Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২৩-২০১৯

যে ৪ ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি

যে ৪ ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি

কিছু অভ্যাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে। পৃথিবীতে নামিয়ে আনে ঘোর অন্ধকার। যে সমাজের মানুষের মধ্যে এই অভ্যাসগুলো দেখা দেয়, সেই সমাজে নেমে আসে দুর্যোগ, বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি। রাসুল (সা.) বলেছেন, চার ব্যক্তিকে মহান মহীয়ান আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন।

তারা হলেন- অধিক হারে শপথকারী বিক্রেতা, অহংকারী দরিদ্র, বৃদ্ধ ব্যভিচারী এবং অত্যাচারী শাসক। (নাসায়ি, হাদিস : ২৫৭৬)

অধিক হারে শপথকারী বিক্রেতা- উপরোক্ত হাদিসে অধিক হারে শপথকারী বিক্রেতা বলে বোঝানো হয়েছে মিথ্যা শপথ করে যারা পণ্য বিক্রি করে থাকে। (তিরমিজি, হাদিস: ১২১১)

যারা সৎ ব্যবসায়ী তাদের মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন সর্বোচ্চ স্থান দান করবেন। কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্যে অসৎ, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি। একদিন রাসুল (সা.) লোকদের কেনাবেচায় জড়িত দেখে বলেন, হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ডাকে সাড়া দিল এবং নিজেদের ঘাড় ও চোখ উঠিয়ে তার দিকে তাকাল।

তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের ফাসিক বা গুনাহগাররূপে উঠানো হবে; কিন্তু যেসব ব্যবসায়ী আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে, নির্ভুলভাবে কাজ করে এবং সততা ধারণ করে, তারা এর ব্যতিক্রম। (তিরমিজি, হাদিস: ১২১০)

কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে মানুষকে জিম্মি করে রাখে। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গুদামজাত করে দেশজুড়ে হাহাকার সৃষ্টি করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, গুদামজাতকারী ব্যক্তি পাপাচারী। (মুসলিম, হাদিস: ৪০১৪)

অহংকারী দরিদ্র- অহংকার হচ্ছে সব পাপের মূল। একে আরবিতে বলা হয় উম্মুল আমরাজ-‘সব রোগের জননী’। বরং বলা যায়, এ জগতের প্রথম পাপই হচ্ছে অহংকার। অহংকার করে শয়তান অভিশপ্ত হয়েছিল। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, উঁচু-নিচু সবার জন্যই অহংকার করা মারাত্মক অপরাধ।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমাদের মাবুদ এক। সুতরাং যারা আখিরাতে ঈমান রাখে না, তাদের অন্তরে অবিশ্বাস বদ্ধমূল হয়ে গেছে এবং তারা অহংকারে লিপ্ত। স্পষ্ট কথা, তারা যা গোপনে করে তা আল্লাহ জানেন এবং যা প্রকাশ্যে করে তা-ও। নিশ্চয়ই তিনি অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সুরা: নাহাল, আয়াত: ২২-২৩)

কিন্তু দরিদ্র মানুষের অহংকার করা বড়ই আশ্চর্যের বিষয়। কেননা গরিব মানুষের মধ্যে অহংকারবোধ জাগ্রত হওয়ার কোনো কারণ থাকার কথা নয়। এ কারণে কোনো গরিব মানুষ যদি অহংকার করে বসে, তা মারাত্মক অপরাধ।

বৃদ্ধ ব্যভিচারী- বৃদ্ধাবস্থায় ব্যভিচার অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ। এর মানে এই নয় যে যৌবনকালে ব্যভিচার দোষণীয় নয়। বরং ব্যভিচার সর্বাবস্থায়ই মারাত্মক অপরাধ। সাধারণত বৃদ্ধরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, পরকীয়ার জেরে। তা গড়ে ওঠে সাধারণত প্রতিবেশী, অফিস কলিগ কিংবা পুরনো বন্ধুর সঙ্গে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) তার সাহাবিদের ব্যভিচার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তারা বলেন, হারাম। আল্লাহ ও তার রাসুল তা হারাম করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ১০ জন নারীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া জঘন্য অপরাধ। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১০২)

অত্যাচারী শাসক- অত্যাচার মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে। এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শুধু ফাটলই সৃষ্টি করে। গৃহকর্তা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান, কারো জন্যই এটি হালাল নয়। রাসুল (সা.) হাদিসে কুদসিতে আল্লাহর কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘হে আমার বান্দা, আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের জন্যও তা হারাম করেছি। অতএব তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম কোরো না।’ (মুসলিম, হাদিস: ৬৭৩৭)

মহান আল্লাহ আমাদের হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আর/০৮:১৪/২৩ নভেম্বর

ইসলাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে