Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ , ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৬-২০১১

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সংলাপ করবেন রাষ্ট্রপতি

জাহাঙ্গীর আলম


নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সংলাপ করবেন রাষ্ট্রপতি
নির্বাচন কমিশন নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। সব দলের মতামত নিয়েই রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চান। বঙ্গভবনের উচ্চপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই জানুয়ারি থেকেই নতুন কমিশনের নিয়োগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি সংলাপ শুরু করবেন বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়ে গেছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনসহ রোডমার্চের বিভিন্ন জনসভায় আলোচনার মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনেরও দাবি জানান।
অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ নিয়ে দলীয় মতামত তুলে ধরছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগও একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করার কথা বলছে। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। এ পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার থাকলেও তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সবার মতামত নিয়েই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চান। এ কারণেই বঙ্গভবন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির এ উদ্যোগকে ভালো পদক্ষেপ বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের সদস্যরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন-এর সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ  বলেন, ‘সংলাপ হওয়া ভালো। এ-জাতীয় উদ্যোগ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা স্পিকার—যিনিই নেন না কেন, তা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ভালো। তবে তা ফলপ্রসূ হবে কি না, জানি না।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে সংলাপ হলে ভালো হয়। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের এ সংলাপ বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আলাদাভাবে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই বৈঠক করবেন। নির্বাচন কমিশন নিয়োগে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কাছ থেকে তিনি মতামত জানবেন, সুপারিশ নেবেন। আলাদাভাবে দলগুলোর কাছ থেকে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য নামও চাইবেন।
কোন কোন রাজনৈতিক দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তার একটি মানদণ্ড ঠিক করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। বর্তমান জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো ছাড়া স্বাধীনতার পর যেসব রাজনৈতিক দলের জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল, সেসব দলকে সংলাপে আহ্বান করা হবে। তবে যুদ্ধাপরাধ ও দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে—এমন কোনো রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। ফলে বর্তমান জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্ব থাকলেও তাদের সংলাপে আহ্বান জানানো না-ও হতে পারে।
দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেন। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া এবং রাষ্ট্রপতি সময়ে সময়ে যেরূপ নির্দেশ করিবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।’
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে এ টি এম শামসুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার পদে ছহুল হোসাইন যোগ দেন। অপর নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন যোগ দেন একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সংবিধান অনুসারে এসব পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এ টি এম শামসুল হুদা ও ছহুল হোসাইন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি সাখাওয়াত হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে