Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৮-২০১৯

পরকীয়ার কারণেই স্ত্রীকে টুকরো টুকরো করেন মোজাম্মেল

পরকীয়ার কারণেই স্ত্রীকে টুকরো টুকরো করেন মোজাম্মেল

সিলেট, ১৯ ডিসেম্বর- সিলেটের ওসমানীনগরের একটি হাওর থেকে গত ২ ডিসেম্বর রাতে মস্তকবিহীন অজ্ঞাত এক তরুণীর (২০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর সাতদিন পর, ৯ ডিসেম্বর সকালে ওই তরুণীর ছিন্ন মস্তক উদ্ধার করা হয়। উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের যুগিনীঘর হাওর থেকে উদ্ধার করা হয় এ ছিন্ন মস্তক।

চাঞ্চল্যকর সেই ঘটনার দুই সপ্তাহেও কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারছিল না পুলিশ। অবশেষে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ। জানা গেছে, মস্তকবিহীন মরদেহের প্রকৃত ঘটনা, পরিচয় মিলেছে নির্মম খুনের শিকার তরুণীরও।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীর নাম সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজ। তিনি খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে করেছিলেন ওসমানীনগরের মোজাম্মেল মিয়া ওরফে মুজাম্মিলকে (২৪)। কিন্তু বিয়ের পর সেই স্বামীর হাতে খুন হন শাহনাজ। ‘পরকীয়ার কারণে’ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করেন মোজাম্মেল। পরে শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ কেটে ফেলেন।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বুধবার রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, মোজাম্মেলকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়। তিনি ১৬৪ ধারায় স্ত্রী শাহনাজ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

মোজাম্মেল মিয়া ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ কালারাই (গোয়ালাবাজার) গ্রামের মৃত জিলু মিয়ার ছেলে। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তি দেন তিনি। সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজের বাড়ি বরিশালে। তার এর বেশি পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া স্থানীয় মোহন নামের এক যুবকের সঙ্গে শাহনাজের ‘পরকীয়া’ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে চাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, গেল ২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার যুগিনীঘর হাওর থেকে মস্তকবিহীন ওই তরুণীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ৯ ডিসেম্বর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই তরুণীর ছিন্ন মস্তক উদ্ধার করা হয়। যে স্থান থেকে তরুণীর মস্তকহীন দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, এর মাত্র দুইশ গজ দূর থেকে ছিন্ন মস্তক উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছিলেন ওসমানীনগর থানার ওসি রাশেদ মোবারক।

বুধবার রাতে পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীর খণ্ডিত মাথা উদ্ধারের পর আগে উদ্ধারকৃত দেহের সঙ্গে মিল আছে কিনা, তা পরীক্ষার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রহস্য উদঘাটনে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. লুৎফুর রহমান ছিলেন।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে উপজেলার বুরুঙ্গা এলাকা থেকে মোজাম্মেল মিয়া ওরফে মুজাম্মিলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই তরুণীকে নিজের স্ত্রী সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজ হিসেবে শনাক্ত করেন মোজাম্মেল। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার লোমহর্ষক বিবরণ প্রদান করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মোজাম্মেল গেল ৫-৬ বছর ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। অন্যদিকে সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। এর ফলে তার পরিবার তাকে বের করে দেয়। পরে শাহনাজ ওসমানীনগরের নুরুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। নুরুল ইসলাম হলেন মোজাম্মেলের খালু। গেল কোরবানির ঈদে শাহনাজের সঙ্গে পরিচয় হয় মোজাম্মেলের।

শাহনাজের আচার-ব্যবহারে সন্তুষ্ট হয়ে মোজাম্মেলের মা ও আত্মীয়স্বজন শাহনাজকে মোজাম্মেলের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চান। মোজাম্মেলও রাজি হয়ে যান। বিয়ের পর তাদের সংসার শান্তিতেই চলছিল। কিন্তু কিছুদিন পর থেকে শাহনাজের আচরণে পরিবর্তন দেখতে পান মোজাম্মেল। বাড়িতে তার মা, ভাই ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে শাহনাজের কলহ দেখা দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শাহনাজকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে রেখে নিজের কাজ করতে থাকেন মোজাম্মেল। দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এরই মধ্যে শাহনাজের পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন মোজাম্মেল।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ নভেম্বর বেলা ১টার দিকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চন্ডীপুল থেকে গোয়ালাবাজার যান মোজাম্মেল ও শাহনাজ। সেখান থেকে ওসমানীনগরের উনিশ মাইল এলাকার আগে শাটকিলা নামক স্থানে অটোরিকশা থেকে নেমে পড়েন তারা। ধানী জমির মধ্য দিয়ে তারা উনিশ মাইলে মোজাম্মেলের বড় খালার বাড়িতে রওনা দেন। এর মধ্যে রাত হয়ে যায়।

মোজাম্মেল ও শাহনাজ হাওরের (বিল) মধ্য দিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে থাকেন। হাওর দিয়ে যাওয়ার পথে শাহনাজ দৈহিক মিলন করতে চাইলে মোজাম্মেল ধমক দেন। তখন শাহনাজ মোজাম্মেলকে গালিগালাজ করে বলেন, তিনি মোহন নামের এক যুবককে বিয়ে করবেন। শাহনাজ তাকে ‘আম্মা’ ডাকতে বলেন মোজাম্মেলকে। এতে ক্ষিপ্ত হন মোজাম্মেল।

পরে শাহনাজের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তার মরদেহ লুকানোর চিন্তা করেন মোজাম্মেল। তিনি শাহনাজের বোরকা, জামাকাপড় সব খুলে ফেলেন এবং তার হাতব্যাগ, মোবাইল সবকিছু একত্র করেন। এরপর নিজেও উলঙ্গ হয়ে হাওরের কাদাপানি গায়ে মেখে উনিশ মাইল বাজারে যান। সেখানে ওয়ার্কশপের দোকানের বাইরে পড়ে থাকা চিকন স্টিলের পাত ও সিমেন্টের দুটি প্লাস্টারের টুকরো তুলে নেন। প্লাস্টারের টুকরো দিয়ে স্টিলের পাত ঘষে ধারালো করতে থাকেন মোজাম্মেল।

পুলিশ সূত্র জানায়, মোজাম্মেল ফের হাওরে শাহনাজের কাছে ফিরে যান। স্টিলের পাতটিকে চাকুর মতো ব্যবহার করে তার গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর তার নাক, কান, স্তন কেটে ছুড়ে ফেলেন। এছাড়া স্টিলের পাত দিয়ে শাহনাজের উরু ও পেটে একাধিক কোপ দেন তিনি। এছাড়া তার ছিন্ন মাথা একটু দূরে কাদার মধ্যে চাপা দেন।

পরে সেখান থেকে সরে এসে পশ্চিম কালারাই গ্রামের দক্ষিণে নাটকিলা নদীতে ওই স্টিলের পাত ছুড়ে ফেলেন তিনি। এছাড়া শাহনাজের কাপড়চোপড়, মোবাইল সব পার্শ্বস্থ একটি ইটভাটার জ্বলন্ত চুল্লিতে ফেলে দেন বলে পুলিশকে জানান মোজাম্মেল।

সূত্র: জাগো নিউজ

আর/০৮:১৪/১৯ ডিসেম্বর

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে