Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২২-২০১৯

কৃষকের জন্য অভিশাপ ঘাটাইলের নয়ার খাল

মো. খায়রুল ইসলাম


কৃষকের জন্য অভিশাপ ঘাটাইলের নয়ার খাল

টাঙ্গাইল, ২২ ডিসেম্বর- খালটির নাম নয়ার খাল। একটা সময় বর্ষার পানি নিস্কাশন আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজ উভয়ই ছিল কৃষকের জন্য আর্শিবাদ। বর্ষায় পাহাড়ী ঢলে পলি পড়ে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। ঠিকমতে পানি নিস্কাশন না হওয়ায় ওই এলাকায় প্রতি বছর পানির নিচে তলিয়ে যায় বিস্তৃীর্ণ ফসলের জমি। এই খাল খনন না করায় জমির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে একবার খালটি খনন করা হয়েছিল। তারপর দীর্ঘ ৩২ বছর অতিবাহিত হলেও আর খনন করা হয়নি। কৃষক তাদের চোখের জল আর খালের জলে বির্সজন দেয় গোলায় তোলার পূর্ব মুহূর্তের সেই ধান। কৃষকের জন্য অভিশাপে রূপ নেওয়া খালটি বয়ে গেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল ধলাপাড়া দিয়ে।

জানা যায়, খালটির উৎপত্তিস্থল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের কামালপুর থেকে। নেধার বিল হয়ে এটি মিলেছে বংশাই নদীতে। চারটি ইউনিয়ন যথা: সাগরদিঘী, রসুলপুর, লক্ষিন্দর ও ধলাপাড়ার প্রায় ৬০ টি গ্রামের পানি নিস্কাশন হয় এই খাল দিয়ে। উপজেলার সবচেয়ে বড় বিল ধলাপাড়ার নেধার বিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই বিলের ধান। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে গেল বোরো মৌসুমে ওই খালের কারণে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩৫০ একর জমির ধান পচে নষ্ট হয় যার মধ্যে প্রায় ৫০ একর ছিল নেধার বিলের ধান। যে ধান গুলো বৈশাখের শুরুতেই কাটার উপযোগী, সে ধানও তারা গোলায় তুলতে পারেনি। বিলের জমি উর্বর হওয়ায় এখানে ৫৬ এর এক বিঘা জমিতে ধানের ফলন হয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ মণ। পলি পড়ে খালটি ভরাট হওয়ায় প্রতি বছরই এখানে দেখা দেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ধার দেনা করে অতি কষ্টে ফলানো ফসল কৃষকের চোখের সামনে পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, খাল দিয়ে পানি ঠিকমতো নিস্কাশন না হওয়ায় বিলে দেখা দেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে প্রতি বছরই এর প্রভাব বোরো ফসলের ওপর। বিএডিসি সেচ অফিস সূত্রে জানা যায়, খালটির প্রস্ত ১৫০ ফুট দৈর্ঘ প্রায় ৫ কিলোমিটার। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, ভরাট হওয়ায় কোথাও ২৫ ফুট আবার কোথাও ১২ ফুটেরও কম। গভীরতা একেবারেই নেই বললেই চলে। খালটির মিলনস্থল বংশাই নদীর ওই স্থানের প্রস্থ ৮ ফুটেরও কম।

সরাতৈল গ্রামের কৃষক শুকুর মাহমুদ বলেন, গত বোরো আবাদে আমার এক একর জমির ধান পানির নিচে পচে নষ্ট হয়ে যায়। সেই ধার-দেনার জের আমাকে এখনো টানতে হচ্ছে। এবার ধান লাগাবো কি লাগাবো না ভাবছি। স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিলের জমিতে ধান লাগিয়ে প্রতি বছরই কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবার অনেক কৃষকই ধান লাগানোর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. উম্মে হাবিবা প্রতিবেদক মো. খায়রুল ইসলামকে বলেন, গত বোরো মৌসুমের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা উপজেলা পরিষদের সভায় খালটি খনন করার জন্য বিএডিসি সেচ কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়। উপজেলা বিএডিসি ক্ষুদ্রসেচ এর উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো.আকরামুজ্জামান প্রতিবেদক মো. খায়রুল ইসলামকে বলেন, ওই খালটি আমাদের খননের সক্ষমতা নেই। আমরা ৩৩ থেকে ৩৯ ফুট প্রস্ত খাল খনন করতে পারি। কিন্তু ওই খালের প্রস্ত ১৫০ ফুট। বড় খাল খননের কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, খালটি খননের পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ
এন কে / ২২ ডিসেম্বর

টাঙ্গাইল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে