Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৫-২০১৯

চীনা নাগরিক খুন : দুই সন্দেহে এগোচ্ছে পুলিশ

চীনা নাগরিক খুন : দুই সন্দেহে এগোচ্ছে পুলিশ

ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর - পাথর ব্যবসায়ী চীনা নাগরিক গাউজিয়ান হুই হত্যার চারদিন পেরিয়ে গেলেও এর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাউজিয়ান হত্যার নেপথ্যে সম্ভাব্য দুটি কারণ চিহ্নিত করে নিবিড় তদন্ত চলছে।

প্রথমত ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও অর্থ আত্মসাৎ। দ্বিতীয়ত ব্যবসায়ী হিসেবে গাউজিয়ানের কাছে নগদ অর্থ থাকা। এসব কারণেও তাকে খুন করা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চীনা নাগরিকরা সাধারণত উই চ্যাট ব্যবহার করেন। মোবাইলফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উই চ্যাটে সক্রিয় ছিলেন গাউজিয়ান। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত এতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। আর পরদিনই দুপুরে পুলিশ বনানী এ-ব্লকের ২৩ নম্বর সড়কের ২৮ নম্বর বাড়ির পেছনের খালি জায়গা থেকে মাটিচাপা দেয়া গাউজিয়ানের মরদেহ উদ্ধার করে।

বনানী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি ওই বাড়ির ছয়তলায় ভাড়া থাকতেন। গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়েছিল বলে ধারণা পুলিশের।

মরদেহ উদ্ধারের পর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ গাউজিয়ানের ওই ভবনের সিসি ক্যামেরাগুলো ছিল বন্ধ। হত্যাকারীরা পরিকল্পিতভাবে সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখেছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গাউজিয়ান পরিকল্পিত হত্যার শিকার। ধারণা করা হচ্ছে, খুনিরা তার পরিচিত এবং তার বাসায় যাতায়াত করত। কারণ খুনিরা বুঝতে পেরেছিল ওই ভবনের ১১ তলায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানো থাকলেও ছিল নিষ্ক্রিয় (সংযোগ ছিল না)।

গাউজিয়ান হত্যার ঘটনার তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সুনিবিড় তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গাউজিয়ান পদ্মা সেতু প্রকল্প ও পায়রাবন্দর নির্মাণকাজে পাথর সরবরাহ করতেন। তার এই ব্যবসায় বাংলাদেশ এবং চীন উভয় দেশের অংশীদার রয়েছে। এক বাংলাদেশি গাউজিয়ানের চার কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আবার অনেকের কাছ থেকে তার মোটা অঙ্কের অর্থ পাওনা ছিল। তাদের কেউ কেউ পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন। এই বিষয়গুলো মনে এনে কয়েকজনকে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অন্যদিকে চীনা নাগরিক গাউজিয়ান হুই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন না হলে তার মরদেহ গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে ঢাকার চীনা দূতাবাস। রোববার চীনা দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে এ কথা জানায়। চীনা দূতাবাস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবি উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দ্রুত তাদের নাগরিক হত্যার রহস্য উদঘাটন চায় তারা। সেই দাবি তারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বনানীর ২৩ নম্বর রোডের ৮২ নম্বর বাসার পাশ থেকে ৪৭ বছর বয়সী ওই চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত গাউজিয়ান বনানীর ওই বাসার ষষ্ঠতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। সেই ভবনের পাশেই মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। গাউজিয়ানের নাকে রক্ত এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বনানী থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

ওই ঘটনায় ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। নিহত চীনা ব্যবসায়ী গাউজিয়ান হুইর বন্ধু জাঙ শান-হং বুধবার রাতে বনানী থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। জাঙ শান-হং নিজেও একজন চীনা নাগরিক। তিনি ঢাকার উত্তরায় থাকেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৬ ডিসেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে