Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৯-২০১৯

খুলনা বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত, দুর্ভোগে যাত্রীরা

খুলনা বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত, দুর্ভোগে যাত্রীরা

খুলনা, ১৯ নভেম্বর - নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে খুলনা বিভাগের অধিকাংশ স্থানে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। চালকদের দাবি নতুন আইনে দুর্ঘটনার জন্য তাদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। যা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কোনো চালক ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটায় না, বা কাউকে হত্যা করে না।

খুলনা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নতুন সড়ক আইনের সংশোধনের দাবিতে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) খুলনায় দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে চালকদের কর্মবিরতি। ফলে চলছে না বাস। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। সেই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়েছে ছোট ছোট যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো। যার কাছ থেকে যা য়ে পারছে তাই আদায় করছে।

ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে খুলনার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোনো রুটে যানবাহন চলাচল করেনি। এ সুযোগে মাহেন্দ্র, মিনি পিকআপ, মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়িগুলোতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

আন্দোলনরত চালকরা বলছেন, নতুন আইনে দুর্ঘটনার জন্য তাদেরই দায় নিতে হচ্ছে। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। চালকরা কাউকে ইচ্ছা করে হত্যা করে না। তারপরও তাদের শাস্তি হবে। এ আইন মেনে নেয়া যায় না। যার প্রতিবাদে এ কর্মবিরতি।

মঙ্গলবার সকালে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে বাসের অপেক্ষায় থাকা হুমায়ুন কবীর জানান, ঢাকায় হেড অফিসে জরুরি কাজ রয়েছে। কিন্তু কখন বাস ছাড়বে কেউতা বলতে পারছে না । এখন কীভাবে পৌঁছাবেন তাই নিয়ে ভীষণ চিন্তিত।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চালাচ্ছে না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত শ্রমিকরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, নতুন আইন সংশোধনের দাবিতে সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় দিনের মত ধর্মঘট পালন করছেন বাস শ্রমিকরা। সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হতে সকাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ সব রুটেও বাস চলাচলও। এতে বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্তের যাত্রীরা।

এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, ভ্যানসহ বিভিন্ন বাহনে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। এছাড়া বিআরটিসিরও দুয়েকটি বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসচালক মিলন সরদার বলেন, নতুন আইন সংশোধন না হলে তারা বাস চালাবেন না। নতুন আইনে চালকদের বিরুদ্ধে এক তরফাভাবে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সাতক্ষীরা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান বলেন, নতুন আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কোনো শ্রমিক বাস চালাতে চায় না। কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশন থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে ধর্মঘটের কথা উল্লেখ নেই। তবে মৌখিক নির্দেশনায় শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ রেখেছেন।

সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল করিম সাবু বলেন, শ্রমিকরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ধর্মঘট পালন করছেন। তারা নতুন আইনের আতঙ্কে বাস চালাতে চায় না। দুর্ঘটনা একা হয় না, তবুও সব শাস্তি চালক-শ্রমিকদের। এটা তারা মানতে চাইছে না।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নতুন আইন সংশোধনের আশ্বাস পেলে শ্রমিকরা সড়কে ফিরে যাবে।

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইল থেকে যশোর, খুলনা, লোহাগড়াসহ সব অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে কোনো ঘোষণা ছাড়াই দ্বিতীয় দিনের মতো বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। জানা গেছে, রোববার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় নড়াইল প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর জেল জরিমানা সংশোধনসহ ১১ দফা দাবীতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। তারা প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০৪/খ ধারায় মামলা, মটরযান ও চালকদের অধিক অর্থদণ্ড এবং জেল-জরিমানা সংশোধনহ ১১দফা দাবি জানান। এর ৭ ঘণ্টা পর কোনো ঘোষণা ছাড়াই শ্রমিকরা নড়াইল-যশোর, নড়াইল-লোহাগড়া, নড়াইল-মাগুরা, নড়াইল-নওয়াপাড়া ও নড়াইল-কালিয়া সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, একই দাবিতে মেহেরপুরে আন্তঃজেলা সব রুটে দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন চালকরা। এ কারণে মেহেরপুর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ সব রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাস বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। কাউন্টারে এসে তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে ঝিনাইদহে দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। এ কারণে বন্ধ রয়েছে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল।

এর আগে সোমবার (১৮নভেম্বর) থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। অনেকেই তাদের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ঝিনাইদহ টার্মিনালে আসলেও বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এছাড়া একই দাবিতে কুষ্টিয়া, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায়ও ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে এসব জেলায়ও বন্ধ রয়েছে বাস চলাচল। তবে ধর্মঘটের প্রভাব নেই বাগেরহাট জেলায়।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৯ নভেম্বর

খুলনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে