Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১১-২০১৯

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন ১৩৫৯ মুক্তিযোদ্ধা

উবায়দুল্লাহ বাদল


রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন ১৩৫৯ মুক্তিযোদ্ধা

ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর- মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন প্রায় দেড় হাজার মুক্তিযোদ্ধা। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলেও এতদিন তাদের নামে কোনো গেজেট জারি বা সনদ ইস্যু করা হয়নি। ফলে তারা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের পর তাদের গেজেটভুক্ত করতে সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরপরই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া শুরু করবেন নতুন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারা।

অন্যদিকে মন্ত্রী পর্যায়ে শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৮৫ জন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ও সনদ বাতিলের সুপারিশ করেছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান।

জামুকার সুপারিশের ভিত্তিতে গেজেট ও সনদ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির পরই তাদের সরকারি সুযোগ-সুবিধাও বন্ধ হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও জামুকার চেয়ারম্যান আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জামুকার ৬৬তম সভায় এসব সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও জামুকার চেয়ারম্যান আ ক ম মোজাম্মেল হক বুধবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘জামুকার সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এরপরই তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জামুকা সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে ১ লাখ ২৩ হাজার ১৫৪ জন এবং সরাসরি ১০ হাজার ৯০০ জন আবেদন করেছিলেন জামুকায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সারা দেশে ৪৭০টি উপজেলা, জেলা, মহানগর কমিটি গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়। ৪৭০টি কমিটির মধ্যে ৩৮৫টি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও ৮৫টি কমিটি কাজ করতে পারেনি সদস্যদের দ্বন্দ্ব এবং কমিটি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায়।

প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে উপজেলা, জেলা কিংবা মহানগর কমিটি তিন ধরনের খসড়া তালিকা তৈরি করে। ‘ক’ তালিকা হচ্ছে যাচাই-বাছাই কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত তালিকা। ‘খ’ হচ্ছে কমিটির দ্বিধাবিভক্ত মতের ভিত্তিতে করা তালিকা।

‘গ’ হচ্ছে কমিটির নামঞ্জুর করা তালিকা। যাচাই-বাছাই কমিটিগুলোর ‘ক’ তালিকায় মোট ২৬ হাজার ৯৪২ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়। বাকি আবেদনগুলো নামঞ্জুর করা হয়।

সেখান থেকে ৩৫ হাজার ৫৯৯ ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হয়ে জামুকায় আপিল আবেদন করেন। আপিলকৃত আবেদন অধিকতর যাচাই-বাছাই করতে প্রতি বিভাগে একটি করে মোট ৮টি কমিটি গঠন করা হয়।

এসব কমিটির মধ্যে খুলনা ছাড়া বাকি ৭ কমিটির প্রতিবেদনে মোট ১ হাজার ৪৮৪ জনের বিষয়ে গেজেট জারির সুপারিশ করে ওইসব কমিটি।

জামুকার মঙ্গলবারের বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে এর মধ্য থেকে ১ হাজার ৩৫৯ জনের গেজেট জারির সিদ্ধান্ত হয়।

এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা এলাকা-১ এর (রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা মহানগর উত্তর) মোট ৩৩৪ জন, ঢাকা এলাকা-২ এর (নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল) মোট ১৮২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩২৪ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৯৮ জন, রংপুর বিভাগের ১০১ জন, ময়মনসিং বিভাগের ৫৫ জন এবং সিলেট বিভাগের ১৬৫ জন।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রতিবেদন পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি বৈঠকে।

বাতিল হচ্ছে ৮৫ জনের গেজেট
দেশের বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন’ বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জামুকায় লিখিত অভিযোগ আসে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে শুনানি গ্রহণ করেন জামুকার চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী স্বয়ং।

এতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৩৮ জনের গেজেট ও সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এদের অধিকাংশই ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গেজেটভুক্ত হয়েছেন। তবে কারও কারও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও গেজেট হয়েছে।

পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর নানা সময়ে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীতে যোগদানকৃত গেজেটভুক্তির বিষয়ে ৪৮ জনের বিষয়ে উপস্থাপন করা হলে এসব বাহিনী গেজেট বাতিলের সুপারিশ করে। এসব সুপারিশ অনুমোদন করেছে জামুকা।

গেজেট ও সনদ বাতিলের সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন- পাবনার মো. ইসরাইল (গেজেট নং-১২৪৭), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৯৪), মো. ইয়াকুব আলী (৪৫৬), মো. আক্তার আলী রাঙ্গা (২২৯৮), মো. আমিরুজ্জামান খান খোকা (৪৩২), মো. আবু তাহের (১৬৭১), মো. ফজলুর রহমান (২৩৭৩), মো. নওশের আলী (২০২৫), মো. আব্বাস মিয়া (২২৪৪), মো. আ. জলিল শেখ (২২৭৯), মো. আজিজুর রহমান (১০৩৯), মো. মজিবর রহমান (৬৯২) ও খন্দকার মকবুল হোসেন (সনদ-ম-১৬২০১৬)।

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলার ১২ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ও সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

তারা হলেন- আবুল কালাম (১৬২৮), আবদুর রহমান (৩৯৬), আলী হোসেন (৪০৪), শাহাব উদ্দিন (৪১১), মো. লিয়াকত আলী (৪৩০), মো. আলী (৩৮০), আবদুল বাতেন (৪২৮), ইছাক মিয়া (৬৫৩), নুর মোহাম্মদ মোল্লা (৯৩১), মো. গিয়াস উদ্দিন (১৫৩২), খন্দকার আবু জাফর (১৫২১) এবং মো. কামাল হোসেন (১৫৪৯)। এছাড়া চাঁদপুরের মো. শফিকুর রহমান বেপারী (৩০৬৭), সুলতান আহাম্মদ তপাদার (৩৯৫), মো. ইলিয়াস খান (৯০), ময়মনসিংহের নুর মোহাম্মদ মিয়া (৩১১৯), মরহুম ছোরহাব আলী (লাল মুক্তিবার্তা-১১৫১০০৩৩৪), দিনাজপুরের মো. লুৎফর রহমান (৩৯৪), রংপুরের শ্রী সুশীল চন্দ্র বর্মণ (১৩৯), কুমিল্লার সামছুল হক (৩১১৫), ঠাকুরগাঁওয়ের আবদুর রহমান (১৩২৭), নরসিংদীর মো. সিরাজুল ইসলাম (১৪৮৫), ফরিদপুরের সুনীল কুমার পাল (৩২২), নওগাঁর মো. আনিছুর রহমান (৯৩৬) এবং সাতক্ষীরার আ. মজিদ সানা (লাল মুক্তিবার্তা-০৪০৪০৫০২২০)।

এছাড়া সরকারের বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন সময়ে (১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল) এসব বাহিনীতে যোগদান করেছেন। তাদের মধ্য থেকে ৪৮ জনের বাহিনী গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তারা হলেন- বগুড়ার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী (আনসার গেজেট নং-১৪৪), নাটোরের মো. আজম উদ্দিন (সেনা গেজেট নং-১৪১), সরদার মো. আলতাফ হোসাইন (সেনা-১৩৯), ঠাকুরগাঁওয়ের মো. সামসুল হক (বিজিবি-৩৮৬৮), পাবনার মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (সেনা-২৪৯৩), নওগাঁর নুর মোহাম্মদ মণ্ডল (সেনা), ফরিদপুরের মো. আবদুল ওয়াদুদ মোল্লা (সেনা-১৬৩০৭), আবদুর রশিদ (সেনা-১৬৯১), আবদুর রশিদ শেখ (সেনা-১৬৯১), মো. মোতালেব মিয়া (সেনা-১৩৫৯), আবদুস সাত্তার শেখ (সেনা-১৩১০), ওলিউর রহমান (সেনা-৮৫৯) এবং মরহুম মো. রায়হান উদ্দিন (সেনা-৩৮০৪)।

তাদের পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলার রয়েছেন- মরহুম দোলোয়ার হোসেন (সেনা-৩০৮০), মরহুম নবুর আলী (সেনা-৬৮৭৫), মো. আবদুর রহমান (সেনা-১৬৫২০), গিয়াস উদ্দিন (সেনা-১৮৭৩), মো. রিয়াজ উদ্দিন (সেনা-৪৫৪২) রজব আলী আহমেদ (সেনা-৯৯৯), মো. আবদুর রশিদ (সেনা-১২৬২৬), মো. সিরাজ সিকদার (সেনা-৬৬৭০), মো. আজিজুল হক (সেনা-৬৩৯৮), ফজলুল হক (সেনা-৬৫৮৭), মো. সোহরাব হোসেন (সেনা-৬৮৩৪), মো. হাসেম আলী (সেনা-৬৯০৯) এবং শফিকুল ইসলাম খান (বিজিবি-১১০)। এছাড়া নরসিংদী জেলার মো. আজিম উদ্দিন (সেনা-১৭০৬) ও মরহুম মো. শওকত আলী (সেনা-৩৫৭৯), আজিম উদ্দিন (বিজিবি-১৭০৬), হাবিবুর রহমান (বিজিবি-৭১৭০), মাদারীপুরের মরহুম মো. লুৎফর রহমান (সেনা-৯৪), মরহুম আবদুল লতিফ (সেনা-১৪৩২৩), আ. রহিম খান (বিজিবি-৫৮১৬) ও মো. সিরাজুল ইসলাম (বিজিবি-৭০০১), মানিকগঞ্জের শামছুদ্দিন (সেনা-১৯৬১), গোপালগঞ্জের বজলুর রশিদ মোল্লা (সেনা-১৬৫২০), মো. মাহবুবুর রশীদ (বিজিবি-৭০৮৬), ঢাকার মো. এশার উদ্দিন (বিজিবি-৩০২), মৃত এএইচএম শাহ আলম (নৌবাহিনী), খুলনার মো. ওয়াজেদ আলী (সেনা-১০৯৮০), বাগেরহাটের মোসলেম উদ্দিন (বিজিবি-৭০৬৬), চট্টগ্রামের মো. শফিকুর রহমান (আনসার-১৬০), বরিশালের আলী হোসেন খলিফা (সেনা-৫০৩৭) ও এমএ খালেক (সেনা-১৬২০০), ঝালকাঠির মো. আবদুল হালিম (সেনা-১৬৩৩) এবং লক্ষ্মীপুরের ল্যান্স কর্পোরাল মো. আবুল কালাম (সেনা-১৬৯৯)।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মূলত রাজনৈতিক কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। সরকার বদলের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার তালিকার পরিবর্তন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। আর এ কারণেই দিন দিন বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা।

তবে তালিকা চূড়ান্ত না হলেও এ মুহূর্তে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ৩৮৫। এর মধ্যে ভাতা পাচ্ছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৩ জন। তাদের প্রত্যেককে প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেয়া হয়।

এর বাইরে বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারকে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা, বীরউত্তমদের মাসিক ২৫ হাজার টাকা, বীরবিক্রমদের ২০ হাজার টাকা, বীরপ্রতীকদের মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা এবং শহীদ পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা ভাতা দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা হারে মহান বিজয় দিবস ভাতা এবং সব মুক্তিযোদ্ধার অনুকূলে মূল ভাতার ২০ ভাগ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা দেয়া হচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/১২ ডিসেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে