Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৭-২০১৯

‘অপকর্মে’ সংকুচিত দ. কোরিয়ার শ্রমবাজার

জেসমিন পাপড়ি


‘অপকর্মে’ সংকুচিত দ. কোরিয়ার শ্রমবাজার

ঢাকা, ১৮ নভেম্বর- বাংলাদেশিদের জন্য কাজের সুযোগ কমেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। কিছু বাংলাদেশিকর্মীর অপকর্মে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া কমিয়েছে পূর্ব এশিয়ার দেশটি।

পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশটিতে কাজ করতে গেছেন এমন কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে ভুয়া নথি জমা দিয়েছেন। অনেকে দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে জাল সার্টিফিকেট দেখিয়েছেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোরিয়ান সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ আরও কঠোর করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, কিছু বাংলাদেশি কোরিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাল নথি জমা দিয়েছে। যা দেশটির কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করেছে।

তিনি জানান, নথি জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অপরাধে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠিয়েছে কোরিয়ান অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা ও সিউলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার নিজেদের ইমিগ্রেশন আইনে কিছু পরিবর্তন এনেছে যা বাংলাদেশসহ ১৬টি উৎসদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমেছে। বিএমইটি’র তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছে এক হাজার ২৬৮ বাংলাদেশিকর্মী। যেখানে ২০১৮ সালে দেশটিতে দুই হাজার ৮৭ কর্মীর কাজের সুযোগ হয়।

গত জুলাই মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের শ্রম কাউন্সেলর মকীমা বেগম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এক চিঠিতে জানান, বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনিয়মের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

‘দক্ষিণ কোরিয়ায় ভিসার নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে আইন কঠোর করা হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্যান্য কর্মী পাঠানোর দেশগুলো কোরিয়ার এ কঠোর অভিবাসনবিধির জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করছে।

দক্ষিণ কোরিয়া এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মীদের নিয়োগ দেয়। এজন্য বিদেশি নাগরিকদের কোরিয়ান ভাষা জানা এবং আরও কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হয়। বাংলাদেশিকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব দক্ষতা সার্টিফিকেট জাল করার অভিযোগ উঠেছে।

গত মার্চ মাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নিয়োগের জন্য অনুরোধ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কং ইলাত সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ অনুরোধ জানান।

রাষ্ট্রদূত কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি তরুণদের উদাহরণ টেনে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার অত্যন্ত প্রশংসা করেন। প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বলেও জানান তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী নিয়োগ নীতিমালা প্রশংসনীয়। এ প্রক্রিয়ায় কর্মীদের অভিবাসন মূল্য ৮০ হাজার টাকার বেশি নয়।

তিনি জানান, কেবল দক্ষ ও কোরিয়ান ভাষা জানা কর্মীদের দেশটিতে চাকরি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট (এইচআরডি) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন করে। পরে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে তাদের কোরিয়া পাঠানো হয়।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১৮ নভেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে