Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৪-২০১৩

পলাতক নেতাদের প্রতি ক্ষুদ্ধ খালেদা জিয়া

শফিউল আলম দোলন



	পলাতক নেতাদের প্রতি ক্ষুদ্ধ খালেদা জিয়া
ঢাকা, ১৪ নভেম্বর- দলের পলাতক ও আপসকামী নেতাদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাদের চিহ্নিত করে চূড়ান্ত তালিকা প্রদানের নির্দেশ দিয়ে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, সারা দেশ উত্তাল, ফুঁসে উঠছে সর্বস্তরের মানুষ, ঢাকায় এই নীরবতা কেন? যারা মন্ত্রী-এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, সেই নেতারা কোথায়? কী তাদের ভূমিকা? ঢাকার ১৫টি নির্বাচনী এলাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কে কী করছেন? ভীতু আর মোনাফেকদের জায়গা বিএনপিতে নয়। দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে দলের চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা জানতে চান। 
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারবিরোধী আন্দোলনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। আগামী সপ্তাহে সোম অথবা মঙ্গলবার থেকে আবারও তিন দিনের হরতালে যাবে ১৮ দল। পরের সপ্তাহ থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে দুর্বার আন্দোলনের নির্দেশ দেওয়া হবে। সপ্তাহের পাঁচ দিনই হরতাল কর্মসূচিতে যাবে ১৮-দলীয় জোট। এ জন্য শুধু দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ভরসা না রেখে সম্প্রতি তিনি নিজেই মহানগর, জেলা, এমনকি স্থানভেদে উপজেলা পর্যায়েরও অনেক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। যেসব নেতার ভূমিকায় চলমান আন্দোলন ন্যূনতম বিঘ্নিত হতে পারে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা সরকারের সঙ্গে আপসকামিতাসহ আন্দোলন কর্মসূচি এড়িয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন খালেদা জিয়া। ১৯৯০-এর ছাত্র আন্দোলনে দলের স্বার্থ পরিপন্থী অবস্থান নেওয়ায় অভি-নিরুর বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন এবং তারপর আন্দোলন যেভাবে চাঙ্গা হয়েছিল, এবারও অনেকটা সেরকমভাবেই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন তিনি।
 
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীতে আন্দোলনে যথাযথ ভূমিকা পালন না করলে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের লোকালয়ে দেখা না গেলে তাদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে নিজ নিজ পদ থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাতে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামের একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এ ছাড়াও কয়েক দিনে যেসব পেশাজীবী নেতা দেখা করেছেন, তাদের সঙ্গেও নেত্রী একই মনোভাব ব্যক্ত করেন বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেগম খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি দলের আপসকামী ও পলাতক কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও এবার আর কোনো ছাড় দেবেন না। চেয়ারপারসন হিসেবে তার নিজের কথা বাদ দিলেও হরতালের মতো কঠিন কর্মসূচিসহ জীবনবাজি রেখে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সারা দেশের এমন লাখ লাখ নেতা-কর্মীকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে রেখে যেসব কেন্দ্রীয় নেতা শুধু নিজেদের গা-বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং অর্জিত অর্থ-সম্পদ রক্ষায় সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে আপস করে চলছেন তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালেই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দেশের অনেক জেলা-উপজেলা থেকেও এখন এই দাবি উঠছে। বেগম খালেদা জিয়া এখন শুধু কেন্দ্রীয় কিংবা ঢাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ওপর নির্ভর না করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক জেলা ও এলাকার মাঝারি পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিজেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। ফলে দেশের তৃণমূল নেতাদের প্রকৃত অবস্থান ও মনোভাবের সঠিক চিত্রটা জানতে পারছেন। তৃণমূলের বেশির ভাগ নেতাই চাচ্ছেন- আন্দোলনে যে সব কেন্দ্রীয় নেতা শৈথিল্য প্রদর্শন করছেন তাদের অন্তত দু-একজনের বিরুদ্ধে হলেও বহিষ্কারাদেশের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, তাতে সারা দেশের তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মনোবল আরও চাঙ্গা হবে। আর গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় যে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন দেখা যাচ্ছে তা তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা দলের প্রতি তাদের দায়িত্ব এবং মমত্ববোধ থেকে করছেন বলে মনে করছেন বেগম খালেদা জিয়া। বিভিন্ন পেশাজীবী নেতার সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, দল মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষই এখন নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারাও অনেকে রাস্তায় পর্যন্ত নেমে আসতে চাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে আপনারা পেশাজীবীরা আর বসে না থেকে যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। আমাদের দলের হতাহত ও গ্রেফতারকৃত দরিদ্র নেতা-কর্মী-সমর্থকদের আইনি সহযোগিতাসহ সবধরনের সহায়তা দিন। সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে পুলিশি ধরপাকড় হলেই যারা অজ্ঞাত স্থানে চলে যান এসব পলাতক নেতার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত বেগম খালেদা জিয়া। কারণ সারা দেশের তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকরাও এখন বিব্রতবোধ করছেন এসব নেতার কাপুরুষোচিত ভূমিকার জন্য। তারাও রীতিমতো ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছেন। মুখ দেখাতে পারছেন না। বিশেষ করে দল ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান কঠিন দুঃসময়ে সারা দেশের লাখ লাখ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে সরকারি দল ও পুলিশের গুলির মুখে ফেলে রেখে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পালিয়ে অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে থাকার ঘটনায় তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মতো খালেদা জিয়া নিজেও চরম ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। যদিও এটা তার জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। তারপরও দলের এই কঠিন সময়ে বিএনপির মতো একটি 'বৃহৎ ও সবচেয়ে জনপ্রিয়' রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পালিয়ে থাকা নিয়ে এখন দল ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদের সাম্প্রতিক সুদৃঢ় ভূমিকায় যারপরনাই খুশি হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। শুক্রবারের পর থেকে পেশাজীবীসহ রাজনৈতিক ও অন্য স্তরের নেতারাসহ যারাই তার সঙ্গে গুলশানের বাসায় দেখা করতে গেছেন তাদের সবার সঙ্গেই আলাপকালে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশ ও জাতির এই দুঃসময় ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণ সারা দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলেছে। তৃণমূল নেতারাই বিএনপির শক্তি।
 
এ সময় তিনি দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, 'ছেলেটা অসুস্থ এবং তার পায়ে ব্যথা, তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে পার্টি অফিসে গিয়েছে তা চিন্তাও করা যায় না।' গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের সিনিয়র নেতার সাক্ষাৎ হয়নি। তবে দু-তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। এর মধ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, এলডিপির মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিচারপতি আবদুর রউফ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক শফিক রেহমান, মহাসচিব মুশফিকুল ফজল আনসারি এবং কবি আল মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন পেশাজীবী নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সরকারের কড়া নজরদারিতে থাকা তার গুলশানের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। অসুস্থ থাকার জন্য ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন দেখা করতে না পারলেও তিনি বেগম জিয়ার কাছে সংহতিপত্র পাঠিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এমন একাধিক পেশাজীবী নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বেগম খালেদা জিয়া নির্দলীয় সরকারের ব্যাপারে তার অবস্থানে কোনো রকমের ছাড় দেবেন না। প্রয়োজনে যে কোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতেও তিনি প্রস্তুত। তিনি মনে করেন, সরকার যত অপকৌশলই গ্রহণ করুক বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য- এতে তারা সফল হবে না। জনগণ তাদের একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, দলের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা এমপিদের মধ্যে বেশির ভাগই বর্তমানে ঢাকায় নিষ্ক্রিয় অবস্থান করছেন। এমনকি এলাকায়ও তারা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। এ ছাড়া জেলা বিএনপির অনেক নেতা রয়েছেন- যারা সরকারি দল ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আপস করে ঢাকায় অবস্থানের মাধ্যমে টেলিফোনে সবাইকে জানাচ্ছেন যে, তারা এলাকায় অবস্থান করছেন। এদের ব্যাপারেও বেগম খালেদা জিয়া অবগত রয়েছেন এবং শীঘ্রই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে