তখন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে টানা হরতালের পর আরো জোরদার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
 
গত তিন সপ্তাহে ১০ দিন হরতাল করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। আগামী সপ্তাহেও একই কর্মসূচির ইঙ্গিত রয়েছে জোটের নেতাদের।
 
লন্ডনে সম্প্রতি বিএনপির এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান। লন্ডনে সম্প্রতি বিএনপির এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান। আগামী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে তারেকের অনুপস্থিতিতেই এই মামলার রায় হবে। মামলা দায়ের থেকে শুরু করে পুরো বিচার প্রক্রিয়ায়ই অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
 
তারেক গত পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায়ই বিএনপির কাউন্সিলে দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
 
তারেকের সঙ্গে তার বন্ধু বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনও এই মামলার আসামি। কারাবন্দি মামুন বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের সময়ও আদালতে ছিলেন।
 
ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন মামলার রায় দেবেন। তিনি রায়ের এই দিন ঠিক করেন বলে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানিয়েছেন।
 
বিএনপি ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বললেও এই আইনজীবী গত ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের পর বলেছিলেন, “আমরা মামলাটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আসামি তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছি।”
 
তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা হলেও এই প্রথম কোনো মামলার নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে।
 
তারেক ও তার বন্ধু মামুনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৬ জুলাই এই মামলার বিচার শুরু হয়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর। গত বছরের জুলাই মাসে অভিযোগপত্র আদালতে দেয়া হয়।
 
চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর বাদি ও আসামি পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়, যা শেষ হল বৃহস্পতিবার।
 
এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ নির্মাণ কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন মামুন।
 
সিঙ্গাপুরে লেনদেনের পর সেখানকার সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে জমা রাখা এই অর্থের মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তারেক খরচ করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
 
শুনানিতে কাজল বলেন, “মামুন তারেকের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বাংলাদেশের ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে অর্থ পাচার করে দেন।”
 
২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পন্থায় ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
 

ওই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, মা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তখন হাওয়া ভবন ‘খুলে’ লুটপাট চালিয়েছিল তারেক।
 
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বনানীর নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে মামুন ওই অর্থ নিয়েছিলেন।
 
বিএনপির অভিযোগ, খাদিজাকে চাপ দিয়ে তারেকের বিরুদ্ধে এই মামলা ‘সাজানো’ হয়েছে।
 
মুক্তি পাওয়া ছেলের সঙ্গে খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ছবি। মুক্তি পাওয়া ছেলের সঙ্গে খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ছবি। জরুরি অবস্থা জারির পর ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পরের বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যান।
স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তখন থেকে সেখানেই রয়েছেন তারেক। সম্প্রতি সেখানে দলীয় কয়েকটি অনুষ্ঠানেও তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে।
 
তার অন্যতম আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মেজবাহ জানান, তারেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা ছিল, সাধারণ ডায়েরি ছিল একটি।
 
এর মধ্যে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন। সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের এই মামলা ছাড়া অন্যগুলো হচ্ছে- জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলা, ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার দুই মামলা এবং সোনালী ব্যাংকের দায়ের করা ডান্ডি ডাইয়িংয়ের ঋণ খেলাপির মামলা।
 
একটি মামলা এবং একমাত্র সাধারণ ডায়েরির অভিযোগ থেকে তারেক খালাস পেয়েছেন বলে মেজবাহ জানান। বাকি ১০টি মামলার কার্যক্রম হাই কোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে