Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৫-২০১৯

মৌলভীবাজারে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, ভোগান্তিতে চা শ্রমিকরা

মৌলভীবাজারে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, ভোগান্তিতে চা শ্রমিকরা

মৌলভীবাজার, ২৫ ডিসেম্বর - সবুজ বন, পাহাড় ও হাওর বেষ্টিত মৌলভীবাজারে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। গত কয়েক দিনের শীতে ভোগান্তি বেড়েছে চা শ্রমিকসহ ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।

গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ওঠানামা করেছে ১১ ডিগ্রির আশপাশে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজারের তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসে সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন থেকেই জেঁকে বসেছে শীত। এর মধ্যে তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেও সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেই সঙ্গে আকাশে মেঘ থাকায় সূর্যের আলো সময়ে সময়ে দেখা দিলেও বেশিরভাগ সময় আড়ালেই থাকছে সূর্য। সূর্যের আলো না থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. আনিছুর রহমান জানান, আকাশে প্রচুর মেঘ রয়েছে যার কারণে স্বাভাভিকের চেয়েও বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। যদি মেঘ কেটে যায় তাহলে ঠান্ডা কমে আসবে।

এদিকে শীতের প্রকোপে ও হিমেল হাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে জেলার ৯২টি চা বাগানের পাঁচ লাখ চা জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শেষ বিকেল থেকে ঘন কুয়াশা শুরু হয়ে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি আকারে তা নেমে আসছে। শীতের প্রকোপ আর কুয়াশার কারণে কোনো দিন দুপুর পর্যন্ত আবার কোনো দিন সারাদিনও দেখা মিলছে না সূর্যের। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই শুরু হওয়া ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়ছে জনজীবন।

চা বাগানগুলোতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে কম্বল বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন কৌরি।

সরেজমিনে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডে ভর্তি আছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এম এম হক বলেন, ঠান্ডার কারণে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডাইরিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রত্নদ্বীপ বিশ্বাস তীর্থ বলেন, গত ১০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নেয়া রোগীদের বেশির ভাগ ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এর মধ্যে গত ১০ দিনে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫২০ জন ।

এদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে- মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় শীতার্তদের মাঝে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ২০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মল্লিকা দে বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত আছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র মজুত রয়েছে। সামনে আরও শীতবস্ত্র আসবে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২৫ ডিসেম্বর

মৌলভীবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে