Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৯ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০১-২০১৯

সখীপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র কাণ্ডে বিপাকে কর্মচারীরা

সখীপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র কাণ্ডে বিপাকে কর্মচারীরা

টাঙ্গাইল, ০১ ডিসেম্বর- সখীপুর উপজেলা পরিষদের মূল ভবনে ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়’ লেখা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর কর্মকর্তা আর ইউপি চেয়ারম্যানদের তথ্যে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় পরিষদের মূল ভবনের সাইনবোর্ড নিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমানের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে ওই সমন্বয় কমিটির সভার সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সমাপনী বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

এরপর থেকে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর চারদিন পর উপজেলা পরিষদের মূল ভবনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ড সাঁটানো আইনের পরিপন্থি দাবি করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গত ১৯ নভেম্বর সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি চিঠি দেন। ওই সাইনবোর্ড সাঁটানোর পক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো অনুমোদিত চিঠি আছে কিনা, থাকলে তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে দেখাতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সখীপুর উপজেলার একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে সৃষ্ট দ্বদ্বের কারণেই গত অক্টোবর মাসের মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

অপরদিকে অভিযোগ আছে, উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদের নির্ধারিত বেতনভোগী চালককে দিয়ে গাড়ি না চালানোর অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ির জ্বালানি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এ নিয়েও ওই দুইজনের মধ্যে তিক্ততা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই সভা-অনুষ্ঠান ছাড়া দুজনের মুখ দেখাদেখি, কথাবার্তা এবং ফোনালাপও বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সখীপুর উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সখীপুর উপজেলার সরকারি দপ্তরের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান বেজার হন। আবার চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেজার হন। সব মিলে আমরা মহাবিপদে আছি। আমরা অতি দ্রুত তাদের এ দ্বন্দ্বের নিরসন চাই।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, এ দূরত্বের জন্য চেয়ারম্যানই দায়ী। আমার সঙ্গে তার কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমি অনিয়ম কিছু করতে চাই না বলেই আমার সঙ্গে অনেকের বনিবনা হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু জানান, ইউএনও সাহেব উপজেলা পরিষদের বিধিমালা ২০১০ এর ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করে উপজেলা পরিষদের মূল ভবন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়' লিখে সাইনবোর্ড সাঁটিয়েছেন। উনি মনে করেন আমি ওনার অধীনস্থ কর্মকর্তা।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ওই সাইনবোর্ড সাঁটানোর পক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো অনুমোদিত চিঠি আছে কিনা, থাকলে তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে দেখাতে বলা হয়েছে। তবে সাত দিন পার হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় আমার চিঠির কোনো জবাব দেননি। কৈফিয়ত চেয়ে শিগগিরই তাকে আরেকটি চিঠি দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/০১ ডিসেম্বর

টাঙ্গাইল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে