Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৯-২০২০

ট্রেনের জানালার পাশে বসতে ভয়

তৌফিকুল ইসলাম বাবর


ট্রেনের জানালার পাশে বসতে ভয়

চট্টগ্রাম, ০৯ জানুয়ারি - গত বছরের ৩১ মার্চ মেইল ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ফিরছিলেন বোয়ালখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে পাঁচ-সাত মিনিট চলার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই জানালা দিয়ে উড়ে আসে একটি পাথর। সেই পাথরে কপাল ফেটে যায় তার। জখম হয় চোখও।

আহত জহিরুল ইসলাম সেদিনের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ট্রেনটির জানালার পাশে বসেছিলাম। হঠাৎ বাইরে থেকে ছুড়ে মারা একটি পাথর কপালে লেগে রক্ত বের হতে থাকে। ট্রেনটিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতোও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রীরা চিৎকার শুরু করলে এক রেলকর্মী এসে একটি ওয়ানটাইম ব্যান্ডেজ দিয়ে যান। পরদিন চট্টগ্রামে পৌঁছে চিকিৎসা নিই। সেই থেকে ট্রেনে চলাচলের সময় জানালার পাশের আসনে বসতে ভয় লাগে। এমনকি ট্রেনে উঠতেও সেই ভয় কাজ করে।

শুধু জহিরুল ইসলামই নন, প্রায় সময়ই দুস্কৃতকারীদের ছোড়া পাথরে এভাবে আহত হচ্ছেন ট্রেনের যাত্রীরা। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাথরের আঘাতে প্রীতি দাশ নামে এক নারী প্রকৌশলীর মৃত্যুর পর ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের বিষয়টি মোটা দাগে আলোচনায় আসে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস কুমিল্লার গোমতী ব্রিজ এলাকায় পাথর নিক্ষেপের শিকার হয়। এতে ট্রেনটির জানালা ভেঙে যায়, আহত হন অন্তত চার যাত্রী। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী বিরতিহীন আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে জহুরুল আলম নামে এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পেশায় ঠিকাদার জহুরুল ব্যবসায়িক কাজে দিনাজপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েছে। কোনো যাত্রী চলন্ত ট্রেনে আহত হলে দীর্ঘপথ ভ্রমণের পর গন্তব্যে পৌঁছে চিকিৎসা নিতে হয়। এ নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভের অন্ত নেই।

রেলওয়ের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে দুস্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে দুই হাজারেরও বেশি দরজা-জানালা ভেঙেছে। আহত হয়েছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুস্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা যায় না। ফলে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া যায়নি। আইন অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় শুধু আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনও খুব বেশি কার্যকর করতে দেখা যায় না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বখাটে ও কিশোর বয়সী ছেলেরাই এই পাথর নিক্ষেপে জড়িত। কীভাবে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায় তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই রেলওয়ের। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ রেলপথ মন্ত্রীসহ রেলের কর্মকর্তারা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলের বিভিন্ন রুটের ৬৫টি পয়েন্টে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ৩৬টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ২৯টি পয়েন্ট রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেই বেশিরভাগ ঘটনা ঘটছে। এ রুটের ঢাকা স্টেশন থেকে ভৈরব পর্যন্ত ১২টি পয়েন্টেই পাথর নিক্ষেপ করা হয় বলে চিহ্নিত হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে কয়েক বছর ধরে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে রেলওয়ে। যেসব এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্নিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষক, ইমামদের মাধ্যমেও প্রচার চালানো হয়েছে। লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তার পরও পাথর নিক্ষেপ ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষ সচেতন না হলে এই অন্যায় কার্যক্রম ঠেকানো কঠিন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গত বছরের ৭ মে একটি বিবৃতি দেন। ওই বিবৃতিতে তিনি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, দুস্কৃতকারীরা চলন্ত ট্রেনে ঢিল মেরে নিরাপদ বাহনকে অনিরাপদ করে তুলছে। এতে ট্রেনের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি মানুষের জীবনও বিপন্ন হচ্ছে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ০৯ জানুয়ারি

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে