Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৬-২০১৯

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে বৃক্ষরোপণের নামে দুর্নীতির মহোৎসব!

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে বৃক্ষরোপণের নামে দুর্নীতির মহোৎসব!

ফরিদপুর, ০৬ ডিসেম্বর- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে এবার বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০ লাখ ২ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে নামমাত্র কিছু ফল ও ফুলের গাছ লাগিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এ নিয়ে শহরজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে ২০১৮ সালের প্রথম দিকে বৃক্ষরোপণে ২০ লাখ ২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বৃক্ষরোপণ প্রকল্পটি গণপূর্ত বিভাগের আরবরিকালচার ঢাকার তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। নামমাত্র কাজ শেষে সিকিউরিটি মানি রেখে ঠিকাদারকে ১৭ লাখ ২ হাজার ৩১৯ টাকার বিল দেয়া হয় ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে।

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে বৃক্ষরোপণে ২০ লাখ ২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। আরবরি কালচার ঢাকার তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রকল্পের মধ্যে ছিল গাছ লাগানোর উপযোগী মাটি সরবরাহ, সার সংগ্রহ ও রোপণ স্থানে প্রয়োগ, গাছের চারা ক্রয়, ঘাস কাটার মেশিনসহ যন্ত্রাংশ ক্রয়।

সরেজমিনে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, কিছু ফুল ও ফলের গাছ লাগানো রয়েছে। এছাড়া দেড় শতাধিক কদম, কৃষ্ণচূড়া, নারকেলসহ বিভিন্ন ফলের চারা লাগানো হয়েছে। প্রকল্পে কিছু যন্ত্রাংশ কেনার কথা থাকলেও তা দেখা যায়নি। নামমাত্র কিছু গাছের চারা লাগিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, যদি ৩০০টি গাছের চারা লাগানো হয় তাতে প্রতিটি গাছের রোপণ খরচ ৫ হাজার ৬৭৩ টাকা। যা অবিশ্বাস্য, এমন দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল বলেন, আমি রাজবাড়ীতে কর্মরত, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি ফরিদপুরের।

আমার জানা মতে, বৃক্ষরোপণ প্রকল্পটি গণপূর্ত বিভাগের আরবরিকালচার ঢাকার তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজটি ঢাকা অফিসের কর্মকর্তারা দেখভাল করছেন। ফরিদপুর অফিস এ কাজের বিষয়টি দেখভাল করেনি। শুধুমাত্র ফরিদপুর থেকে কাজের বিল দেয়া হয়েছে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এস এম খবিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নির্মাণ কাজের প্রকল্প পরিচালক যিনি ছিলেন বিষয়টি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। গাছের চারা লাগানোর কাজটি গণপূর্ত বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্প পরিচালক কাজটি বুঝে নিয়েছেন। তারাই ভালো বলতে পারবেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা সাংবাদিকদের বলেন, আমি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১৮ সালের এপ্রিলে যোগ দিই। গাছের চারা লাগানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ওই প্রকল্পের পরিচালক আমি ছিলাম না। ওই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

গাছের চারা লাগানো প্রকল্পটির পরিচালক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/০৬ ডিসেম্বর

ফরিদপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে