Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৫-২০১৯

দীর্ঘ হচ্ছে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকাও

উবায়দুল্লাহ বাদল


দীর্ঘ হচ্ছে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকাও

ঢাকা, ০৫ ডিসেম্বর- সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার ন্যয় দিন দিন বাড়ছে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা’র সংখ্যাও। নতুন করে আরও ৫১ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬৫তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর ফলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়াল চার হাজার ৫৯৮। এসব মুক্তিযোদ্ধা পঙ্গুত্বের হার অনুযায়ী মাসিক ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

নতুন স্বীকৃতি পাওয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার মো. আবদুল মতিন (বাবা- মৃত হাবিব উল্লাহ মুন্সি), সুধারামপুর উপজেলার আবুল হাসেম বিবি টিজে (অব.) (আবদুল জব্বার), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার মো. নুরুল ইসলাম (এসহাক পাটোয়ারী), ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মোহা. মনির আহমেদ ভূঁইয়া (সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া), সদর উপজেলার মো. জসিম উদ্দিন (আবুল হোসেন ভূঁইয়া) ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামীর এসই ডেভিট (ইউসুফ) (এস গাসেল)। সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জের মো. আবদুল মালেক বীর প্রতীক (মাজির আলী), সদর উপজেলার সাইদুর রহমান (আবরু মিয়া) ও নাখুরাম বনিক (মৃকুন্দ মোহন বণিক), দক্ষিণ সুরমার মো. সিরাজুল ইসলাম (ঠাকুরধন আলী), বিয়ানীবাজারের আক্তার আলী কুতুবউদ্দিন (হামিদ আলী) এবং ফেঞ্চুগঞ্জের মো. আজমল হোসেন রউফ (মন্তাজ আলী)।

এছাড়া যশোরের কেশবপুর উপজেলার মো. মোবারক হোসেন (বিলায়েত হোসেন), শার্শার মো. আবদুল আলী (মোবারক আলী), সদর উপজেলার মো. শামছুর রহমান (মকছেদ আলী) এবং চৌগাছার মাজেদা বেগম (স্বামী-শরীফ উদ্দিন)।

নতুন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে আরও রয়েছেন- মাগুরার শ্রীপুরের মো. গোলাম মোস্তাফা (বাবা মৃত মধু মিয়া), ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মো. হাবিবুর রহমান (পীর মোহাম্মদ) ও শ্রী মীরানাথ গোস্বামী (বরদাকান্ত গোস্বামী), লালমনিরহাটের আদিতমারীর ফিরোজুর রহমান (খন্দকার আবদুল কুদ্দুস), শরীয়তপুর সদর উপজেলার মো. আবদুল লতিফ (আবদুল কাদের মুন্সি), বরিশাল সদরের শেখ মো. ইউনুছ (শেখ মো. ছিটু), বাকেরগঞ্জের মো. হাসমত আলী মোল্লা (হোসেন আলী মোল্লা), রংপুরের মিঠাপুকুরের মো. মকবুল হোসেন (অয়েজ উদ্দিন), গাইবান্ধা সদরের মো. সিরাজুল ইসলাম (দেলোয়ার হোসেন), দিনাজপুর সদরের কাজী আবদুল মান্নান (কাজী আবদুল বারিক) ও মো. মিজানুর রহমান (জরিবুল্লা মিয়া) এবং বিরলের মো. মাইন উদ্দিন (ময়েজ উদ্দিন), মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার প্রেমানন্দ রায় (পরাণ রায়), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নিবারণ দাস (সুরেন্দ্র দাস), খাড়াছড়ির রামগড়ের সুবেদার আবুল বশর (মুন্সী কেরামত আলী), টাঙ্গাইল সদরের মেজর অব. মো. সোহরাব আলী (মো. হাসু মিয়া), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার আবুল খায়ের পাটোয়ারী (গোলাম রহমান পাটোয়ারী), নওগাঁর ধামইরহাটের মো. মোকছেদ আলম (মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল), কক্সবাজোরের উখিয়ার পরিমল বড়ুয়া (বিপিন চন্দ্র বড়ুয়া), মেহেরপুর সদরের মো. খিদির আলী (আরমান শেখ), জামালপুরের বক্সীগঞ্জের হাবিবুর রহমান (মো. ফজলুল হক), ঢাকা জেলার বাড্ডার মো. শফি উল্লাহ (মৌলভী আবদুল্লাহ), খিলক্ষেতের মো. আবদুল হাই বীর প্রতীক (মাহমুদুর রহমান), সাভারের তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া (আলী আমজাদ ভূঁইয়া), মোহাম্মদপুরের মো. একেএম গোলাম মোস্তফা (মোহা. মমতাজ উদ্দিন), সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের মো. ইদ্রিস আলী (আবদুল গনি), মোহা. রহম আলী (রহিম আলী), কুষ্টিয়া দৌলতপুরের মুসলিম উদ্দিন (ইউসুফ মণ্ডল বীর প্রতীক),

মো. আতাহার হোসেন বীর প্রতীক (মো. আছলেম উদ্দিন মণ্ডল), কুমিল্লা মুরাদনগরের খলিলুর রহমান (রুস্তম আলী), চৌদ্দগ্রামের আবদুল কাদের মোল্লা (আনসার আলী মোল্লা), ঝালকাঠি সদরের আবদুল হাকিম (আহমেদ আলী মোল্লা), বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার মো. আফজাল হোসেন তালুকদার (মৃত মফিজ উদ্দিন তালুকদার), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মৃত মোখলেছুর রহমান (হারিছ উদ্দিন) এবং বাঞ্ছারামপুরের মৃত মোছলেম মিয়া (দেওয়ান আলী বেপারী)।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে ‘এ’ শ্রেণির ১৪, ‘বি’ শ্রেণির ১৪৬, ‘সি’ শ্রেণির এক হাজার ৭০৪ এবং ‘ডি’ শ্রেণির ২ হাজার ৬৮৩সহ ৪ হাজার ৫৪৭ জনকে যুদ্ধাহত ভাতা দেয়া হচ্ছে।

বর্তমানে ‘এ’ শ্রেণি (পঙ্গুত্বের হার ৯৬-১০০) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা ৪৫ হাজার টাকা করে সম্মানী পান। ‘বি’ শ্রেণির (হার ৬১-৯৫) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা পান ৩৫ হাজার টাকা। ‘সি’ শ্রেণির (হার ২০-৬০) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা ৩০ হাজার টাকা এবং ‘ডি’ শ্রেণির (হার ১-১৯) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা পান ২৫ হাজার টাকা।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানী ভাতা ও বোনাস ছাড়াও সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে- দেশে ও বিদেশে (ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড) চিকিৎসা সুবিধা, কন্যার বিবাহ ভাতা, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের বঙ্গবন্ধু বৃত্তি, শিক্ষা ভাতা, ছেলেমেয়েদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ, রেশন কার্ড প্রদান, পরিচয়পত্র ও বিমান চার্ট প্রদান, পানির বিল, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল মওকুফ।

পাশাপাশি চলাচলের জন্য হুইলচেয়ার, ক্র্যাচ, লাঠি, কৃত্রিম অঙ্গ, জুতা-মোজা, শ্রবণযন্ত্র, চশমা, হুইলচেয়ারে চলাচলকারী সম্পূর্ণ পঙ্গু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বছরে একবার কক্সবাজারে আবহাওয়া পরিবর্তন বা ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রয়েছে তাদের।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এক হাজার ৫০০ বর্গফুট পর্যন্ত নিজস্ব বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ, চিকিৎসা ও বিভিন্ন কাজে ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য মোবাইল ফোন দেয়া হয়েছে। মাসিক এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল কার্ড সুবিধাও পান তারা।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/০৫ ডিসেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে