Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৩-২০১৯

খুলনায় সম্মেলন ঘিরে উজ্জীবিত আ.লীগ নেতাকর্মীরা

খুলনায় সম্মেলন ঘিরে উজ্জীবিত আ.লীগ নেতাকর্মীরা

খুলনা, ০৩ ডিসেম্বর - আগামী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এরই মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের সম্মেলনও শেষ হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সম্মেলন। তৃণমূলের প্রত্যাশা, এবার আর বিতর্কিতদের যেন ঠাঁই না হয় কমিটিতে।

এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে নগর ও জেলা শাখার সভাপতি পদে খুব বেশি আগ্রহী প্রার্থীর দেখা না মিললেও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য রয়েছেন বেশ কয়েকজন। যারা অনেক আগে থেকেই পদটি পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য আসন্ন সম্মেলনের মাধ্যমে ঋণখেলাপী, উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে হেরে যাওয়া প্রার্থী, খুলনার রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন, নৌকা প্রতীকের বিরোধীতাকারী, বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎকারী, ভূমিদস্যু ও মাদক বিক্রেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারাও হতে চাইছেন সাধারণ সম্পাদক।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন শেখ হারুনুর রশীদকে সভাপতি ও এসএম মোস্তফা রশিদী সুজাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর ৯ মাস পর কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। তিন বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হবার আগেই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই মারা যান। তারপর থেকে সাধারণ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী।

জেলা আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, কমিটির মেয়াদ শেষ হবার পর চলতি বছরের মে মাসে খুলনার এক ক্লাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে নগর ও জেলা শাখার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা ও নগরের সম্মেলন শেষ করার তাগিদ দেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই সময়ের মধ্যে সম্মেলন করতে পারেনি খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ।

পুনঃনির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বর খুলনা সার্কিট হাউসে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও শেষ হয়নি কাউন্সিলর নির্ধারণ। ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন শেষ হলেই কাউন্সিলর নির্ধারণ হবে বলে জানান মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ।

তিনি বলেন, গতকাল (৩০ নভেম্বর শনিবার) পর্যন্ত নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টির সম্মেলন হয়ে গেছে। বাকিগুলোর সম্মেলন ৪/৫ তারিখের মধ্যে হয়ে যাবে।

জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের আগেই সবকিছু প্রস্তুত করা হবে।

দলীয় সূত্রের খবর, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন কোনো আলোচনা নেই। কারণ এখানে বর্তমান সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক আবারও সভাপতি হবেন এমনই ধারণা সবার। তবে সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহ প্রকাশ করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সরদার আনিসুর রহমান পপলু, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই পদেও বর্তমান যিনি আছেন তিনিই বহাল থাকবেন।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশীরা হলেন- বর্তমান সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএম মুজিবর রহমান, সাবেক এমপি আলহাজ মোল্লা জালাল উদ্দিন ও সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি।

সাধারণ সম্পাদকের তালিকায় রয়েছেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী, সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি, আকতারুজ্জামান বাবু এমপি, যুগ্ম-সম্পাদক সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, কেন্দ্রীয় নেতা অসিত বরণ বিশ্বাস, বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী কামরুজ্জামান জামাল বলেন, দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই হবেন। তবে নিজে এই পদের জন্য জোরাল দাবিদার বলেও জানান তিনি।

আকতারুজ্জামান বাবু এমপি বলেন, দলীয় প্রধান ও নেতাকর্মীরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাই মেনে নেব।

জানা গেছে প্রার্থীদের অনেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে- ঋণখেলাপী, নিয়োগ বাণিজ্য, দলের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীনতা, স্কুলের অর্থআত্মসাৎ করে অট্টালিকা নির্মাণ, সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা, ঘের ও জমি দখল, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া ও মাদক বাণিজ্য।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০৩ ডিসেম্বর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে