Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৭ জুন, ২০২০ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-৩১-২০১৩

বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল বনাম অন্যান্য ট্রাইবুনাল

নিঝুম মজুমদার


জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের উদ্যোগে রুয়ান্ডাতে ১৯৯৪ সালে সঙ্ঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের ট্রাইবুনাল শুরু হয়েছে ১৯৯৭ সালে। মোটামুটি ভাবে বলা যায় এই বিচার শেষ হয়েছে ২০১২ সালে তবে কেউ কেউ বলছেন আরো কয়েক জনের বিচার করা হতে পারে যেটি শেষ হতে ২০১৪ সাল হয়ে যেতে পারে। এই পর্যন্ত ২০১১ সাল পর্যন্ত এই ট্রাইবুনালের এপ্রোক্সিমেট খরচ হয়েছে ৬১৫ মিলিয়ন ডলার। ২০১১-২০১২ কিংবা তার পরেও বিচার চললে যদি এপ্রোক্সিমেট আরো ৫০-৭০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয় তবে কত খরচ হতে পারে পাঠক আপনারাই হিসেব করে দেখুন দয়া করে। এই বিচার অত্যন্ত স্লো হচ্ছে এই অভিযোগ বার বার তোলা হয়েছে। যদিও এটি ইউ এন-এর সরাসরি হস্তক্ষেপে বিচার চলেছিলো। অর্থও লেগেছে প্রচুর, সময়ও লেগেছে আবার সমালোচিতও হয়েছে।


	বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল বনাম অন্যান্য ট্রাইবুনাল

১) জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের উদ্যোগে রুয়ান্ডাতে ১৯৯৪ সালে সঙ্ঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের ট্রাইবুনাল শুরু হয়েছে ১৯৯৭ সালে। মোটামুটি ভাবে বলা যায় এই বিচার শেষ হয়েছে ২০১২ সালে তবে কেউ কেউ বলছেন আরো কয়েক জনের বিচার করা হতে পারে যেটি শেষ হতে ২০১৪ সাল হয়ে যেতে পারে। এই পর্যন্ত ২০১১ সাল পর্যন্ত এই ট্রাইবুনালের এপ্রোক্সিমেট খরচ হয়েছে ৬১৫ মিলিয়ন ডলার। ২০১১-২০১২ কিংবা তার পরেও বিচার চললে যদি এপ্রোক্সিমেট আরো ৫০-৭০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয় তবে কত খরচ হতে পারে পাঠক আপনারাই হিসেব করে দেখুন দয়া করে। এই বিচার অত্যন্ত স্লো হচ্ছে এই অভিযোগ বার বার তোলা হয়েছে। যদিও এটি ইউ এন-এর সরাসরি হস্তক্ষেপে বিচার চলেছিলো। অর্থও লেগেছে প্রচুর, সময়ও লেগেছে আবার সমালোচিতও হয়েছে।

 
২) কম্বোডিয়া সরকার এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে খেমার রুজ তথা পলপট সরকারের সময় ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সংঘঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার শুরু নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৩ সালে এবং কাগজে কলমে বিচার আদালতে গড়ায় ২০০৭ সালের জুলাইতে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত, এই ছয় বছরে বিচার শুরু করতে পেরেছে ৫ জনের। এই পর্যন্ত এপ্রোক্সিমেট খরচ হয়েছেঃ ১৭৩ মিলিয়ন ডলার, তাও আবার নানা দেশের ফান্ডিং থেকে এই বিচার চলেছে। এই বিচার ইউনাইটেড নেশন্স এবং সরকারী সমন্বয়ে চল্লেও এই বিচার রাজণৈতিক হতক্ষেপে হয়েছে বলে বার বার সমালোচিত হয়েছে, খরচও হয়েছে প্রচুর আবার বিচার করেছে মাত্র ৫ জনের। যার মধ্যে বিচারের দীর্ঘ সূত্রিতায় একজন অভিযুক্ত মরে গেছে।
 
৩) ১৯৯১ সাল থেকে ইয়াগোস্লোভিয়াতে সঙ্ঘঠিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অপরাধের জন্য নেদারল্যান্ডের হেগে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ট্রাইবুনাল গঠিত হয় ১৯৯৩ এর মে মাস থেকে। ২০১৩ তেও ৭টি মামলা চলছিলো। এই পর্যন্ত গত ২০ বছরে বলার মত ৯৭ টি মামলা নিষ্পত্তি করতে পেরেছে এই কোর্ট। এই ট্রায়ালের পুরো খরচের তথ্য না পেলেও শুধু দুইটি বছরের খরচের হিসেব থেকে ধারনা করে নেয়া যায় যে এই ২০ বছরে এই ট্রাইবুনালে কি পরিমান অর্থ খরচ হয়েছে। ২০০৪ এবং ২০০৫ অর্থ বছরে এই ট্রাইবুনালের খরচ হয়েছে ৩১৫ মিলিয়ন ডলার। আর সমালোচনা? জাতিসঙ্ঘের অধীনে বিচার হবার পরেও এই ট্রাইবুনাল অসংখ্য সমালোচনা ফেস করেছে। যেমন- এই ট্রাইবুনাল রাজনৈতিক, প্রচুর খরুচে ট্রাইবুনাল, অকার্যকর, বন্দীদের টর্চার করা হয়, অমানবিক আচরন করা হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। মিলোসোভিচের মৃত্যু নিয়েই এই ট্রাইবুনাল অনেক সমালোচিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত মিলোসোভচের আইনজীবি ছিলেন জনাব স্টিভেন কে কিউসি, যিনি কিনা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের অভিযুক্তদের পক্ষেও ওকালতি করেছেন এবং তার চেম্বারের একজন টবি ক্যাডমেন।
 
৪) ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিয়েরা লিয়নে সঙ্ঘঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রেক্ষিতে ২০০২ সালে সিয়েরা লিওন সরকার এবং জাতিসঙ্ঘের সহায়তায় গঠিত হয় স্পেশাল কোর্ট। ২০১২ সালে এসে, মানে ৮ বছর লাগিয়ে এই ট্রাইবুনাল এই পর্যন্ত ২২ জনের বিচার করতে পেরেছে। এই বিচারের জন্য কয়েকবছরের ফান্ড টি আমরা চলুন দেখে নেই- ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত এই বিচারের বাজেট ছিলো ৮৯ মিলিয়ন ইউ এস ডলার। সুতরাং ২০১০, ২০১১, ২০১২ পর্যন্ত বাজেট যদি একই পরিমান ধরি তবে মোট খরচ দাঁড়ায় ১৬৮ মিলিয়ন ইউ এস ডলার। কিন্তু চার্লস টেলরের মামলা সিয়েরা লিয়ন থেকে নিরাপত্তার কারনে নেদারল্যান্ডে সরাবার কারনে এই বিচারের খরচ বহুগুনে বেড়ে যায়। টেইলরের বিচারের জন্য আলাদা ভাবে আমেরিকা টাকা দেয় ২০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার
 
৫) শেষ পর্যায়ে এসে বলি বাংলাদেশে চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কথা। এই ট্রাইবুনালটি সম্পূর্ণ ভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে চলমান। আইন বাংলাদেশের সম্পূর্ণ নিজের তৈরী সর্বোচ্চ স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে এবং এই বিচারের বাৎসরিক একটা আনুমানিক খরচ বছরে ২০-২৫ কোটি হয় কিনা তাতে সন্দেহ আছে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকার। আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি চমৎকার আইনে এই বিচার সম্পন্ন করছি এত কম খরচে, এটি আসলেই অভাবনীয় ব্যাপার। সবচাইতে বড় ব্যাপার হচ্ছে ২০১০ সালের ২৫ শে মার্চে শুরু হওয়া বিচার প্রায় সাড়ে তিন বছরে ট্রাইবুনাল ১ এবং ২ মিলিয়ে এ পর্যন্ত চলতে থাকা ১৭টি মামলার মধ্যে রায় হয়েছে ৮টির। যার মধ্যে ফাঁসীর পক্ষে রায় দেয়া হয়েছে ৬ টি এবং যাবজ্জীবন কিংবা আজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে ২ টি’র। সাম্প্রতিক সময়ে আরো দুটি মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে যেটি রায় প্রদানের জন্য অপেক্ষমান হিসেবে রয়েছে।
 
পাঠক, আমি বেশী কিছু বলবনা। আপনাদের শুধু তথ্য আর উপাত্ত-ই দিয়ে দিলাম। জামাত এবং এদের দোসররা সব সময় বলে এই বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হতে হবে, হাইব্রিড কোর্ট বানাতে হবে ইউনাইটেড নেশন্সের সাহায্যে, ইত্যাদি ইত্যাদি। দেশের শত শত কোটি টাকা খরচের ধান্দা আর বছরের পর বছর বিচার ঝুলিয়ে রাখার চালাকি কি আপনি ধরতে পেরেছেন? মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে এই বিচারের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের এই সাফল্য সত্যই প্রশংশনীয়। যেখানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই ধরনের বিচার করতে যুগের পর যুগ চলে যায়, মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার খরচ হয় সেখানে এই সাড়ে তিন বছরে বিচারের এমন সাশ্রয়ী একটি চিত্রে আপনি কি সন্তুষ্ট থাকবেন না? থাকা কি উচিৎ না?
 
আমরা সব সময় ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলি। ধৈর্য্য হারানোটা খুব সম্ভবত আমাদের বাঙালীর রক্তে প্রোথিত রয়েছে জন্ম লগ্ন থেকেই। অথচ আমার এই লেখার তথ্যগুলো আরেকবার ভালো করে পড়ে দেখুন, ভাবুন। আমার কোনো কথাই বানানো নয়। সবই কংক্রীট তথ্য আর উপাত্তে ভরপুর। এবার বিবেচনা আপনার হাতেই...

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে