Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০ , ২০ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৬-২০২০

গৃহবধূ মুনমুনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি তিন মামলা

গৃহবধূ মুনমুনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি তিন মামলা

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি - ঢাকার ধামরাইয়ে বালিথা গ্রামের গৃহবধূ মুনমুন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন গত ১০ ডিসেম্বর। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। এ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে গিয়ে মুনমুনের স্বামী আরিফুল ইসলাম আজাহারকে বেদম মারপিট করেন গৃহবধূর স্বজনরা। তাকেও নেওয়া হয় হাসপাতালে। এদিকে, আজাহার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকাকালে স্ত্রী আত্মহত্যা করেন। এরপর মুনমুনের মৃত্যু রহস্য নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা গ্রামে। মুনমুন ধামরাই পৌরসভার কুমড়াইল মহল্লার আবদুল লতিফের মেয়ে। বালিথা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে আরিফুল ইসলাম ওরফে আজাহারের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তার।

পুলিশ ও দুই পক্ষের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত ১০ ডিসেম্বর গৃহবধূ মুনমুন তার ৮ বছরের ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের একে এইচ গার্মেন্ট কারখানার কাছে বাস দুর্ঘটনায় আহত হন। তাকে গোলড়া হাইওয়ে থানার ওসি লুৎফর রহমান মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। এদিকে স্ত্রীকে খুঁজতে থাকেন স্বামী আরিফুল ইসলাম ওরফে আজাহার। ওইদিন বিকেলে জানতে পারেন, তার স্ত্রী মানিকগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সেখানে স্ত্রীকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন আজাহার। পরের দিন মুনমুনকে নির্যাতন করা হয়েছে মর্মে তার (মুনমুন) স্বজনরা স্বামী আজাহারকে বেদম মারপিট করে গুরুতর আহত করেন। তাকে প্রথমে নেওয়া হয় মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওদিকে, মুনমুনকেও ভর্তি করা হয় ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসা শেষে পৌরসভার কুমড়াইলে বাবার বাড়ি গিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর সতমায়ের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মুনমুন। লাশটি ঝুলন্ত অবস্থায় নামিয়ে আনেন সৎমা সহ অন্যরা। ওই সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আজাহার।

মুনমুনের আত্মহত্যার ঘটনায় তার ভাই আলামিন ভগ্নিপতি আজাহার, বোনের শ্বশুর শাহজাহান, শাশুড়ি মাজেদা বেগম, ননদ শাহানাজ ও ননদের জামাই আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় শ্বশুর ও শাশুড়িকে ওইদিনই গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। তারা ১৪ দিন হাজতবাস করার পর জামিনে মুক্ত হন। জামিন পেয়ে শাহজাহান তার ছেলে আজাহারকে মারপিট, নগদ ৪-৫ লাখ টাকা ও ৫-৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের মামলা করেন নিহত মুনমুনের ভাই আলামিন, বাবা আবদুল লতিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এর কয়েকদিন পর আজাহার তার স্ত্রী মুনমুন আত্মহত্যা করেনি তাকে তার (মুনমুন) সৎমা নিজ ঘরে মেরে ফেলেছে বলে আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালত ধামরাই থানাকে মামলাটি রুজু করার নির্দেশ দেন। গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি রুজু করা হয় ধামরাই থানায়। প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনে চলছে পুলিশের ব্যাপক তদন্ত ও অনুসন্ধান। আজাহারের দাবি, তার স্ত্রীকে সৎশাশুড়ি সহ কয়েকজন মিলে হত্যা করেছে। প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনের জন্য প্রয়োজন হলে আদালতের মাধ্যমে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। এদিকে, নিহত মুনমুনের ভাই মামলার বাদি আলামিন জানান, তার বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করায় আত্মহত্যা করেছে। ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, মুনমুনের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি ও আদালতে দুটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলার তদন্ত চলছে। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ
এন এইচ, ১৬ জানুয়ারি

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে