Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২০-২০১৯

স্যার ফজলে হাসান আবেদকে শেষবারের মতো দেখতে চায় হবিগঞ্জবাসী

মোহাম্মদ নূর উদ্দিন


স্যার ফজলে হাসান আবেদকে শেষবারের মতো দেখতে চায় হবিগঞ্জবাসী

হবিগঞ্জ, ২১ ডিসেম্বর- ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান স্যার ফজলে হাসান আবেদকে শেষবারের মতো দেখতে চায় হবিগঞ্জবাসী। তাদের দাবি, স্যার ফজলে হাসান আবেদ হবিগঞ্জের গর্ব। তার মরদেহ যেন শেষবারের মতো জন্মস্থান হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আনা হয়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ মারা যান।

তিনি মস্তিষ্কের জটিল রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানেই তারা জানাজা হবে। জানাজার পর ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক বলেন, ‘দাফনের বিষয়টি তার পরিবারের সিদ্ধান্ত। তবে স্যার ফজলে হাসান আবেদ হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান। তার জন্মস্থান বানিয়াচং থেকে ব্র্যাকের সৃষ্টি, সেই হিসেবে হবিগঞ্জবাসীর দাবি, তাকে শেষ দেখার জন্য লাশ হবিগঞ্জে আনা প্রয়োজন।’

হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল হাসান শরীফ বলেন, আমরা হবিগঞ্জবাসী উনাকে (স্যার ফজলে হাসান আবেদ) নিয়ে গর্ব করি। আমাদের আশা ছিল অন্তত শেষবারের মতো তাকে দেখার জন্য লাশ হবিগঞ্জে আনা হবে। আমরা সেই আশা থেকে বঞ্চিত হলাম।

হবিগঞ্জ সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ফজলে হাসান আবেদের লাশ বানিয়াচংয়ে আনা উচিত ছিল। অন্তত জানাজার জন্য। এই এলাকার মানুষ উনাকে নিয়ে গর্ব করে।’

বানিয়াচং উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ বলেন, ‘দাফনের বিষয়টি একেবারেই পরিবারের সিদ্ধান্ত। তবে জন্মস্থানে তার মরদেহ আনা উচিত ছিল।’

প্রসঙ্গত, ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার কামালখানী মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ও পরে ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৬ সালে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে লন্ডন চলে যান। সেখানে ভর্তি হন অ্যাকাউন্টিংয়ে। এখানে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিংয়ের ওপর চার বছরের প্রফেশনাল কোর্স পাস করেন ১৯৬২ সালে। এছাড়া, তিনি ১৯৯৪ সালে কানাডার কুইনস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডক্টর অব ল’ এবং ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর অব এডুকেশন’ ডিগ্রি লাভ করেন।

দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ তার কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮০ সালে র্যা মন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার, ২০১১ সালে ওয়াইজ প্রাইজ অব এডুকেশন, ২০১৪ সালে লিও টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ডমেডেল, স্প্যানিশ অর্ডার অফ সিভিল ম্যারিট, ২০১৫ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পুরস্কার অর্জন করেন।
২০০৯ সালে ব্রিটেন তাকে নাইট উপাধি দেয়।

সর্বশেষ, চলতি বছর তিনি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাউথ এশিয়ান ডায়াসপোরা অ্যাওয়ার্ড, শিক্ষায় ভূমিকা রাখায় ইয়াডান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

চলতি বছর স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। তাকে প্রতিষ্ঠানটির ইমেরিটাস চেয়ার নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করার পর সংস্থাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/০৮:১৪/২১ ডিসেম্বর

হবিগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে