Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৬-২০১৯

অ্যাম্বুলেন্সে যত ফাঁকি

তাওহীদুল ইসলাম


অ্যাম্বুলেন্সে যত ফাঁকি

ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর - রোগী ও লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলছে নানা কারসাজি। কর ফাঁকি দিতে এসব গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে আমদানি করা হয়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা হয় মাইক্রোবাস হিসেবে। বিআরটিএর একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এ কাজ চলে। এটি বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম ও মোংলা কাস্টম হাউসের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বিআরটিএ অফিসে। আমদানিকারক ও গাড়ির ইঞ্জিন চেসিস নম্বরের তালিকাসহ পাঠানো এসব চিঠিতে বলা হয়, ‘আমদানিকারকের আমদানি করা এবং কাস্টম হাউস থেকে ছাড় করা গাড়িকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে নিবন্ধন দিতে হবে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু আমদানিকারক অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে আমদানি করে মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধন করছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স দেখিয়ে আমদানির পর মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধন করে যাত্রী পরিবহন করা হয়।

এদিকে এর উল্টোচিত্রও আছে। যেসব মাইক্রোবাসের যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা কমে গেছে; বয়স পার হয়ে গেছে ১০-১৫ বছর, সেগুলোর বডি পরিবর্তন করে অ্যাম্বুলেন্স বানানো হচ্ছে। পুরনো এবং ফিটনেসবিহীন এসব গাড়িতে রোগীর জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রোগী সেবার মতো সংবেদনশীল কাজকেও ভয়াবহ

হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে একটি চক্র। মুমূর্ষু রোগী অথবা লাশ বিবেচনায় সচরাচর এসব গাড়ি চলতি পথে থামানো হয় না। সে সুযোগে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেও প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ায় এ বাহন। অথচ উন্নতমানের গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশে তার বিপরীত চিত্র। পুরনো নিয়মের কারণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ। তা ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে গাড়ির বৈশিষ্ট্য কী হওয়া উচিত, তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই সড়ক পরিবহন আইনেও।

অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর স্থায়ী শয্যা, অক্সিজেন সিলিন্ডার-মাস্ক, চিকিৎসক বসার ব্যবস্থা, স্ট্রেচার ও সাইরেন থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অনেকেই আইন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবা নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। আবার বেশিরভাগ অ্যাম্বুলেন্সই আসলে অ্যাম্বুলেন্স নয়। মাইক্রোবাস কেটে অ্যাম্বুলেন্স বানানো হয়েছে। মাইক্রোবাসের পাশাপাশি প্রাইভেট কার ও পিকআপ থেকে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে ব্যক্তিমালিকানায় ব্যবহার করা হচ্ছে। রোগী ও লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় অবৈধ কাজে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান এ বিষয়ে বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের রেজিস্ট্রেশন ও আকার পরিবর্তন সবই খতিয়ে দেখা হয়। সংস্থার পরিচালক (ইঞ্জি.) লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের নিবন্ধনের আলাদা সিরিয়াল নম্বর আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহজেই ব্যবস্থা নিতে পারবে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে নিবন্ধিত অ্যাম্বুলেন্সের সিরিয়াল হচ্ছে ঢাকা মেট্রো-ছ। কিন্তু পিকআপ ও প্রাইভেট কার অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে দেখা যায়। এটি বোঝার সহজ উপায় হচ্ছে সিরিয়াল যাচাই করা। তবু ঢাকা মেট্রো-ঠ এবং ঢাকা মেট্রো-গ সিরিয়ালের গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে দেখা গেছে। দুটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ ১৪-৯২৮৭। ‘গ’ সিরিয়ালের এই প্রাইভেট কার হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার কথা। কিন্তু গাড়িটি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তেমনি ঢাকা মেট্রো ঠ ১১-২২৭৮। এ গাড়িটি পিকআপ হিসেবে নিবন্ধনের কথা। কিন্তু এটিও পণ্যের পরিবর্তে রোগী ও লাশ বহনের কাজে নিয়োজিত। এ রকম অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মাস্ক নেই। রোগী শোয়ার মতো একটি ট্রলি বসানো আছে। সেটিতে যাত্রী টানার আসন রয়েছে। এটি কী করে সম্ভব, তার উত্তর জানা নেই কারও কাছে। ঢাকার বাইরে চলাচলরত অ্যাম্বুলেন্সের হাল আরও করুণ। মুমূর্ষু অ্যাম্বুলেন্সে চলে মুমূর্ষু রোগী বহন।

বিআরটিএর একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ নিয়ে জানিয়েছেন, অভিযানে চলতি পথে এসব গাড়ি আটকাতে চাইলেও মানবিক কারণে সম্ভব হয় না। দেখা যায়, গুরুতর রোগী কিংবা মৃতদেহ আছে সেখানে। মাইক্রোবাসের নিবন্ধনে অ্যাম্বুলেন্স করা অপরাধ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাইক্রোবাসটির লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তির নামেও অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে গাড়ি নিবন্ধনের সুযোগ আছে। এ জন্য নীতিমালা নেই।

বর্তমানে সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। সেখানে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপারে বিস্তারিত থাকা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বিধি বা নীতিমালার অভাবেই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সরকারদলীয় কিছু নেতার সহযোগিতায় সরকারি হাসপাতালে এসব বেসরকারি লক্কড়ঝক্কড় মার্কা গাড়ির মাধ্যমেই রোগী ও লাশ বহন করতে হয়। আমদানিকারকের তালিকা অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে নিবন্ধন হলেও সুযোগ অনেকটা কমে যাবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পাঠানো চিঠিতে আমদানিকারক ফারিহা এন্টারপ্রাইজ টয়োটা হায়াস মডেলের মাইক্রোবাস আমদানি করেছেন অ্যাম্বুলেন্স দেখিয়ে। এ রকম জুমাইরা অটোমোবাইলস, মিরাজ কারস, ট্রাস্ট অটো কারসের মাধ্যমে আমদানি করা বেশকিছু গাড়ির তালিকা পাঠানো হয়। এ ছাড়াও মোংলা কাস্টম হাউসের মাধ্যমে আমদানি করা এলান করপোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে আমদানি করা অ্যাম্বুলেন্সের তালিকাও দেওয়া হয়। এ চিঠিতে বলা হয়, গাড়িটি (বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৭৪২২, ২৮.৪.১৯) অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে খালাস করা এবং শুল্কায়িত। তাই দ্য কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯-এর সেকশন ৮৩ (এ) অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স ঘোষণায় আমদানিকালে সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টম থেকে পাঠানো কয়েকটি বিল অব এন্ট্রি নম্বর হচ্ছে, ১.সি-১৫২৫৩৭৭, ২৯.৯.১৯, ২.সি-১৫১১৬৮৩, সি-১৫১১৬৯৩ ২৬.৯.১৯, ৩.সি-১৪৯৮০৬৮, ১৪৯৮০৭০, ১৪৯৮০৭২, ১৪৯৮১২২, ১৪৯৮১২৫ ২৩.৯.১৯, ৪.সি-১৫৭৪২১২, ১৫৭৫৫০৭, ১৫৭৫৯১৩, ১৫৭৬২৮২, ১৫৭৬৫৭৯, ১৫৭৬৮০৫, ১৫৭৬৯২৫ ১০.১০.১৯।

অ্যাম্বুলেন্স আসলে কতটি : বিআরটিএর হিসেবে নিবন্ধিত অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা মাত্র ৬ হাজার ১৮৪টি। এ ছাড়া মাইক্রোবাস রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৮টি এবং পিকআপ গাড়ি ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৮টি। আছে আরও ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৮টি প্রাইভেট কার। এর মধ্যে পুরনো মাইক্রোবাস ও পিকআপ কেটে অ্যাম্বুলেন্স বানানো হয়, যার বেশিরভাগই ফিটনেসবিহীন। ১০ বছরেও নবায়ন করেনি, এর অনেকগুলোই দুর্ঘটনার গুরুতর ঝুঁঁকি নিয়ে রাস্তায় আছে।

সুত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ০৭ ডিসেম্বর

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে