Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১১-২০১৯

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কোন্দলে চিন্তিত কেন্দ্র

মুহম্মদ আকবর ও সানাউল হক সানী


আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কোন্দলে চিন্তিত কেন্দ্র

ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর- রাজনীতিতে এখন অনেকটাই প্রতিপক্ষহীন আওয়ামী লীগ। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটির বিপরীতে অগোছালো বিএনপি। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলায় তাই একক আধিপত্য সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের। আর এতেই ঘরের বিবাদে পড়েছে সংগঠনটি। আধিপত্য বিস্তার, দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলের চিত্র ভয়াবহ।

এতদিন দলটির নীতিনির্ধারকরা বিভিন্ন মাধ্যমে এসব কোন্দলের কিছু তথ্য পেলেও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কোন্দলের বিষয়টি উঠে এসেছে প্রকাশ্যে। অনেক স্থানে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই সংঘর্ষে জড়িয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। হতভম্ব কেন্দ্রীয় নেতারা এ সমস্যার কার্যকর সমাধানের উপায় খুঁজছেন।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ নভেম্বর। উৎসবমুখর এ সম্মেলনেও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দলের স্থানীয় বিবদমান দুই গ্রুপ। চলে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নিজ জেলায় তারই উপস্থিতিতে এমন সংঘর্ষে হতভম্ব হয়ে পড়েন উপস্থিত অন্য নেতারাও। এ সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদউল্লাহ খান সোহেলের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

গত শনিবার সম্মেলন মঞ্চে থাকা নেতাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়ান চট্টগ্রাম উত্তর জেলার দুই নেতার সমর্থকরা। মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমানের ও মিরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি গিয়াসউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

একই দিনে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সম্মেলন ডাকা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য ও সাত নেতাকর্মী আহত হন। এর পর সম্মেলনস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের এই তারিখ ঘোষণা করেন। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম মইনুল ইসলামের সমর্থক-নেতাকর্মীরাও একই দিন, একই স্থানে পৃথকভাবে সম্মেলন করার ঘোষণা দেন। এতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত দেড় থেকে ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। এর আগে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ টিয়ার শেল ও রবার বুলেট নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টাধাওয়াও হয়। এতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হন।

২৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাঠ দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় গত ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়। গত ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলা সম্মেলনেও দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন।

কেবল জেলা-উপজেলাই নয়, প্রভাব বিস্তারের লড়াই বিস্তৃত ইউনিয়ন পর্যন্ত। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। গত ২৫ নভেম্বর শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে বেশ কিছু জেলা-উপজেলা ও মহানগর সম্মেলন শেষ হয়েছে অনেকটা নির্ঝঞ্ঝাটভাবেই। খুলনা জেলা ও মহানগর, বরিশাল মহানগর, নড়াইল, বগুড়া ও বাগেরহাট জেলাসহ বেশ কিছু ইউনিটে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতাকর্মীরা ছিলেন উৎসবমুখর।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে থাকা আওয়ামী লীগ চাচ্ছে দেশের সব ইউনিটে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দলকে প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। তবে বিভিন্ন ইউনিটে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের অভাব ও আধিপত্য বিস্তারের এ লড়াই ভাবনায় ফেলে দিয়েছে নীতিনির্ধারকদের।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবেই। সংঘর্ষ নয়, কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, এবারের সম্মেলন উৎসবমুখর হয়েছে। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণার পর কোনো বিরোধিতা ছিল না। সবাই নতুন নেতাদের বরণ করে নিয়েছে। কিছু কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকেও আমরা সংশোধনের চেষ্টা করব।

আর/০৮:১৪/১২ ডিসেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে