Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০২-২০১৩

ফোরজি: বাংলাদেশে ফ্রি হলেও তাইওয়ান বিক্রি করলো ৪ বিলিয়নে


	ফোরজি: বাংলাদেশে ফ্রি হলেও তাইওয়ান বিক্রি করলো ৪ বিলিয়নে
তাইপেই, ২ নভেম্বর- বাংলাদেশের অপারেটরদের ফোরজি লাইসেন্স বিনামূল্যে দেয়া হলেও তাইওয়ান ১১ হাজার ৮৬৫ কোটি নিউ তাইওয়ানিজ ডলার বা ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ২৭০ মেগাহার্টজ এলটিই তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছে। গত বুধবার ৪০ দিনব্যাপী এ ফোরজি নিলাম সম্পন্ন হয়। এ নিলামে ৬টি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি অংশ নেয়।
 
অথচ বাংলাদেশে বাংলাদেশে গত ৮ সেপ্টেম্বর থ্রিজি নিলামে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদেরকে বিনাশর্তে এবং বিনামূল্যে ফোরজি সেবা দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকম নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।
 
এমনকি থ্রিজি তরঙ্গ অনেকটা পানির দরে বিক্রি করা হয়েছে। দেশে থ্রিজির প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম উঠেছে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা থেকে সরকারের মোট আয় হচ্ছে ৪ হাজার ৮১ কোটি টাকা।
 
ওই দরে ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন থ্রিজি লাইসেন্স নিয়েছে ২১ কোটি ডলারে।
 
থ্রিজি নীতিমালা অনুসারে অপারেটররা ১৫ বছরের জন্য এই লাইসেন্স পেয়েছে। তবে কেউ আগ্রহী না হওয়ায় বিটিআরসির হাতে থাকা ১৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ অবিক্রিতই থেকে গেছে।
 
সব মিলে বাংলাদেশে থ্রিজি ও ফোরজির তরঙ্গ বিক্রি করে অর্থনৈতিক সুবিধা করতে পারেনি।
 
এদিকে তাইওয়ানে টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলো থ্রিজির পর বুধবার থেকে ফোরজি সেবা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
 
এ উদ্দেশ্যে কোম্পানিগুলো দেশটির কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ খাত থেকে মোট ২৭০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনে নিয়েছে।
 
দেশটি ৩ ধরনের ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ বিক্রি করেছে। ৭০০, ৯০০ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য দেশটির ন্যাশনাল কমিউনিকেশন কমিশন (এনসিসি) ঠিক করে দিয়েছিল ৩ হাজার ৫৯০ কোটি নিউ তাইওয়ানিজ ডলার।
 
তবে এ ভিত্তিমূল্যের চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি মূল্যে এ তরঙ্গ বিক্রি হবে বলে আগে থেকেই ধারণা করেছিলেন বিশ্লেষকরা।
 
এদিকে চুংহুয়া টেলিকমের পরের অবস্থানেই রয়েছে যথাক্রমে ফার ইসটোন ও তাইওয়ান মোবাইল। এ কোম্পানি দুটি ৭০০ মেগা হার্টজ ও ১৮০০ মেগা হার্টজের তরঙ্গ কিনেছে।
 
ফার ইসটোন তরঙ্গ কিনতে ব্যয় করেছে ৩ হাজার ১০০ কোটি নিউ তাইওয়ানিজ ডলার। এদিকে তাইওয়ান মোবাইল ব্যয় করেছে ২ হাজার ৯০০ নিউ তাইওয়ানিজ ডলার।
 
বিশ্লেষকদের মতে তরঙ্গ কেনায় এ শীর্ষ ৩ কোম্পানিই দেশটির ফোরজি সেবার বাজার অনেকাংশে দখল করে থাকবে।
 
তবে অন্য তিনটি কোম্পানিও এ প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
 
এর মাধ্যমে দেশটির কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের ফোরজি সেবা প্রদান শুরু করবে বলে জানায় এনসিসি।
 
নিলামে ১৮০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ বিক্রি হয় ৭ হাজার ৮৭৮ কোটি ৫০ লাখ নিউ তাইওয়ানিজ ডলারে; যেখানে ৭০০ মেগাহার্টজের তরঙ্গ বিক্রি হয় ৩ হাজার ৫২০ কোটি ও ৯০০ মেগাহার্টজের ৯৩৪ কোটি ৫০ লাখ নিউ তাইওয়ানিজ ডলারে।
 
৬টি কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরঙ্গ কিনেছে চুংহুয়া টেলিকম। কোম্পানিটি ৩ হাজার ৯১০ নিউ তাইওয়ানিজ ডলারের বিনিময়ে ৯০০ মেগাহার্টজ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ কিনেছে।
 
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের টেলিকম অপারেটরদের কাস্টমার প্রতি মাসিক আয় ভারতের তুলনায় দেড়গুণ এবং টেলিডেনসিটি ভারতের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম (অর্থাৎ ভবিষ্যত বিকাশের সুযোগ বাংলাদেশে বেশি) হওয়া স্বত্ত্বেও থ্রিজি তরঙ্গ নিলামের বেলায় ভারতের এক তৃতীয়াংশ ভিত্তি মূল্য ধরে বাংলাদেশে থ্রিজি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
এছাড়া ফোরজি লাইসেন্স বিনামূল্যে দেয়ার মতো বিরল ঘটনা তো রয়েছেই!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে