Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৩ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৩-২০১৯

গতিহীন মুক্তিযুদ্ধের নয় প্রকল্প: পাঁচটির অগ্রগতি ১৫ শতাংশের নিচে

মিজান চৌধুরী ও হামিদ-উজ-জামান


গতিহীন মুক্তিযুদ্ধের নয় প্রকল্প: পাঁচটির অগ্রগতি ১৫ শতাংশের নিচে

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ঢিমেতালে চলছে মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর স্মরণে নেয়া সরকারের নয় প্রকল্পের কাজ। আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্পের পাঁচটির আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশের নিচে, যা সন্তোষজনক নয়।

বিলম্বে কাজ শুরু, অর্থ ব্যয় ও বরাদ্দে ধীরগতি, জমি নির্বাচনে জটিলতার কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। এরইমধ্যে তিনটির নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই সামান্য। তবে দুটি প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।

এগুলো হচ্ছে প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজ্জামেল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রকল্পের অনুকূলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এর ৯৫ শতাংশ ব্যয় করা হয়। চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দের ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আর্থিক ব্যয়ের অগ্রগতি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরকারের নেয়া ৯টি প্রকল্প নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব এসএম আরিফ উর রহমান। সেখানে জেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়। আর প্রত্যেক উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জমি শনাক্ত করতে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রকল্পগুলোর ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম আরিফ-উর-রহমান। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রধান জটিলতা দেখা দিয়েছে জমি নিয়ে। কেননা অনেক স্থানে ব্যক্তিমালিকাধীন জমি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পেলেও দাম অনেক বেশি। তবে এসব জটিলতা এখন কেটে যাচ্ছে। বাস্তবায়ন অগ্রগতি বাড়াতে তৎপরতা অব্যাহত আছে। আশা করছি আগামীতে গতি ত্বরান্বিত হবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সব জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের আর্থিক ব্যয়ের অগ্রগতি হয়েছে ৮৮ শতাংশ ও প্রত্যেক উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হচ্ছে ৬৪ শতাংশ।

এছাড়া শহীদ মিত্র বাহিনীর স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আর্থিক ব্যয়ের অগ্রগতি দশমিক ৩৩ শতাংশ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপত্য সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। পাশাপাশি যুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানে জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি হচ্ছে ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ, নতুন প্রজন্মদের চেতনা উদ্বুদ্ধকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ ও স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সমাধি সংরক্ষণ শূন্য শতাংশ।

প্রত্যেক জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স : ২০১০ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূলত অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নে ভবনগুলোর আয় ও সুবিধা ব্যবহার করাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান এটি শেষ পর্যায়ে আছে। গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ৫৯টি জেলায় কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ব্যয় করা হয় ১৩৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ। যদিও ২০১৭ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, নির্মাণ বাকি ৫টি কমপ্লেক্সের মধ্যে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। আর নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি ভোলা, নওগাঁ ও পার্বত্য চটগ্রামে। দ্রুত কাজ শেষ করতে প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রত্যেক উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স : এ প্রকল্পের আওতায় সদর ব্যতীত ৪৭০টি উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩৬৮ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ কাজ চলমান আছে আরও ১৬টি উপজেলায়। আর চারটি ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে।

এছাড়া ডিজাইন করা হয়েছে আটটি প্রকল্পের। তবে মামলাজনিত কারণে চারটি উপজেলায় ভবন নির্মাণ কাজ জটিলতায় আটকে আছে। প্রতিটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জমি প্রয়োজন।

এর মধ্যে ১৭টি উপজেলায় এখনও ভবন নির্মাণের জন্য জমি নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি। এটি পাওয়ার প্রক্রিয়া চলমান আছে। জমি নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, ২০১২ সালে এই প্রকল্প শুরু হওয়ার সময় ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালে। কিন্তু নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় এর ব্যয় ও সময় দু’টি বৃদ্ধি পায়। ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২২৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। গত জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় অর্থ ব্যয় হয় ৭৭৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৪ শতাংশ।

শহীদ মিত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ : মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় মিত্র বাহিনীর ১৬৬১ জন সৈনিক জীবন উৎসর্গ করেছে। তাদের এই উৎসর্গ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এটি চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা।

সূত্র জানায়, স্থান জটিলতার কারণে এটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। এ প্রকল্পে গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫৪ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে পরিকল্পনা কমিশনের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সাবেক প্রকল্প পরিচালক মমিনুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রথমত জমি পাওয়া যায়নি। কিন্তু এখন যে জমি পাওয়া যাচ্ছে তার এক শতকের দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০ লাখ টাকা। সে হিসাবে ৩ একর জায়গার দাম পড়ে ১০০ কোটি টাকার বেশি। মোট প্রকল্প ব্যয়ের চেয়ে জমির ব্যয়ই অনেক গুণ বেশি হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পুনঃনির্মাণ : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরে নতুন প্রজন্মসহ সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে জানাতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পুনঃনির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৪২টি স্মৃতি স্থাপনা সংরক্ষণ ও পুনঃনির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এর মধ্যে ২২০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংরক্ষণ ও পুনঃনির্মাণের কাজ চলমান আছে ৪০টির।

এছাড়া কাজ সম্পন্ন করতে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে আরও দশটির। দ্বৈততা ও স্থান জটিলতার কারণে ৭৬টি স্মৃতি স্থাপনা মেরামত সম্ভব হচ্ছে না। এই প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। ২০১৭ সালের জুনে নেয়া প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হচ্ছে ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ : এ প্রকল্পের আওতায় ৩৬০টি মুক্তিযুদ্ধের স্থান সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সর্বশেষ তথ্যমতে প্রকল্পের আর্থিক ব্যয়ের অগ্রগতি হচ্ছে ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। টাকার অঙ্কে ব্যয় হয়েছে ২৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭৯ কোটি টাকা। আগামী ২০২০ সালে প্রকল্পটি শেষ হবে।

জানা গেছে, স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য ১৮৮টি স্থানে জমি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৮টি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আর নির্মাণ কাজ চলমান আছে ১১৩টির। নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে ১১টি এবং নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে ২টির।

এছাড়া জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে না ৩৪টির ক্ষেত্রে। তবে জমি পাওয়ার প্রচেষ্টায় আছে ১৭২টি স্থানে। প্রকল্পটির পরিচালক আবদুল হাকিম এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রকল্পটি ২০১৭ সালে অনুমোদন পেলেও নানা জটিলতায় প্রকৃত কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে।

তাছাড়া জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। নানা দেনদরবারের পর একটি জায়গা পেলে সেখানেই কাজ করা হচ্ছে। এভাবেই এগিয়ে চলছে বাস্তবায়ন। তবে আশা করছি আগামী বছর থেকে কাজে গতি আসবে।

সোহরাওয়ার্দীতে স্বাধীনতা স্তম্ভ : ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ডাকের আহ্বান ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরের উজ্জ্বল দৃশ্যকে তুলে ধরা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। এছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য নানা আন্দোলন ও ঘটনা তুলে ধরা হবে।

পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের জন্য শিশু পার্কও থাকবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু জুন পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলে সেটি হয়নি। এক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।

সরেজমিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে শিশু পার্ক ছিল সেখানেই তৈরি হচ্ছে এ পর্বের মূল কাজ। দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ কার পার্কিংয়ের জন্য তৈরি করা গর্তে ঢালাই এবং পিলার তৈরি করে ফেলে রাখা হয়েছে। তাছাড়া যেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হবে সেখানে শুধু প্লাস চিহ্নিত পিলার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে কাজ বন্ধ।

তবে কী কারণে বন্ধ রয়েছে তা কেউ বলতে পারেনি। কিন্তু মসজিদ কমপ্লেক্সের কাজ করতে দেখা গেছে কয়েকজন শ্রমিককে। তারা ঢালাইয়ের কাজ করছেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. সানোয়ার আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩০ শতাংশ। পিডব্লিউডি অংশের কাজ শেষ হলেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন শিশু পার্ক তৈরির কাজ করবে। ইতিমধ্যেই শিশু পার্কের ভূ-গর্ভস্থ কার পার্কিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ঢালাই ও পিলার স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে জটিলতা কেটে গেছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণ : বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে এ প্রকল্প নেয়া হয়। এর ব্যয় ধরা হয় ৪৯ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের অনুকূলে টাকা ব্যয় করা হয় ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক প্রকল্প পরিচালক শিবপদ মণ্ডল এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে জনবল নিয়ে একটা জটিলতা ছিল। জনবল নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করতে অনেকটা সময় চলে গেছে। তবে এখন গতি বাড়বে। আমি গত মার্চ মাসে প্রকল্প থেকে বদলি হয়েছি। সর্বশেষ পরিস্থিতি বলতে পারছি না।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধি সংরক্ষণ : এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মারা গেছে সারা দেশে এমন ২০ হাজার যোদ্ধার সমাধি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয় ৪৬১ কোটি টাকা। তবে এ কার্যক্রম ধীরগতি চলছে। এ পর্যন্ত ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ প্রকল্পের কার্যক্রমের গতি আরও বাড়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গণহত্যায় ব্যবহৃত বধ্যভূমি সংরক্ষণ : এ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/১৪ ডিসেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে