Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০১-২০১৯

পাকিস্তানে শত শত শিশুর এইডস আক্রান্তের রহস্য এখনও অজানা

পাকিস্তানে শত শত শিশুর এইডস আক্রান্তের রহস্য এখনও অজানা

ইসলামাবাদ, ০১ ডিসেম্বর - পাকিস্তানে শত শত শিশুর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার রহস্য এখনও অজানাই রয়ে গেছে। দেশটির সিন্ধু প্রদেশের ছোট্ট শহর রাতোদেরোতে গত ছয় মাসে প্রায় ৯শ শিশু এইডসে আক্রান্ত হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে সেখানকার একজন স্থানীয় চিকিৎসক তার ক্লিনিকে আসা শিশুদের উপসর্গ দেখে সন্দেহ করেন।

তিনি সেসব শিশুর এইচআইভি পরীক্ষা করার উপদেশ দেন। আটদিনের মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি আছে বলে জানা যায়।

শুধু পাকিস্তানেই নয় এশিয়াতেও এত মানুষের বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এক সাথে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার নজির নেই বললেই চলে। তবে বহুদিন পেরিয়ে গেলেও শত শত শিশু কিভাবে এইডসে আক্রান্ত হলো তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তানের ঘটনায় বিস্মিত হওয়ার মত বিষয়টি হলো, সেখানে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়া শিশুদের অধিকাংশের বয়সই ১২ বছরের কম। তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও এই রোগের কোনো উপস্থিতি ছিল না।

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি রাতোদেরোতে। সেখানকার একটি ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক মুজাফফর ঘাঙরো। শিশুদের ডাক্তার হিসেবে ওই অঞ্চলে তার বেশ সুখ্যাতি ছিল। তার কাছে চিকিৎসা করানোর খরচও কম ছিল।

কিন্তু তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর সব বদলে যায়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিশুদের মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ করার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এরপর তাকে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ভীষণ চাপের মুখে ছিল। তাদের অযোগ্যতার দায় কারো না কারো ওপর চাপাতে হতো। বলির পাঁঠা হয়েছি আমি।

পাকিস্তান সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এক তদন্তের পর ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব কমানো হয়েছে।

ওই চিকিৎসক বলেন, গত দশ বছর ধরে আমি চিকিৎসা পেশায় আছি। এখন পর্যন্ত একজনও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেনি যে, আমি কোনো সুঁচ পুনর্ব্যবহার করেছি। আমি স্থানীয়দের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়ও ছিলাম। তাই পেশাগত হিংসা থেকে অন্যান্য চিকিৎসক এবং সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ এনেছে।

নিজেও এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন ওই চিকিৎসক। কিছুদিন সাজা খাটার পর জামিনে ছাড়া পান তিনি। তার ক্লিনিক থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে শুভানা খান গ্রামে ৩২ জন শিশু এইচআইভি আক্রান্ত। অথচ ওই শিশুদের পরিবারের কোনো সদস্যেরই এইচআইভি ছিল না।

শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটা আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেকেরই ধারণা ওই শিশুরা কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যাবে।

জাতিসংঘের ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে এইচআইভির ব্যাপক প্রাদুর্ভাব থাকা ১১টি দেশের একটি পাকিস্তান। কিন্তু সেখানে যে পরিমাণ মানুষের এইচআইভি রয়েছে তাদের অর্ধেকের বেশি সংখ্যক মানুষ জানেই না যে তাদের এইচআইভি আছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় পাকিস্তানে বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এশিয়ার মধ্যে ফিলিপাইনের পরে পাকিস্তানেই দ্রুততম হারে এইডস ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান ইউএন এইডস-এর পরিচালক এলেনা বরোমেয়ো।

এইডসের এরকম প্রাদুর্ভাব থাকা স্বত্ত্বেও এটি পাকিস্তান সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের ঘটনায় সরকারও নড়েচড়ে বসেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আযরা পেচুহো।

আনুমানিক ৬ লাখ অযোগ্য চিকিৎসক বেআইনিভাবে পাকিস্তানে চিকিৎসা কাজ চালায় বলে মনে করা হয়। পাকিস্তানের অনেক হাসপাতালেই চিকিৎসা পদ্ধতি নৈতিকতার নিয়ম মেনে পরিচালিত হয় না। চিকিৎসকরা অনেক সময়ই তাদের রোগীদের বিষয়ে চিন্তা করেন না। তারা সামান্য কারণেই ইঞ্জেকশন দেয়। আর যত বেশি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় তত বেশি সম্ভাবনা থাকে সংক্রমণ ছড়ানোর।

গত আগস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি জাফর মির্জা এক টুইট বার্তায় উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের মধ্যে মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি ইঞ্জেকশন ব্যবহারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান।

আর এসব ইঞ্জেকশনের ৯৫ শতাংশই অপ্রয়োজনীয়। এইচআইভির ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পাকিস্তান সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও প্রচারণা চালাচ্ছে।

কিন্তু পাকিস্তানে যেহেতু বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক এবং সমকামিতা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ তাই এই বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রচারণা বেশ রাখঢাক করে করতে হয় এবং অধিকাংশ মানুষের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছানোই হয়ে ওঠে না।

আর পাকিস্তানের সমাজ ব্যবস্থায় এই রোগ হলে সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কা থাকে বলে এইচআইভির ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীও নিজেদের অনিরাপদ মনে করে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০১ ডিসেম্বর

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে