Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৩ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৪-২০১৯

‘ছেঁড়া’ ন্যাটোয় লোকদেখানো সেলাই

‘ছেঁড়া’ ন্যাটোয় লোকদেখানো সেলাই

লন্ডন, ০৫ ডিসেম্বর- ‘ভাঙা’ ন্যাটো জোটের ৭০ বছর পূর্তিতে জোটের মধ্যে ঐক্য দেখানোর চেষ্টা করেছেন নেতারা। সম্প্রতি জোটভুক্ত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নানা বিষয়ে তিক্ততা বেড়েছে। এর মধ্যেই লন্ডনে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে সম্মেলন।

স্থানীয় সময় বুধবার ৩ ঘণ্টার মূল আলোচনায় সাইবার হামলা এবং চীনের ছুড়ে দেয়া কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সব তিক্ততা ভুলে জোটের নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিক দেশ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতা জনাথন বেলি বলেন, বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নেতারা ছেঁড়া জোটের ঐক্য ধরে রাখতে লোকদেখানো সেলাইয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কার্যত সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের মতপার্থক্যগুলো লুকাতে পারছেন না। নেতারা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করলে আবারও সেই বিবাদ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে সংশয়ে পড়েছে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ২৯ সদস্যের এ সামরিক জোটটির ভবিষ্যৎ।

এএফপি বলছে, ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে এ সম্মেলন শুরু হয়। প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের নেতাদের মধ্যে বহু বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এ নিয়ে নাখোশ ট্রাম্প। এ তিক্ততার মধ্যে জোটের খামখেয়ালিপনা নীতির কারণে ন্যাটোর মস্তিস্ক মারা গেছে বলে মন্তব্য করেন ম্যাক্রোঁ। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ন্যাটো যে কারও চেয়ে ফ্রান্স জোটের খুবই প্রয়োজন। এটি খুবই বিপজ্জনক মন্তব্য।’

তুরস্ক সম্প্রতি সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। কুর্দিদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে চিহ্নিত করেছে তুরস্ক। আর একে সমর্থন না করলে বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সমর্থন করবে না বলে হুমকি দিয়েছে আঙ্কারা।

এ বিভাজনের মধ্যে বরিস ন্যাটোকে ঐক্যের বৃহত্তম বলয়” অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, জোটটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। যতদিন আমরা একত্রে থাকব, ততদিন আমাদের হারানোর স্বপ্ন দেখবে না কেউই।

ইউরোপীয় মিত্র এবং কানাডা তাদের সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে ন্যাটো সবচেয়ে শক্তিশালী জোট। বিশ্ব যেভাবে পরিবর্তিত হয়েছে আমরাও সেভাবে বদলেছি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার ন্যাটোর অন্য সদস্য রাষ্ট্রের ব্যয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রথমে আমি ন্যাটো নিয়ে রাগ প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু এখন আমি ১৩ হাজার কোটি ডলার তুলেছি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডা ২০১৬ সাল থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত পরিমাণ প্রতিরক্ষা বাজেট যোগ করবে। ট্রাম্পকে এ তথ্য জানিয়েছেন ন্যাটো মহাসচিব। ন্যাটো সম্মেলনের আলোচনার বিষয়ে একেবারেই নগণ্য। কারণ মাত্র ৩ ঘণ্টার আলোচনায় যেসব সিদ্ধান্ত আসবে, তা আগেই জোট রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা নিয়ে ফেলেছেন। স্থল, নৌ, আকাশপথ এবং সাইবার মহাকাশে যুদ্ধ জয়ে লড়ার প্রস্তুতি রয়েছে জোটের।

এবার প্রথমবারের মতো জোটের সামনে চীনের উত্থানই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্টলটেনবার্গ বলেন, আমরা এখন স্বীকার করছি যে, চীনের উত্থানই সব মিত্র দেশের জন্য নিরাপত্তা প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এর আগে ন্যাটো জোট থেকে ফ্রান্স বেরিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি দেখতে পাচ্ছেন ফ্রান্স ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি ফ্রান্স বিচ্ছিন্ন হতে যাচ্ছে। আমি তার (ম্যাক্রোঁ) দিকে তাকিয়ে আছি এবং আমি বলছি, যে কারোর চেয়ে তার সুরক্ষা বেশি প্রয়োজন এবং আমি তাকে বেরিয়ে যেতে দেখছি। তাই আমি এতে কিছুটা বিস্মিত।’

ট্রাম্পকে নিয়ে চার নেতার মশকরা : ট্রাম্পের দীর্ঘসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বাকিংহাম প্রাসাদে হাসি-তামাশায় মেতে ওঠেন ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের চার নেতা।

তাদের পেছনে ক্যামেরা রয়েছে তা তারা বুঝতে পারেননি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়ে চুপ হয়ে যান। এর আগে ট্রাম্প ও ম্যাক্রোঁ দীর্ঘসময় সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ম্যাক্রোঁকে উদ্দেশ করে বরিস বলছেন, ‘এ কারণেই আপনার দেরি হয়েছে?’ ম্যাক্রোঁকে জবাবের সুযোগ না দিয়ে ট্রুডো বলেন, ‘দেরি হওয়ার কারণ হচ্ছে তার সামনে ছিল ৪০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলন।’

ট্রুডোর কথা শেষ হওয়ার পর হাসতে হাসতে জবাব দিচ্ছিলেন ম্যাক্রোঁ। তার কণ্ঠস্বর ভিডিওতে শোনা যায়নি। এরপরই ট্রুডো বলেন, ‘ওহো!, তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন... আপনি স্রেফ দেখেছেন, তার (ট্রাম্পের) দলের লোকদের চোয়াল ঝুলে নিচে পড়ে গিয়েছিল।’ তবে তাদের আলোচনার বিষয়টি পরিষ্কার নয়।

আর/০৮:১৪/০৫ ডিসেম্বর

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে