Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২২-২০১৯

রোহিঙ্গাদের এনআইডি : বেরিয়ে এলো জড়িত নির্বাচন কর্মকর্তার নাম

রোহিঙ্গাদের এনআইডি : বেরিয়ে এলো জড়িত নির্বাচন কর্মকর্তার নাম

চট্টগ্রাম, ২২ নভেম্বর - আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেয়ার ঘটনায় জড়িত নির্বাচন কমিশনের এক নির্বাচন কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে গ্রেফতার অফিস সহায়ক নাজিম উদ্দিন আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এ তথ্য দিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন করে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার নাম আব্দুল লতিফ শেখ। তিনি ২০১৬ সালের দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি পাবনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আরও এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম জবানবন্দিতে জানিয়েছেন নাজিম।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল আমীনের আদালতে নাজিম নিজের দায় স্বীকার করে এ জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের লাভ লেইনস্থ জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে নাজিমকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, “আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আসামি নাজিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুইদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার নাজিমকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”

জানা গেছে, এর আগে গ্রেফতার আরেক অফিস সহায়ক জয়নালসহ ২০১৬ সালে নির্বাচন অফিসের একটি সিন্ডিকেট রোহিঙ্গাদের এনআইডি পাইয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করে। এসময় নাজিম পাঁচলাইশ নির্বাচন অফিসে কর্মরত ছিলেন। পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন অফিসের তৎকালিন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দাপট ছিল নাজিমের। ২০১৭ সালে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দিতে জয়নাল ও নাজিম মিলে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। এসময় তাদের সহায়তা করে এই আব্দুল লতিফ শেখেসহ কয়েকজন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের এনআইডি পাইয়ে দেয়া চক্রের অনুসন্ধানে কক্সবাজার থেকে কাজ শুরু করে দুদক। টানা পাঁচদিনের অনুসন্ধানে কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা দালালসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় জয়নাল আবেদীন, বিজয় দাস ও তার বোন সীমা দাসকে আটক করা হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় চট্টগ্রাম নির্বাচন অফিসের আরেক কর্মচারী মোস্তফা ফারুককে।

এ তিনজনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে জাল এনআইডি বানানোর পারিবারিক ব্যবসার চমকপ্রদ কাহিনী। যেখানে পুরো ঘটনার মধ্যমণি হয়ে কাজ করেছেন ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন, পাঁচলাইশ নির্বাচন অফিসের সাবেক অফিস সহায়ক নাজিম ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারি মোস্তফা ফারুক।

তারও আগে গত ১৮ আগস্ট লাকী নামের এক নারী

স্মার্ট কার্ড তুলতে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে তার হাতে পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জেরার মুখে লাকী নিজের প্রকৃত নাম জানান রমজান বিবি এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার পর টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিলেন বলে স্বীকার করেন। ওই রোহিঙ্গা নারী ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন ওই জাল এনআইডি। অথচ ওই ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্যও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে।

এই ঘটনার পর রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ও এনআইডি পাইয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজতে অভিযান শুরু করে দুদক। নির্বাচন কমিশন থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২২ নভেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে