Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ , ৬ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৬-২০১৯

‘রুম্পা হত্যার শিকার’ এমন সন্দেহে তদন্তে পুলিশ

‘রুম্পা হত্যার শিকার’ এমন সন্দেহে তদন্তে পুলিশ

ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর- রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান হতে উদ্ধার করা হয় স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মরদেহ। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করলেও এখন পর্যন্ত খোদ পুলিশই নিশ্চিত হতে পারেনি, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

তবে রুম্পা হত্যার শিকার হয়েছেন, এমনটা ধরে নিয়েই মামলা দায়েরের পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ। যদিও ওই ঘটনায় কে বা কারা জড়িত সে বিষয়ে পরিবার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হতে পারেনি।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ছোট চিকন গলিতে পাশাপাশি অনেকগুলো বহুতল ভবন। শেষ মাথায় আরেকটি সুউচ্চ ভবনের পেছন অংশে শেষ হয়েছে গলিপথ। গলির শেষ মাথায় হাতের ডানে ৬৪/৪ ভবনের নিচেই মুখ পার্শ্বে পড়ে ছিল নিথর রুম্পা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৬৪/৪ নং বাসার নিচতলায় ব্যাচেলররা থাকেন। ওই রাতে নিচতলায় থাকা সাতজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছয়জন। রুম্পা উপর থেকে নিচে পড়ার শব্দ শুনে ছুটে এসেছিলেন সবাই। তাদেরই একজন পলাশ দেবনাথ।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘রাত আনুমানিক ১১টা ৪২ মিনিট। হঠাৎ সজোরে ধুপ করে কিছু পড়ার শব্দ পাই। ময়লার বস্তা মাঝেমধ্যে উপর থেকে ফেলা হয়। তাই হাতেনাতে ধরার জন্য দৌড়ে যাই। কিন্তু এসে দেখি অজ্ঞাত তরুণী পড়ে আছে। কোনো শব্দ নেই। ভেবে পাচ্ছিলাম না, বারান্দার লোহার গ্রিল পেরিয়ে বাইরে যাব নাকি দাঁড়িয়ে থাকব। এরই মধ্যে ২/১ একজন করে আসতে থাকেন। স্থানীয় এক ডাক্তার আসেন। পালস চেক করে জানান, মারা গেছেন। পুলিশ আসে, মরদেহ নিয়ে চলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘অবাক করা বিষয়, কোনো চিৎকার শুনিনি। পড়ার পরও কোনো কান্নার আওয়াজ, আহাজারি কিছুই শোনা যায়নি।’

গত বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে অজ্ঞাত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন। সুরতহালে পুলিশ গুরুতর কিছু ইনজুরি পায়। সংগৃহীত আলামত ফরেনসিকে পাঠায়।

ওই ঘটনার পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে।

ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদ জানান, নিহত তরুণীর হাত, পা, কোমরসহ শরীরের কয়েক জায়গায় ভাঙা ছিল। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে স্পষ্ট হবে। আর ভবন থেকে পড়ে মারা যাবার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না? তা জানতে আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে রমনার ওসি নিহতের পরিচয় নিশ্চিতের তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘নিহতের নাম রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা। তার বাবার নাম রোকন উদ্দিন। তিনি হবিগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ইনসপেক্টর হিসেবে কর্মরত। রুম্পার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও রাজধানীর মালিবাগের শান্তিবাগ এলাকায় থাকতেন’।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত বলার মতো কিছু পাইনি। তবে রুম্পা হত্যার শিকার হয়েছেন, এমন সন্দেহে পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। হত্যা সন্দেহেই তদন্ত প্রাথমিক কাজ চলছে’।

তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ধর্ষণ হয়েছেন কি না এমন এক্সপার্ট অপিনিয়ন (মতামত) পাওয়ার পর মামলা ডিটেকশন হবে। সে পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আমরা এখনো কাউকে আটক করিনি। জিজ্ঞাসাবাদও করিনি। যদি নিহতের কোনো বয়ফ্রেন্ড থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

অন্যদিকে ঘটনার ছায়া তদন্ত করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ বিভাগ)। ডিবি দক্ষিণের উপ-কমিশনার (ডিসি) রাজিব আল মাসুদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঘটনাটি চাঞ্চল্য ছড়ানোর পর ছায়া তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগ। তবে এখন পর্যন্ত বিশেষ কিছু মেলেনি। আসলে সুইসাইড নাকি, হত্যা সেটা আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তাছাড়া অন্যান্য আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্পষ্ট হবে মোটিভ।’

অন্যদিকে রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘যে স্থান থেকে মরদেহ আমরা উদ্ধার করেছি, তার আশপাশের কোনো ভবনে থাকত না নিহত রুম্পা। রুম্পা থাকত শান্তিবাগে। স্বভাবত, সন্দেহ জোরালো হয় যে, রুম্পা হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে সেটাও তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষ। রুম্পাকে হত্যার পর এখানে আনা হয়েছে, নাকি কোনো ভবন থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে অথবা উপর থেকে সে সুইসাইড করার উদ্দেশে লাফিয়ে পড়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। কিন্তু তাতে বিশেষ সাহায্য পাইনি। ঘটনা সংশ্লিষ্ট ফুটেজ মেলেনি। তবে ঘটনা জানার চেষ্টা করতেছি। কাউকে আটক না করলেও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত পুরো ঘটনাটা স্পষ্ট হবে।’

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/০৬ ডিসেম্বর

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে