Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২৭-২০১৯

মওদুদ সাহেবের কানে '৭৪-এর দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি

আবদুল গাফফার চৌধুরী


মওদুদ সাহেবের কানে '৭৪-এর দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি

বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকট পেঁয়াজ নিয়ে। এই সংকট পশ্চিমবঙ্গেও দেখা দিয়েছে। সরকার এই সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সারা বিশ্বে বেড়েছে। এই উন্নত ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেনে বাস করেও তা টের পাচ্ছি। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। কিন্তু দাম এমনটা বাড়েনি, অথবা তার সরবরাহ এতটা কমেনি যে, দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।

বিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বাড়াতে পারে। সরকারের অসতর্কতার জন্য খাদ্যের সরবরাহ ও মজুদ কমতে পারে। সরকার এ সম্পর্কে সতর্ক হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায়, পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই সরকার তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে। অন্তত, প্রধানমন্ত্রীর পেঁয়াজ সংক্রান্ত বক্তব্যে তা বোঝা যায়।

এর আগে এর চেয়েও বড় সংকট এ সরকার সাফল্যের সঙ্গে পার করেছে। যে মহাপ্লাবনে বিবিসি পর্যন্ত প্রেডিক্ট করেছিল- দুই লাখ লোকের অনাহারে মৃত্যু হবে, সেই মহাসংকটেও হাসিনা সরকার এক ব্যক্তিকেও অনাহারে মরতে দেয়নি। সে জন্যই আশা করা যায়, এই সংকটেও সাধারণ মানুষকে তারা ভুগতে দেবে না।

কিন্তু দেশে এক দল শকুন আছে, যারা ভাগাড়ে মরা গরুর জন্য অপেক্ষা করে। এরা মনুষ্যরূপী একশ্রেণির রাজনীতিক ও সাংবাদিক। দেশে গাছের একটা পাতা নড়লেও এরা চিৎকার করে- ঝড় এলো ঝড় এলো। নদীতে সামান্য একটু ঢেউ উঠলেও বলে, মহাপ্লাবন এলো। দেশে দু'একটা হত্যাকাণ্ড হলেও বলে, দেশ সন্ত্রাসে ভরে গেল। চাল-ডালের দাম একটু বাড়লেই বলে, দুর্ভিক্ষ এলো। আর এসব শঙ্কা তারা প্রকাশ করে একটি কামনা থেকে- এসব সমস্যা বা এই সমস্যা নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে। কিন্তু হাসিনা সরকারের আমলে ছোট-বড় বহু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার তা সাফল্যের সঙ্গে সমাধান করেছে। সরকারের পতন হয়নি। ভবিষ্যতে কী হবে বলতে পারি না; বর্তমানের জন্য এটাই সত্য।

সম্প্রতি দেশে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিএনপির প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ '৭৪-এর দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি' শুনতে পেয়েছেন। মনে হয়, মাঠের রাজনীতি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন তিনি 'রাজনৈতিক গণক' হতে চান। নইলে যে পদধ্বনি কারও কানে পৌঁছায়নি, তা কী করে তার একার কানে পৌঁছল? দ্রব্যমূল্য সব দেশেই সব সময় ওঠানামা করে। তাতে জনজীবনে সাময়িক বিড়ম্বনা বাড়ে; দুর্ভিক্ষ হয় না। দুর্ভিক্ষ বলে তাকে, যা বাংলাদেশে ১৯৪১-৪২ সালে এবং ১৯৭৪ সালে ঘটেছিল। তখন বাজারে খাদ্যশস্য মোটেই ছিল না। যা ছিল তার দাম ছিল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ১৯৪১-৪২ সালের দুর্ভিক্ষে অবিভক্ত বাংলায় ৫০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে লক্ষাধিক নর-নারীর মৃত্যু হয়েছিল।

স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো দেশে মুদ্রাস্ম্ফীতির দরুন দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়ে গেলেও দুর্ভিক্ষ হয় না। হাসিনা সরকারের এই তিন দফা শাসনামলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল। কখনও সখনও দ্রব্যমূল্যের ওঠানামা হয়েছে, কিন্তু তা সংকট সৃষ্টি করেনি। হাসিনা সরকারের আমলে বরং খাদ্যশস্যের চিরঘাটতির দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং এখন বাজারে পেঁয়াজ সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে যারা মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের মতো বাঘ বাঘ চিৎকার শুরু করেছেন; অচিরেই তাদের সেই বালকের পরিণতি বরণ করতে হবে।

বিএনপির নেতৃত্বে যে ক'জন লেখাপড়া জানা নেতা আছেন, ব্যারিস্টার মওদুদ তাদের একজন। নীতিহীন এবং সুযোগ সন্ধানী না হলে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা স্থায়ী আসন লাভ করতে পারতেন। কিন্তু স্বভাব ও অভ্যাসগুণে আজ তার এই অবস্থা। নিজের দলেও তার কোণঠাসা অবস্থা। জুনিয়র নেতাদের কাছে তার কোনো পাত্তা নেই। তার কৃতিত্বের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে তিনি দু'একখানা কিতাব লিখেছেন। মাঠের রাজনীতিতে তিনি যত অসত্যের চর্চা করেন, এসব কেতাবে তা করেননি। কোনো কোনো বইতে কিছু অপ্রিয় সত্য লিখে দলের নেত্রী ও অন্যান্য নেতার বিরাগভাজন হয়েছেন।

মওদুদ ১৯৭৪ সালের, এমনকি ১৯৪১-৪২ সালের দুর্ভিক্ষের কারণ জানেন। কেবল তার বহুরূপী চরিত্রের জন্য তা গোপন করেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আমলে জাপানি সৈন্য যখন রেঙ্গুন, আরাকান, ইম্ম্ফল দখল করে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছিল, তখন ভারতের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ দখল করে তার বিপুল খাদ্যশস্য জাপানিরা হস্তগত করবে- এই ভয়ে যুদ্ধকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল তা গুদামে লুকিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তার সুযোগ গ্রহণ করে অসাধু ব্যবসায়ীরাও। তারা অস্বাভাবিকভাবে খাদ্যশস্যের দাম বাড়ায়। ফলে অবিভক্ত বাংলাদেশে ৫০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় তাকে বলেছিলেন, 'হিটলার ২ লাখ ইহুদিকে গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মেরেছে। আপনি ৫০ লাখ বাঙালিকে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে হত্যা করেছেন, কোনটি বড় অন্যায়?' চার্চিল জবাব দিয়েছেন, 'ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য এটা দরকার ছিল।' যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার দরুন হিটলার ইহুদি হত্যায় এ ধরনের যুক্তি দেখানোর সুযোগ পাননি।

যুদ্ধ শেষে ব্রিটিশ ভারতের শেষ বড়লাটের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শ্রী জওলাপ্রসাদ শ্রীবাস্তব ১৯৪১-৪২ (বাংলা ১৩৫০) সালের দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে তার এক তদন্ত-রিপোর্টে লেখেন, '৫০-এর এই দুর্ভিক্ষ ছিল ম্যান মেইড বা মনুষ্যসৃষ্ট। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ও ভারতের অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে এটা ঘটানো হয়েছিল। এর পেছনে ছিল চার্চিলের চক্রান্ত এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। শ্রীবাস্তবের মতে, এই দুর্ভিক্ষে প্রতিটি মৃত্যুতে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভ করেছে মাথাপিছু হাজার টাকা। ভারতীয় ক্যাপিটালিজমের গোড়া শক্ত হয় এই দুর্ভিক্ষে ৫০ লাখের মৃত্যুর মুনাফা থেকে।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষটিও মনুষ্যসৃষ্ট। মুজিব সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে এই দুর্ভিক্ষ ঘটিয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের বদলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর নয়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। তাদের সাহায্য জুগিয়েছে দেশের স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চক্র, অসাধু নব্য ব্যবসায়ী ও সামরিক বাহিনীর একটি ক্ষমতালোভী অংশ। পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ছিল এর সক্রিয় মদদদাতা।

১৯৭৪ সালে অতিবর্ষণ ও প্লাবনের ফলে ক্ষেতের শস্য নষ্ট হয় এবং বিশাল খাদ্যঘাটতি দেখা দেয়। মুজিব সরকার যথাসময়ে এই খাদ্যঘাটতি পূরণের জন্য আমেরিকার সঙ্গে একাধিক খাদ্যচুক্তি করে। কিন্তু তদানীন্তন মার্কিন সরকার খাদ্যবাহী জাহাজগুলোকে যথাসময়ে বাংলাদেশে আসতে না দিয়ে হাই সিতে ঘোরাফেরায় ব্যস্ত রাখে, যাতে জাহাজগুলো যথাসময়ে না পৌঁছে এবং বাংলাদেশের মানুষ খাদ্যাভাবে মারা যায়। মুজিব সরকার জনপ্রিয়তা হারায়। এই চক্রান্তের ফল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এবং সামরিক শাসনের শুরু। এই ইতিহাস এখন সকলের জানা। মার্কিন ম্যাগাজিন 'ফরেন অ্যাফেয়ার্স'-এ এর বিবরণ আছে 'ফুড অ্যাজ উইপন' বা অস্ত্র হিসেবে খাদ্য শীর্ষক একটি বিখ্যাত প্রতিবেদনে।

সুতরাং এ নিয়ে বিশদ আলোচনার প্রয়োজন নেই। শুধু এটুকু বলা যায়, ১৯৭৪ সালের এই ভয়ংকর চক্রান্ত ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বেনিফিসিয়ারি হয়ে যে স্বৈরশাসকদ্বয়- জিয়া এবং এরশাদ ক্ষমতা দখল করেছিলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ ছিলেন তাদের দু'জনেরই বশংবদ ক্রীড়নক এবং এখনও তাই আছেন। তাই এতদিন পর তিনি কানে '৭৪-এর পদধ্বনি শুনছেন শুনে সন্দেহ হয়। যে পদধ্বনি কেউ শুনছে না, তিনি একা শুনছেন, তাতে '৭৪ সালের মতো কোনো ষড়যন্ত্র আবার গোপনে দানা বাঁধছে কিনা! এটা প্রমাণ হয়েছে- মওদুদ সাহেব যে রাজনৈতিক চক্রের নেতা, বিএনপি-জামায়াত, অধুনা ঐক্যফ্রন্ট; তারা মাঠের রাজনীতি বা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আগ্রহী নয়। তাদের আগ্রহ চক্রান্ত ও গোপন হত্যা, সন্ত্রাসের রাজনীতিতে।

১৯৭৫ সালে এই চক্রান্ত ও হত্যার রাজনীতি সফল হয়েছিল। কারণ আওয়ামী লীগ ও দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি সতর্ক ও প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু '৭৪ ও '৭৫ সালের অবস্থা এখন নেই। বিএনপি-জামায়াত, তাদের সহযোগী সুশীল সমাজ, তথাকথিত নিরপেক্ষ মিডিয়া-গ্রুপ সব রকম চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে ২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ও পরে যে অবিরাম সন্ত্রাস, রাজপথে আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিযান শুরু হয়েছিল, তাও ব্যর্থ হয়েছে। এক ব্যর্থ রাজনীতিককে ভাড়া করে এনে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়েও সফল হওয়া যায়নি। নির্বাচনের পর এই নির্বাচনে বিরাট কারসাজি হয়েছে- এই প্রচারণা চালিয়েও বিশ্বের কোনো একটি দেশকে তা বিশ্বাস করানো যায়নি।

বিএনপি-জামায়াত এখন ছত্রভঙ্গ। ঐক্যফ্রন্টের ভাড়া করা নেতারা ঘর গেরস্থালিতে ফিরে এসেছেন। মওদুদ সাহেবের রাজনীতির পাত্রও এখন তলাফুটো। কথায় বলে- অলস মস্তিস্কে ডেভিল আশ্রয় নেয়। মওদুদ সাহেবের নিষ্ফ্ক্রিয় জীবনে অলস মস্তিস্কে কোনো অশুভ পরিকল্পনা দানা বেঁধে থাকলে বিস্ময়ের কিছু নেই। '৭৪-এর মতো বাংলাদেশে আরেকটি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ঘটানোর মতলব তার এবং দলের মাথায় আসতে পারে। কারণ, ক্ষমতা দখলের সব পথ এখন তাদের কাছে রুদ্ধ।

কিন্তু মওদুদ সাহেবরা বর্তমানের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছেন না। ১৯৭৪ এবং ২০১৯-২০ সালের পরিস্থিতি এখন এক নয়। দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি এখন দুর্বল হলেও চক্রান্তের রাজনীতিক সম্পর্কে সদা সতর্ক। মুখোশ পরা বুদ্ধিজীবীদের নিরপেক্ষতার খোলস মানুষের কাছে খুলে গেছে। হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়েও তাকে হত্যা করা যায়নি। বাংলাদেশে খাদ্যাভাব ঘটাতে বর্তমান আমেরিকা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে বর্তমান ভারত আগ্রহী নয়। দেশে যে নতুন প্রজন্মের সাহসী ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী গড়ে উঠেছে, তারা পাকিস্তানপন্থি অশুভ রাজনীতিতে জড়িত হতে আর রাজি নয়। মওদুদ সাহেবদের চক্রান্তের আখড়ায় তেল জোগাবার মানুষও তেমন নেই। সুতরাং....?

সুতরাং বাংলাদেশে আরেকটি '৭৪-এর দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি এবং তদ্বারা আবার ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্ন মওদুদ সাহেবরা দেখতে পারেন। ফল- এই বৃদ্ধ বয়সে আরও হতাশা, আরও করুণ পরিণতি। মওদুদ সাহেবরা যে এখন বাসিযুগের রাজনীতির ব্যর্থ রাজনীতিক- এ কথাটা তারা বুঝতে চাইছেন না।

[লন্ডন, ২২ নভেম্বর, শুক্রবার, ২০১৯]

এন কে / ২৮ নভেম্বর

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে