Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২৪-২০১৯

৪৬ অটো মিল মালিকের কবজায় চালের বাজার

সাজ্জাদ রানা


৪৬ অটো মিল মালিকের কবজায় চালের বাজার

কুষ্টিয়া, ২৪ নভেম্বর- সারাদেশে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে কুষ্টিয়া জেলার ৪৬ অটো চালকল মালিক। প্রতি বছর এ সিন্ডিকেট নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়ে লুটে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা আর নানা সুযোগে চালের বাজার অস্থির করে তুলছেন তারা। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে কুষ্টিয়া মোকামে সব ধরনের চালে কেজিতে এক টাকা বেড়েছে। আড়তে চাল সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেক মিল মালিক। অথচ কুষ্টিয়া মোকামে গত এক সপ্তাহে ১০ হাজার টন চাল মজুদ আছে বলে তথ্য রয়েছে মিল মালিক ও জেলা প্রশাসনের কাছে। তার পরও দাম বাড়ানোর বিষয়টি পুরোপুরি অযৌক্তিক বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধানের দাম বৃদ্ধি ও মোকামে চাল সংকটের অজুহাতে নতুন করে সব ধরনের চালে কেজিতে এক টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন মিল মালিকরা। অথচ ধানের দাম গত এক সপ্তাহে নতুন করে বাড়েনি বলে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। নতুন ধান ওঠায় কোনো কোনো জাতের ধানের দাম কমেছে। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে পরিবহন ধর্মঘট চলায় কুষ্টিয়া মোকাম থেকে চাল সরবরাহ নিম্ন পর্যায়ে চলে আসে। এই কারণে অটো ও হাসকিং চালকলগুলোতে প্রচুর চাল জমে যায়। যার পরিমাণ ১০ হাজার টনের বেশি। এ চাল শুক্রবার থেকে সরবরাহ শুরু হয়েছে দেশের বড় বড় আড়তে।

এই যখন অবস্থা, ঠিক সেই সময় চালের দাম মোকামে অর্থাৎ, মিল গেটে এক টাকা বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে ভোক্তাকে আরও তিন টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হবে।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারের সবচেয়ে বড় খুচরা ও পাইকারি চালের ব্যবসায়ী শাপলা ট্রেডার্সের মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'চালের বাজার কয়েকদিন ধরে স্থিতিশীল ছিল। নতুন করে আজ (শনিবার) সকাল থেকে মিল গেটে ফের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক টাকা করে।' তিনি বলেন, মিলের লোক এসেছিল। নতুন দাম নির্ধারণ করে লিখে দিয়ে গেছে।

নতুন করে মিনিকেট এক টাকা বেড়ে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা দুই হাজার ৩০০ টাকা, বাসমতি এক টাকা বেড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা, কাজললতা এক হাজার ৮৫০ টাকা, আঠাশ এক হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একই চাল কয়েকদিন ধরে মিনিকেট মিল গেটে ৪৫ টাকা, বাসমতি ৪৯ টাকা, কাজললতা ৩৬ টাকা ও আঠাশ ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল। কোনো কোনো চালে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জেলায় অটো চালকলের সংখ্যা বর্তমানে  ৪৬টি। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৪৩টি, দৌলতপুরে দুটি ও কুমারখালীতে একটি। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় দেশের বড় মোকামগুলোর অবস্থান। এ ছাড়া দৌলতপুরেও প্রচুর চাল উৎপাদন হয় দুটি মিল থেকে।

হাসকিং মিল মালিকদের অভিযোগ, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ অটো মিল মালিকদের হাতে। তারা দাম বাড়িয়ে দিলে বাজারে দাম বেড়ে যায়। নতুন ধান ওঠার এ সময় চালের দাম বাড়ার নজির সাধারণত নেই।

লিয়াকত রাইস মিলের মালিক লিয়াকত হোসেন বলেন, 'হাসকিং মিল মালিকদের হাতে চালের ব্যবসা নেই। অটো মিল মালিকরা সব চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এখন নতুন ধান উঠছে, তাতে বাজার বাড়ার কথা না।'

কয়েক বছর আগে দেশের বাজারে চালের বাজার অনেক বেড়ে যায়। সে সময় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ ওঠে কুষ্টিয়ার রশিদ এগ্রো ফুডসহ জেলার অটো চালকল মালিকদের বিরুদ্ধে। সে সময় অভিযান চালিয়ে রশিদের গোডাউনে প্রচুর ধান ও চালের মজুদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া অন্য কয়েকটি মিলেও প্রচুর ধান ও চাল মজুদের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে।

রশিদ এক সময় বিএনপি করলেও এখন আওয়ামী লীগের লোক। এ কারণে তার মিলে মনিটরিং চালাতে ভয় পান প্রশাসনের লোকজন। রশিদ ছাড়াও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েক নেতার কবজায় রয়েছে চালের বাজার। তারা ইচ্ছামতো চালের বাজার বাড়িয়ে দেন।

এবারও আমন মৌসুমে চালের দাম বাড়ার পর জেলা প্রশাসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জোরদার কোনো অভিযান দেখা যায়নি। এর মাঝে জেলা প্রশাসন সব চালকল মালিকদের ডেকে চালের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ করে। তবে মিল মালিকরা দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও এর মাঝে অনেক মিল মালিক দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অটো মিল মালিক বলেন, 'সারাদেশে অটো মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা যোগাযোগ করে দাম বাড়িয়ে দেন। এবার এ সময়ে ধানের দাম অল্প বেড়েছে। তবে যে দাম বেড়েছে, তাতে চালের বাজার প্রতি কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বাড়ার কথা নয়। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর অনেকেই দাম বাড়াননি। তবে কেউ কেউ বাড়িয়ে দিয়েছেন।'

গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলার ৪৬টি অটো মিলের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ১০ জন ব্যবসায়ী চালের বাজারে কারসাজি করেন। তাই ধান কেনা থেকে শুরু করে মিলে নিয়ে আসা ও চাল তৈরি পর্যন্ত খরচ ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, 'পরিবহন এক সপ্তাহ বন্ধ থাকায় চাল সরবরাহ বন্ধ ছিল। শুক্রবার থেকে ফের পরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। সারাদেশে চাল যাচ্ছে। মোকামে প্রচুর চাল রয়েছে। নতুন করে দাম বাড়ানো হয়নি।'

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ সুপার নিজেও এবার চালের বাজারের ওপর নজরদারি শুরু করেছেন। সাদা পোশাকে পুলিশের লোকজন মোকামে মনিটরিং করছে।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, নতুন ধান কাটা চলছে। বাজারেও আসতে শুরু করেছে। ধানের বাজার কিছুটা বাড়লেও সহনীয় রয়েছে। আর কৃষকের ঘরে পর্যাপ্ত ধান নেই এখন। ফড়িয়াদের মজুদ করা ধান বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর ধানের দাম ৯০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও চালের বাজার সহনীয় পর্যায়ে থাকার কথা। সরকার এ বছর ছয় লাখ টন ধান কিনবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে বলে আশা করছে সবাই।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, 'পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর পুলিশ মাঠে নেমেছিল। লবণ গুজবে মাঠে ছিল। এবার চালের বাজারও মনিটর করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, 'মিল মালিকদের ডেকে চালের দাম না বাড়াতে অনুরোধ করেছি। যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকলেও তারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অটো মিল মালিকরা এ কাজটি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। মোকামে ধান ও চালের মজুদের বিষয়টি নজরদারিতে আছে। এ ছাড়া তারা অন্য খানে গোডাউনে কোনো মজুদ করেছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

সূত্র : সমকাল
এন কে / ২৪ নভেম্বর

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে