Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৪-২০১৯

হাসপাতালে হামলা করে ইমরান খানের ভাতিজা ফেরারি

হাসপাতালে হামলা করে ইমরান খানের ভাতিজা ফেরারি

ইসলামাবাদ, ১৪ ডিসেম্বর - পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে অবস্থিত একটি হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আইনজীবীদের হামলার দায়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাতিজাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছেন কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত বুধবারের সহিংস ওই হামলা-ভাঙচুরে নিজে অংশ নিয়েছিলেন ইমরানের ভাতিজা।

এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১১ নভেম্বর বুধবার পাঞ্জাব ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলোজিতে (পিাইসি) ক্ষুব্ধ আইনজীবীদের কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডব আর ভাঙচুরে অন্তত তিনজন রোগীর মৃত্যু হয়। সেদিনের ওই হামলায় শত শত আইনজীবী অংশ নেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাহোর পুলিশ হাসান নিয়াজি নামে ইমরান খানের ভাতিজার বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু তিনি সম্ভবত অন্যত্র লুকিয়ে থাকায় তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৮০ জনের বেশি আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে ৪৬ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে বুধবার হাসপাতালটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় শত শত আইনজীবী। হাসপাতালের দরজা-জানালাসহ যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ছাড়াও গাড়িতে আগুন দেয়া তারা। কেউ কেউ গুলিও ছোড়া ছাড়াও পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছুড়ে মারেন। পরে দাঙ্গা পুলিশ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলা-ভাংচুরের ওই ঘটনায় অংশ নেয়া আইনজীবীদের মধ্যে ইমরান খানের ভাতিজা হাসান নিয়াজিকে দেখা যাচ্ছে, এমন বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজার এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে নিজেদের ক্ষোভ জানান অনেকে।

ঘটনা নিয়ে আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে সন্দেহভাজনদের তালিকায় হাসানের নাম না থাকায় শুরু হয় সমালোচনা। বিবিসি বলছে, হাসানের নাম না থাকা নিয়ে কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। অবশ্য লাহোর পুলিশ পরে জানায়, ভিডিও ফুটেজ দেখে হাসানকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক আইনজীবী অন্য রোগীদের লাইনে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হট্টগোল করলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে পেটানোর মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত। পরে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসকরা বিদ্রুপাত্মক একটি ভিডিও প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা প্রতিশোধ নিতে সম্মিলিতভাবে হাসপাতালে গিয়ে এ তাণ্ডব চালায়।

বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা প্রথমে হাসপাতালটির প্রবেশ পথের সব দরজা বন্ধ করে দেন। তারা হাসপাতালের সরঞ্জাম ও জানলাসহ সেখানে থাকা গাড়িতে ভাঙ্চুর চালান। জরুরি বিভাগের দরজা ভেঙে ফেলেন। ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সে সময় হাসপাতালের রোগী ও কর্মীরা জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন।

আইনজীবীদের হামলা-ভাঙচুরের কারণে হাসপাতালে অনেক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে পারেননি। চিকিৎসক ও নার্সরাও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে থাকা (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রোগীদের রেখে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি ব্যাপক সহিংস রুপ ধারণ করলে কাঁদানে ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে দাঙ্গা পুলিশ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাঞ্জাব রাজ্য সরকারের তথ্যমন্ত্রী ফয়জুল হাসান চৌহান বলেন, আইনজীবীরা তাকেও অপহরণের চেষ্টা করেছেন। একটি ভিডিওতে অবশ্য তার কথার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ একদল আইনজীবী তাকে টানাহেঁচড়া করছেন।

ঘটনার দিনই এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কার্যালয় তদন্ত শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাতিজা হাসান নিয়াজি সেদিন হাসপাতালের ওই হামলায় অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি এর অনুতপ্ত বলে জানান। এক টুইট বার্তায় তিনি এ কথা জানান।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৪ ডিসেম্বর

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে