Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৩-২০১১

পরাজয়ের আগে ঘাতকদের হত্যাযজ্ঞ

পরাজয়ের আগে ঘাতকদের হত্যাযজ্ঞ
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর: বিজয় তখন দ্বারপ্রান্তে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবর আসছিল একের পর এক। তাদের পরাজয় তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক এমন সময়ে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা সৃষ্টি করে একটি শোকাবহ দিন। নরঘাতক সেই হায়েনারা হত্যা করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
 
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেদিন রাতেই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকা ধরে ঘর থেকে চোখ বেঁধে টেনেহিঁচড়ে বের করা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে। হত্যা করে ফেলে রাখা হয় নিস্তব্ধ অন্ধকারাচ্ছন্ন বধ্যভূমিতে।

তাদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও পদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন পেশার কৃতী সন্তানরা। পরবর্তী সময়ে মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটভাটায় বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায় বুলেটবিদ্ধ তাদের নিথর দেহ। পেছনে হাত বাঁধা, ক্ষতচিহ্ন শরীরজুড়ে।
 
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিত্সক, ৪২ জন আইনজীবী এবং ১৬ জন শিল্পী-সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী। তাদের মধ্যে ছিলেন ড. জিসি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দিন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমদ, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, আরপি সাহা, আবুল খায়ের, রশীদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ফজলুল মাহী, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, সায়ীদুল হাসান, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীনসহ অনেকে।

আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও শোকের আবহে পালিত হবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ উপলক্ষে নিয়েছে নানা কর্মসূচি। এতে রয়েছে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, আলোর মিছিল, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
 
ভোর থেকেই শোকাহত মানুষের ঢল নামবে সেদিনের হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রায়েরবাজারের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতিস্তম্ভের সামনে। সেখানে অর্পণ করা হবে পুষ্পার্ঘ্য। শোকবিধুর মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ওড়ানো হবে শোকের প্রতীক কালো পতাকা।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে