Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০২-২০১৯

‘দাগালতি’ হবে আমার ক্যারিয়ারের সেরা এন্ট্রি: ঋত্বিকা সেন

ইমরুল নূর


‘দাগালতি’ হবে আমার ক্যারিয়ারের সেরা এন্ট্রি: ঋত্বিকা সেন

কলকাতা, ০২ ডিসেম্বর- এই সময়ে ওপার বাংলার ব্যস্ততম নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম ঋত্বিকা সেন। শিশু শিল্পী হিসেবে ২০১২ সালে ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট লাভ’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার আগমন। ছবিটিতে জিৎ ও কোয়েলের সঙ্গে অভিনয় করে বেশ প্রশংসিত হন। এরপরই দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০১৪ সালে ‘বরবাদ’ ছবিতে মূল নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটে ঋত্বিকার। বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন এই নায়িকা। রীতিমত আলোচনায় চলে আসেন। পরের বছরেই দেবের বিপরীতে ‘আরশীনগর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় চলে আসেন।

হান্ড্রেড পার্সেন্ট লাভ, চ্যালেঞ্জ ২, বরবাদ, আরশীনগর, রাজা রাণী রাজী, জিও পাগলা, ভিলেন, বাঘ বন্দি খেলা, শাহজাহান রিজেন্সি, ভুতচক্র প্রাঃ লিঃ ছবির পর এই নায়িকা পাড়ি জমিয়েছেন চেন্নাইতে। কলকাতার বাইরে প্রথমবার কাজ করেছেন তামিল ছবিতে। চেন্নাই থেকে মুঠোফোনে কথা বলেন ‘বরবাদ’ খ্যাত এই নায়িকা। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় ঋত্বিকা সেনের কাজ ও ব্যস্ততা নিয়ে আলাপের চুম্বকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো...

 প্রথমবারের মত তামিল ছবিতে কাজ করেছেন। অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?

ঋত্বিকা সেন: হ্যাঁ। সাউথ ইন্ডিয়াতে এটাই আমার প্রথম সিনেমা। ছবির নাম দাগালতি, এটি পরিচালনা করেছেন বিজয় আনন্দ। এর আগে অনেকবারই সেখানকার ছবিতে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছি কিন্তু করা হয়নি। অবশেষে এই ছবিটাতে কাজ করেছি। কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছুই শিখেছি। সেখানকার মানুষজন বেশ আন্তরিক এবং সহযোগীতা পরায়ণ। কাজের ক্ষেত্রে সবাই সবাইকে ভীষণ রকমের হেল্প করে। টিমের সবাই থেকে শুরু করে পরিচালক কিংবা সহশিল্পী সবার কাছে হেল্প পেয়েছি। খুব দারুণ ও মজার অভিজ্ঞতা।

একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই, সেটা হলো, এই ছবিতে আমার যে ‘এন্ট্রি’ বা ‘ইন্ট্রোডিউসিং পার্ট’ এটা অনেক সময় নিয়ে করা হয়েছে। কারণ এই ছবির গল্পটাই এগিয়েছে আমার চরিত্রকে কেন্দ্র করে। ছবিতে আমার চরিত্রের নাম মাল্লি। আমার চরিত্রের উপর বেইজ করেই ছবির অন্যান্য চরিত্রগুলো তৈরি হয়েছে।

এখন পর্যন্ত আমার ক্যারিয়ারে কোন ছবিতে ‘ইন্ট্রোডিউসিং পার্ট’ এতটা দারুণ হয় নি। কলকাতার ছবিগুলোতেও ওরকমভাবে প্রেজেন্ট করা হয় নি আমাকে। কিন্তু এই ছবিতে আমার স্টার্টিংটাই হবে খুবই দুর্দান্তভাবে। এটার জন্য আলাদা করে অনেকটা সময় দিয়েছে পরিচালক। এটা আমার জন্য দারুণ পাওয়া।

ছবিটিতে কাজ করার জন্য নিশ্চয় তামিল ভাষা রপ্ত করতে হয়েছে। সেটা আয়ত্তে এনেছেন কিভাবে?

ঋত্বিকা সেন: ভীষণ কষ্ট হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যা, হিরোইনরা শুধু নাচ,গান জানলেই হয় না। তাদের ভাষা থেকে শুরু করে সবকিছুই জানতে হয়। আমার চার মাস সময় লেগেছে ভাষাটা শিখতে। আমি তো প্রথমে কিছুই বুঝতাম না। ওদের ভাষা খুব কঠিন। তবে আমার জন্য খুব বেশি কষ্ট হয় নি। কারণ চেন্নাই, সাউথ ইন্ডিয়াতে আমার বেশ কিছু আত্নীয়-স্বজন রয়েছে, এছাড়াও আমার শিক্ষক রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটু একটু জানতাম, তাও অল্প। পড়ে ছবিটিতে কাজ করতে গিয়ে আমি সবার কাছ থেকে হেল্প পেয়েছি। সহকারী পরিচালকরা অনেক হেল্প করেছে। আমাকে প্রম্প থেকে শুরু করে স্ক্রীপ্ট বুঝানো, প্র্যাক্টিস সবকিছুতে অনেক অনেক সহযোগীতা করেছে। তাদের প্রতি অনেক বেশি থ্যাংকফুল আমি। তারপর আমার যে হিরো সান্তানাম, ভীষণ ভালো একজন অভিনেতা। প্রতিটা দৃশ্যের আগে আমি বুঝে নিয়েছি কিভাবে কি বলতে হবে। আমাকে প্রত্যেকটা ডায়লগে হেল্প করেছে যাতে আমি আমার অভিনয়টা সুন্দরভাবে করতে পারি। আমি তখনই খুশি হয়েছি যখন দেখেছি ছবিটির পরিচালক আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়েছে।

তবে ভাষার চেয়ে বেশি কষ্ট হয় ডায়লগের সাথে সাথে এক্সপ্রেশন দেওয়াটা। পড়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও যে পুরোপুরি বলতে পারি তা না। আমার সঙ্গে তামিলের কারও দেখা হলে আমি (তামিল ভাষাতে) প্রথমেই বলে নেই যে ‘আমি তামিল ভাষা খুব একটা পারি না’।

গতকাল ছবিটির ট্রেইলার প্রকাশিত হয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

ঋত্বিকা সেন: আমি ছবিটা নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। আমার যারা পরিচিতরা আছেন তারা সহ অনেকেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ভালো লাগছে।

ছবিটি কবে মুক্তি পাচ্ছে?

ঋত্বিকা সেন: ছবিটির প্রচারণা শুরু হয়ে গিয়েছে। আমি বর্তমানে চেন্নাইতে আছি ছবির প্রমোশনে। আজকেই কলকাতা ফিরে যাব। চেন্নাইতে সবার সঙ্গে অংশ নিয়েছি। প্রচারণা করছি। এই মাসের শেষের দিকে ২৫ডিসেম্বর বড় দিন, একটা বড় উৎসব। তারা সবাই চাচ্ছে এই বড় দিনেই ছবিটি মুক্তি দিতে। সেদিক থেকে খুব সম্ভাবনা ২৪ ডিসেম্বর ছবিটি মুক্তি দেওয়ার। এই দিনটা সামনে রেখেই প্রচারণা চলছে। আর যদি এই মসে কোন কারণে মুক্তি পিছিয়ে যায় তাহলে নতুন বছরে শুরুতে মুক্তি দেওয়া হবে।

‘বরবাদ’ ছবিটির পর থেকে বেশ আলোচনায় এসেছেন। কাজ করেছেন বেশকিছু ছবিতে। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কতটুকু সম্ভাবনাময়ী?

ঋত্বিকা সেন: বরবাদ, আরশীনগর ছবিগুলো আমাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে এটা সত্য। আমার ক্যারিয়ারের খুব বেশি সময় কিন্তু হয় নি। এতটুকু সময়ে আমি সবার কাছ থেকে অনেক সাপোর্ট ও ভালবাসা পেয়েছি যার কারণে কাজ করছি। আমি এখন বিবিএ (অনার্স) প্রথম বর্ষে পড়ছি। পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছি। এখনও শিখছি, শিখতে শিখতেই কাজটা করে যেতে চাই।

এই মূহুর্তে হাতে কি কি ছবি আছে?

ঋত্বিকা সেন: ছবির কথা যদি বলি তাহলে বলবো, তিনটি ছবির বিষয়ে কথা চলছে, শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। আর একটি নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। কিছুদিন পর ছবিটির কাজ শুরু করবো।

 কলকাতার বাইরে কাজ করেছেন দক্ষিণী ছবিতে। নিজ দেশ পেরিয়ে একবার বাংলাদেশেও এসেছিলেন। 'গাদ্দার' নামের একটি ছবিতে কাজ করে গিয়েছেন। এখানকার অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?

ঋত্বিকা সেন: এক কথায় ভীষণ ভালো। বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রশংসা শুনেছি আগে। ২০১৭ সালেই প্রথম গিয়েছিলাম। তখন বেশ ভালো লেগেছিল। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি একই। সবার কাছে অনেক আন্তরিকতা ও আপ্যায়ন পেয়েছি। আমার আত্নীয়ও আছে সেখানে। যখন গিয়েছিলাম আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। আমাদের এখান থেকে অনেকেই বাংলাদেশে গিয়ে কাজ করছেন কিংবা বাংলাদেশ থেকেও অনেকেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। আমার সামনেও ইচ্ছা আছে যদি কোন ভালো প্রজেক্ট আসে তাহলে বাংলাদেশে কাজ করবো।

এন কে / ০২ ডিসেম্বর

টলিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে