Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৯-২০২০

বাগেরহাটে ৮৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

এস এম সামছুর রহমান


বাগেরহাটে ৮৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

বাগেরহাট, ০৯ জানুয়ারি- বাগেরহাটের সাতটি উপজেলার ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিদ্যালয়ের ভবনগুলোর ছাদ ধসে বা পলেস্তারা খসে পড়ে যেকোনও সময় বিপদ হতে পারে। কয়েকটি বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও নতুন ভবন নির্মাণের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কোনও কোনও বিদ্যালয়ের পাশে বাঁশের তৈরি টিনসেড নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করা হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী মনিটরিং অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর বাগেরহাট জেলার ৩৩৩টি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটির জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৪৩টি, কচুয়ায় ৪৮টি, ফকিরহাট ১৪টি, মোল্লাহাট ৪২টি, চিতলমারী ৪০টি, মোরেলগঞ্জ ৬০টি, শরণখোলা ৪৪টি, রামপাল ২৮টি ও মোংলায় ১৪টি। স্বল্প সময়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি জানান।

বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকাও তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের ৯টি উপজেলার এক হাজার ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭ উপজেলার ৮৫টি বিদ্যালয় ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এরমধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ১০টি, কচুয়া উপজেলায় ৬টি, রামপাল উপজেলায় ১২টি, মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ৩২টি, শরণখোলা উপজেলায় ৬টি, ফকিরহাট উপজেলায় ৬টি, মোল্লাহাট উপজেলায় ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে মোংলা ও চিতলমারী উপজেলায় কোনও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

সরেজমিনে বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, এসব অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের অনেকটাই ধসে পড়া। দেয়ালের আস্তর খসে সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট গর্ত।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার হেড়মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার রিয়া জানায়, তাদের ক্লাসে থাকতে ভয় করে। যেকোনও সময় তাদের গায়ের ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে পারে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আগেও একাধিকবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই রকম পরিবেশে পাঠদান করাও অনেক কষ্টের।’

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খান জালাল আহম্মেদ বলেন, ‘অভিভাবকদের অনেক বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনতে হয়। তারপরও আতঙ্কে থাকি, কখন ছাদ বা দেয়াল ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলার চিতলী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী হেনা আক্তার বলেন, ‘ভয় লাগে। কখন ছাদ ভেঙে পড়ে।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাবেরী হালদার জানান, চাকরির কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা ভবনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠদান করতে হয়। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে এসে পুনরায় বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা নেই। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘১৯৯৪ সালে এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন করা হয়। তখন থেকে এই ভবনের পাঠদান করে আসছেন তিনি। এখন ভবনটি পরিত্যক্ত হলেও নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন কে / ০৯ জানুয়ারি

বাগেরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে