Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১২-২০১৯

ময়মনসিংহে সাবেক স্বামীর ছোড়া এসিডে মা-ছেলে দগ্ধ

ময়মনসিংহে সাবেক স্বামীর ছোড়া এসিডে মা-ছেলে দগ্ধ

ময়মনসিংহ, ১৩ ডিসেম্বর - ময়মনসিংহ নগরীতে ডাক্তার দেখাতে এসে সাবেক স্বামীর ছোড়া এসিডে জ্বলসে গেছেন এক নারী ও তার চার বছর বয়সী শিশুপুত্র। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধরা হলেন- রুপালি আক্তার (২৫) ও তার ছেলে রোহান সরকার।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর সারদা ঘোষ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নামাপাড়া এলাকায়। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে সাবেক স্বামী হাফিজ উদ্দিনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর গ্রামের মোতালেব সরকারের ছেলে হাফিজ আহমেদের সঙ্গে একই উপজেলার নামাপাড়া এলাকার রুপালি আক্তারের বিয়ে হয় সাত বছর আগে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন হাফিজ। কয়েক দফা যৌতুকও দেয় রুপালির পরিবার। পরবর্তীতে আরও যৌতুক দাবি করলে পরিশোধ করতে না পারায় এক বছর আগে স্ত্রীকে তালাক দেন। এরই মধ্যে হাফিজ আহমেদ অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করেন। এ নিয়ে রুপালি আক্তার আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর) আদালত এক রায়ে হাফিজকে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা খোরপোশ (ভরণপোষণ) দেয়ার নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি রুপালিকেও তার পরিবার অন্যত্র বিয়ে দেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হন হাফিজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুপালি আক্তার ময়মনসিংহ নগরীর সারদা ঘোষ রোড এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গেলে আগে থেকেই ওতপেতে থাকা হাফিজ রুপালির শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেন। এসিডে রুপালির মুখমণ্ডলসহ শরীরের অনেকাংশ এবং শিশুপুত্র রোহানের শরীর ঝলসে যায়। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

দগ্ধ রুপালি আক্তারের বড় ভাই হুমায়ুন কবীর বলেন, রুপালি আমাদের একমাত্র ছোট বোন। ছেলেটি সরকারি চাকরি করে বলে বোনকে বিয়ে দিয়েছিলাম। বোনের সুখের কথা চিন্তা করে দুই লাখ টাকাও দিয়েছিলাম। তারপরও বোনকে অত্যাচার-নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তালাক দিয়েছে। দুই মাস আগে রুপালি আদালতে হাফিজের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। বুধবার আদালত এক রায়ে হাফিজকে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা খোরপোশ দেয়ার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাফিজ আমার বোন ও ভাগিনাকে মেরে ফেলার জন্য এসিড মারে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ আলম বলেন, আমার এলাকার কয়েকজনের সামনেই ঘটনাটি ঘটে। পরে তারা এসিড নিক্ষেপকারী হাফিজকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেই।

হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক তানভীন পারভেজ বলেন, এসিডে মা ও ছেলের মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে। ছেলের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হলেও মা এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।

ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমীন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা হাফিজকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আহত মা ও ছেলেকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৩ ডিসেম্বর

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে