Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৩ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৯-২০১৯

ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করেছে কংগ্রেস : অমিত শাহ

ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করেছে কংগ্রেস : অমিত শাহ

নয়াদিল্লী, ০৯ ডিসেম্বর - নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে বিজেপি সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করেছে কংগ্রেস। বিদেশে অত্যাচারিত হচ্ছেন হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষ। ভারতে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তা পেলেও পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়নি। তাই এই বিল আনতে হয়েছে।’

বিরোধীদের প্রতিবাদের জবাব দিতে গিয়ে সোমবার ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় অমিত শাহ এসব কথা বলেন। সোমবার বিরোধী দলগুলোর তীব্র আপত্তি ও উত্তর-পূর্বা ভারতে ব্যাপক প্রতিবাদ সত্ত্বেও দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল উত্থাপনের পক্ষে প্রস্তাব পাস হয়েছে।

বিল উত্থাপনের আগে বিরোধীরা সংবিধানের ৫ ও ১৪ ধারার কথা তোলেন। অমিত শাহ এ নিয়ে সংসদে বলেন, ‘ওই দুই ধারা কোনোভাবেই ভঙ্গ হচ্ছে না। নতুন আইন তৈরিতে কোনো বাধা নেই ওই দুই ধারায়। এর আগেও বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দুদের এ দেশে আশ্রয় দিয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী। উগান্ডার মানুষদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে।’

বিজেপি প্রধান ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের অন্যতম কারিগর অমিত শাহ আরও বলেন, ‘তখন যদি হতো তাহলে এখন কেন নয়। পৃথিবীর অনেক দেশের আইন নিয়ে আলোচনা করা যাতে পারে। সংবিধানের ১৪ ধারায় যেখানে সবার জন্য আইনের সমতার কথা বলা হয়েছে তা লঙ্ঘন হবে না।’

অমিত শাহের ওই বক্তব্যের পর বিলটি লোকসভায় উত্থাপিত হবে কি না তা নিয়ে ভোটাভুটি হয়। লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করা হবে কিনা এমন প্রস্তাব করা হলে এর পক্ষে ২৯৬ এবং বিপক্ষে ৮২ জন ভোট দেন। ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা ৫৪৩ আসনবিশিষ্ট।

কংগ্রেসের পক্ষে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও কেরালার সাংসদ শশী থারুর বলেন, ‘যারা বিশ্বাস করতেন ধর্মই হবে দেশ গঠনের ভিত্তি তারা পাকিস্তান তৈরি করেছেন। এই বিল ধর্মীয় বিভেদই তৈরি করবে। তবে বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতা ও হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।’

অমিত শাহ বক্তব্য দেয়ার সময়ই বিলের বিরোধিতা করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দল হইচই শুরু করে দেন। এসময় অমিত শাহ বলেন, বিলে কী আছে তা পরে আলোচনা হবে। আগে বিল পেশ হোক। এনিয়ে বিতর্ক ও আলোচনার জন্য সময় দেয়া হবে। তখন সব প্রশ্নে উত্তর দেয়া হবে।

বিতর্কিত এ বিলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সংসদ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, দেশের সংখ্য়ালঘুদের ‘টার্গেট’ করে তৈরি করা হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় কথা বলতে উঠে দাঁড়ালে তাকে প্রবলভাবে বাধা দেন সরকার পক্ষের সাংসদরা।

বিরক্ত সৌগত রায় সরকারদলীয় সাংসদদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এরকম করছেন কেন। আমাকে মারবেন নাকি। বিলে কী আছে না আছে তা পরের বিষয়। নীতিগতভাবে এ বিলের বিরোধিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে এ বিলের মাধ্যমে।

বিলের বিরোধিতা করে বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল-ভারতের (আরএসপি) সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রন বলেন, ‘সংবিধানের মূল কাঠামোকে আঘাত করছে এই বিল। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে নাগরিকত্ব দেয়া দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর আঘাত।

বিলের বিরোধিতা করে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগও। অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েসি বলেন, ‘সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। এ বিলের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এ বিলের মাধ্যমে হিটলার আর অমিত শাহ’র নাম একই সঙ্গে উচ্চারিত হবে।’

দ্য সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল (সিএবি) নামে ওই বিলের মাধ্যমে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন করা হবে। ছয় দশকের পুরোনো নাগরিকত্ব বিষয়ক আইনের সংশোধন করে প্রস্তাবিত বিলটি লোকসভায় পেশ করলে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসেসহ অন্য বিরোধীরা তাদের আপত্তির কথা জানান।

তবে লোকসভায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি পাস করতে কোনো বেগ পেতে হবে না মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকারকে। নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হওয়ায় বিলটি এখন ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় উঠবে। সেখানে পাস হলে তা আইনে পরিণত হবে।

বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে অমুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হবে। তবে বিতর্কিত এই নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আসাম ও ত্রিপুরায় আন্দোলন চলছে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০৯ ডিসেম্বর

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে