Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-০৩-২০২০

রাজনীতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ক্রমেই শূন্যতায় সিলেট!  

রাজনীতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ক্রমেই শূন্যতায় সিলেট!

 

সিলেট, ০৪ জানুয়ারী - দেশের জাতীয় রাজনীতিতে এক সময় দাপুটে অবস্থান ছিল সিলেটের রাজনীতিবিদদের। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে ছিল তাঁদের অবস্থান। দলগুলোর নীতিনির্ধারণে ফোরামে প্রভাব ছিল বৃহত্তর সিলেট থেকে ওঠে যাওয়া এসব রাজনীতিবিদদের। কিন্তু সেই দাপুটে অবস্থান এখন আর নেই। দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পদগুলোতে দেখা মিলছে না সিলেটিদের। সময়ের পরিক্রমায় রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে শূন্যতায় পৌঁছাচ্ছে সিলেট।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ দেখা না যাওয়ার যে শূন্যতা, সেই শূন্যতা নিকট ভবিষ্যতে পূরণ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন ঘিরে যে আশার বেলুন উড়ছিল, সেই বেলুনও সম্মেলন শেষে চুপসে গেছে অনেকটাই।

তারা বলছেন, সুলতান মনসুর যখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন, তখন তাকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ে সিলেটের অবস্থানের আশা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের ঝড়ে সুলতান ‘লাইনচ্যুত’ হয়ে পড়ায় সেই আশা মিইয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের টানা তিনবারের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। যদিও তিনি নিজেকে পুরোপুরি বিকশিত করতে পারেননি, তথাপি তাকে ঘিরেও জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের শূন্যতা পূরণ হওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এবারের সম্মেলনে পদ হারিয়েছেন মিসবাহ, নতুন কোনো পদেও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি তাকে। এর ফলে মিসবাহকে ঘিরে থাকা সম্ভাবনা ডানা মেলার আগেই ভূপাতিত হয়েছে।

তবে নাটকীয়ভাবে শফিউল আলম নাদেল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন। তিনি ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। হুট করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা পাওয়া নাদেলকে ঘিরে সিলেটে তাই আশায় জাল বুনছেন আওয়ামী ঘরানার অনেকেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির রাজনীতিতে এম ইলিয়াস আলীকে ঘিরে প্রবল সম্ভাবনা ছিল। ক্রমেই নিজেকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন বিএনপির সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক। কিন্তু ‘নিখোঁজ রহস্যে’ হারিয়ে যাওয়ায় ইলিয়াসকে ঘিরে সম্ভাবনাও পুরোদমে প্রস্ফূটিত হয়নি। পরবর্তীতে ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও ইলিয়াসের মতো অবস্থান এখনও গড়তে পারেননি তিনি। এর বাইরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ছিলেন জাতীয় পর্যায়ে সিলেটের প্রতিনিধি। কিন্তু নাহিদ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠতে পারেননি। সিলেটেও তার শক্তিশালী অবস্থান নেই। আর শমসের রাজনীতি থেকে এখন অনেকটাই আড়ালে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর সিলেট থেকে জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী অবস্থান রাখা রাজনীতিবিদদের তালিকা নেহাতই ছোট নয়। এ তালিকায় থাকা আব্দুস সামাদ আজাদ ছিলে আওয়ামী লীগের দাপুটে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএনপির এম সাইফুর রহমান জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চবার বাজেট পেশে প্রথম স্থানে ছিলেন। গেল বছর আরেক সিলেটি আবুল মাল আব্দুল মুহিত পেছনে ফেলেন সাইফুরকে।

এছাড়া প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, সাবেক মন্ত্রী ফরিদ গাজী, এরশাদ আমলের রিয়াল এডমিরাল এম এ খান -প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় এই রাজনীতিবিদদের সবাই ছিলেন সিলেটের কৃতিসন্তান। এসব রাজনীতিবিদ স্বমহিমায় উদ্ভাসিত ছিলেন নেতৃত্বগুণে। নিজ দলের নীতিনির্ধারণে তারা রাখতেন অগ্রণী ভূমিকা। তাঁদের হাত ধরেই সমৃদ্ধির পথে এগিয়েছিল বৃহত্তর সিলেট। এই তালিকার একমাত্র মুহিত ছাড়া বাকি সবাই না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তাঁদের মৃত্যুতেই মূলত জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে যায় সিলেট।

এদিকে, বাম রাজনীতিতেও সিলেটি নেতাদের শক্ত অবস্থান ছিল একসময়। কমরেড বরুণ রায়, পীর হবিবুর রহমান প্রমুখ দেশপ্রেমিক নেতারা দেশের বামধারার রাজনীতিতে এখনও পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁদের কাতারে যেতে পারেননি সিলেটের অন্য কেউ।

এন এ/ ০৪ জানুয়ারী

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে