Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৮-২০১৯

লংকাবাংলা-ইবিএলের চাপে শেয়ারবাজারে ধস

সাঈদ শিপন


লংকাবাংলা-ইবিএলের চাপে শেয়ারবাজারে ধস

ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর- লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ এবং ইবিএল সিকিউরিটিজসহ ছয়টি ব্রোকারেজ হাউজের অব্যাহত শেয়ার বিক্রির চাপে রোববার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দফায় দফায় বিক্রির চাপ আসায় এদিন লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা পার না হতেই সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বাজারে পতনের প্রবণতা।

ফলে দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৫ পয়েন্ট কমে যায়। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমে ২২৩ পয়েন্ট।

মূল্য সূচকের বড় পতনের সঙ্গে দুই বাজারেই লেনদেনে অংশ নেয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৫৩টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৭৩টির। আর সিএসইতে ৩৭টির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১৮৬টির।

এদিন শেয়ারবাজারের এই ধসে পড়ার পেছনে ছয়টি ব্রোকারেজ হাউজের বিক্রির চাপ বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বিক্রির চাপ এসেছে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড থেকে। ব্রোকারেজ হাউজটি থেকে ১৯ কোটি ৮০ লাখ ৬৮ হাজার টাকার বিক্রি করা হয়েছে। বিপরীতে কেনা হয়েছে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ থেকে ক্রয়ের চেয়ে বিক্রি বেশি করা হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

টাকার অঙ্কে ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি হওয়ার দিক থেকে লংকাবাংলার পরই রয়েছে ইবিএল সিকিউরিটিজ। এই ব্রোকারেজ হাউজটি থেকে ক্রয়ের চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছে ৪ কোটি ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। হাউজটি থেকে ১৩ কোটি ৯৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বিক্রির বিপরীতে ক্রয় করা হয়েছে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড থেকেও এদিন অত্যধিক বিক্রির চাপ ছিল। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ১৪ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট বিক্রি করা হয়েছে। বিপরীতে কেনা হয়েছে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি হওয়া অন্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মধ্যে এমটিবি সিকিউরিটিজ থেকে এদিন ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট বিক্রি করা হয়েছে। বিপরীতে কেনা হয়েছে ৫ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ হিসাবে ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি হয়েছে ২ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বিডিএস থেকে ৭ কোটি ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট বিক্রির বিপরীতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকার কেনা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির কেনার থেকে বিক্রি বেশি ২ কোটি ৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

ক্রয় থেকে বিক্রি বেশি করা আরেক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ থেকে ৮ কেটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা বিক্রির বিপরীতে কেনা হয়েছে ৭ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিক্রি বেশি হয়েছে ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ছায়েদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, কাস্টমার (গ্রাহক) বিক্রি করলে আমি তো না করতে পারব না। আমার ডিলার হিসাব থেকে বিক্রি হয়েছে কিনা এটা দেখেন।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে দরপতনের আমি দৃশ্যমান কোনো কারণ দেখি না। বাজারে বিক্রির চাপ ছিল বলেও আমি মনেকরি না। লেনদেন হয়েছে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা। এখানে বিক্রির চাপ কোথায় দেখলেন?

তিনি আরও বলেন, এই বাজারে বিক্রি করে কেন লোকসান করবে, আমি তার কোনো কারণ দেখি না। এই বাজারে কেউ নিশ্চয় প্রফিটেবল (লাভজনক) অবস্থায় নেই। আমার মনে হয় এটি বিনিয়োগকারীদের সাইকোলজিক্যাল (মনস্তাত্বিক) সমস্যা। সাড়ে তিনশ কোটি টাকার লেনদেনে সূচক ৭৫ পয়েন্ট পড়ে যাওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত বলা যায় না।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/০৮ ডিসেম্বর

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে