Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৩-২০২০

সাত বছরেও ফেরেননি তারা, অবশেষে মামলা

সাত বছরেও ফেরেননি তারা, অবশেষে মামলা

যশোর, ১৩ জানুয়ারি- যশোরের চৌগাছায় দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা আর ফেরেননি পরিবারে। ঘটনার প্রায় সাত বছর পর রবিবার রাতে এক দালালকে চৌগাছা শহর থেকে ধরে পুলিশে দেয়া হয়েছে।  পরে এ ঘটনায় ওই রাতেই নিখোঁজ অমিত হাসান মুকুলের বাবা আতিয়ার রহমান চৌগাছা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ এই মামলায় পরিবারের লোকদের হাতে আটক দালাল ফজলুর রহমান রাজুকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে।

চৌগাছা থানার মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুক্তদহ গ্রামের সাতজন ২০১৩ সালের ১ জুন মালায়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেন অমিত হাসান মুকুল (৩০), আজিজুর রহমান (৪০), ফুলজার হোসেন (৪৬), শরিফুল ইসলাম খোকন (৪০), শফিকুল ইসলাম (২৭), রমজান আলী (৪৫) ও লিটন হোসেন (২৭)।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না ফেরায় নিখোঁজদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম হতাশা। উৎসব-পার্বন এলেই কান্নার রোল পড়ে যায় বাড়িগুলোতে। দীর্ঘদিন বাড়ির অভিভাবকরা নিখোঁজ থাকায় চরম দারিদ্র্য দেখা দিয়েছে পরিবারগুলোতে। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। একপর্যায়ে নিখোঁজ ফুলজার হোসেনের স্ত্রী রূপভান দুই মেয়ে এবং শরিফুলের স্ত্রী রেশমা বেগম তিন মেয়ের ভরণপোষণের জন্য স্থানীয় ডিভাইন গার্মেন্টসে কাজ নিতে বাধ্য হয়েছেন। অল্প টাকায় (ওই সময়ে জনপ্রতি তিন লাখ টাকা) মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রলোভনে দরিদ্র পরিবারের এসব ব্যক্তিরা আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়েন।

মুক্তদহ গ্রামে বিয়ে সূত্রে বসবাসকারী সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গোয়ালপোতা গ্রামের ফজলুর রহমান রাজু তাদের ফুসলিয়ে পানিপথে মালায়েশিয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানোর পর থেকে আজও তারা নিখোঁজ। ২০১৩ সালের ১ জুন বাড়ি থেকে একযোগে বের হন তারা। ১২ জুন অমিত হাসান মুকুল বাড়িতে ফোন করে বলেন, ‘আমরা সবাই পানিপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছি। ট্রলারে উঠেছি, এখনই রওনা দেব।’ ওই কথাই ছিল পরিবারের সঙ্গে তাদের শেষ কথা।

মুকুলের স্ত্রী চামেলী খাতুন বলেন, ‘যে নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছিল সেই নাম্বার বন্ধ পেয়েছি। বারবার চেষ্টা করেও ফোনে কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর ছয়টি বছর কেটে গেলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অতিকষ্টে দিন কাটছে আমাদের।’

নিখোঁজ শরিফুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী রেশমা বেগম তার তিন মেয়ে এবং ফুলজার রহমানের স্ত্রী রূপভান বেগম দুই মেয়ের লালন পালনের জন্য স্থানীয় ডিভাইন গার্মেন্টসে কাজ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা দুজন এবং আজিজুর রহমানের মা মনোয়ারা বেগম (৬০) হতাশ কণ্ঠে বলেন, অনেক চেষ্টা করেও তাদের খোঁজ পায়নি। এদের মধ্যে নিখোঁজ আজিজুর রহমানের স্ত্রী দুটি সন্তান ফেলে অন্যত্র চলে গেছেন। দাদির কাছে থেকেই তারা অতি কষ্টে জীবন পার করছে। তাদের বাবা আদৌ বেঁচে আছে কি না তাও জানেন না অবুঝ এই শিশুরা।

নিখোঁজের তিন মাস পর তারা মুক্তদহ গ্রামের ঘরজামাই আদম ব্যাপারী রাজুর কাছে যান। স্বজনদের ফেরত পেতে চাপ দিতে থাকেন। এ সময় রাজু তার সহযোগী চট্টগ্রামের টেকনাফের অপর আদম ব্যাপারী রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেন। টেকনাফের দালাল রাশিদুল তাদেরকে বলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই, তারা দুই-এক দিনের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় পৌঁছে যাবেন। কিছুদিন পরই মুক্তদহ গ্রামের ঘরজামাই দালাল রাজু তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে রাতের আঁধারে আত্মগোপনে চলে যান। পরে টেকনাফ ও মুক্তদহ গ্রামের দালালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর রাজু একই উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে রনি বেগমকে বিয়ে করেন। সেখানে যাতায়াত করলেও নিখোঁজদের পরিবারগুলো তা জানতো না।

প্রায় সাত বছর পর রবিবার রাতে রাজুকে চৌগাছা বাজারে দেখতে পেয়ে ওই পরিবারের সদস্যরা ধরে মুক্তদহ গ্রামে নিয়ে যান। পরে তাকে চৌগাছা থানায় সোপর্দ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এ ঘটনায় অমিত হাসান মুকুলের বাবা আতিয়ার রহমান চৌগাছা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় টেকনাফের দালাল রাশেদুল ইসলাম এবং অজ্ঞাত দালাল আলমকে আসামি করা হয়। পুলিশ মামলায় ফজলুর রহমান রাজুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে।

নিখোঁজ মুকুলের বাবা আতিয়ার এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার প্রথম দিকে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজ করেছি। কিন্তু আদম ব্যাপারীদের কোনো সন্ধান পাইনি। আমার ছেলেসহ চৌগাছার সাতজন ছাড়াও ঝিকরগাছা উপজেলার আরও আটজন এই দালালদের খপ্পরে পড়ে পানিপথে মালায়েশিয়ায় রওনা দেন। প্রায় সাত বছর পার হতে চললেও কারো কোনো সন্ধান পাইনি। অবশেষে রবিবার সন্ধ্যায় দালাল রাজুকে চৌগাছা বাজারে দেখতে পেয়ে কৌশলে আমাদের গ্রামে নিয়ে যাই। অনেক জিজ্ঞাসাবাদেও সে কোনো উত্তর দেয়নি। অবশেষে আমরা তাকে পুলিশে দিয়েছি এবং মামলা করেছি।

সূত্র: ঢাকাটাইমস

আর/০৮:১৪/১৩ জানুয়ারি

যশোর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে