Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ , ১৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৫-২০১৯

ফেসবুকের কল্যাণে পায়ের রড খোলা হলো ৮০ বছরের বৃদ্ধের

ফেসবুকের কল্যাণে পায়ের রড খোলা হলো ৮০ বছরের বৃদ্ধের

নেত্রকোনা, ১৫ ডিসেম্বর- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি মানবিক পোস্ট দেখে অবশেষে ভাঙা পায়ে বয়ে বেড়ানো রড খোলা হলো অসহায় বৃদ্ধ কুদ্দুস আলীর (৮২)। এতদিন টাকার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পায়ে রড রয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

রোববার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করে রডগুলো খোলা হয়। কুদ্দুস আলী নেত্রকোনার শহরের ছোটগাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত সাত মাস আগে একটি দুর্ঘটনায় তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওইস্থানে রড লাগানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কুদ্দুস আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মে মাসের শেষ দিকে কুদ্দুস আলী নিজ বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন। এসময় একটি মোটরসাইকেল তাকে চাপা দেয়। এতে তার বাম পায়ের হাড় ভেঙে যায়। ঘটনার পর প্রথমে নেত্রকোনা ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করান দরিদ্র এ বৃদ্ধ।

ওই সময় ময়ময়নসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভাঙা পায়ের ভেতরে ও বাইরে রড ঢুকিয়ে দেন। দুই মাস পর রডগুলো খোলার কথা ছিল। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি তা খুলতে না পেরে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে এ নিয়ে একই উপজেলার দক্ষিণ বিশিউরা গ্রামের যুবক মাসুদুল করিম ও জেডএইচ বাবু ভূঁইয়া তাদের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটিতে সাড়া দিয়ে কয়েকজন কুদ্দুস আলীকে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ান। এ ছাড়া ওই পোস্টটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার নাসির উদ্দিন আহমেদের নজরে পড়লে তিনি কুদ্দুস আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

রোববার সকালে কুদ্দুস আলীকে বাড়ি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে ওই দিন বিকেলে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মতিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে কুদ্দুস আলীর পায়ের রডগুলো খোলা হয়েছে।

মাসুদুল করিম রোববার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে জানান, কুদ্দুস আলী একবারে হতদরিদ্র। তার একটি প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে। চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। বিষয়টি দেখে আমি ও আমার বন্ধু জেডএইচ বাবু ভূঁইয়া ফেসবুকে পোস্ট দিলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার নাসির উদ্দিন আহমেদের নজরে পড়ে। এরপর তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে রোববার সকালে তাকে বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে পায়ের রডগুলো খোলার ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া ওই পোস্টটি দেখে বেশ কয়েকজন তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মতিউর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি এখন সুস্থ আছেন। দীর্ঘদিন পায়ে রড থাকার কারণে পা সামান্য বেঁকে গেছে। চিকিৎসা করানো হলে তিনি সুস্থ হবেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি এখন সুস্থ আছেন। দীর্ঘদিন পায়ে রডগুলো থাকায় একটু সমস্যা হয়েছে। আশা করছি তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১৫ ডিসেম্বর

নেত্রকোনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে