Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৫-২০১৯

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: সম্ভাব্য ৪ মেয়র প্রার্থীর প্রস্তুতি

হাবিবুর রহমান খান ও রেজাউল করিম প্লাবন


ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: সম্ভাব্য ৪ মেয়র প্রার্থীর প্রস্তুতি

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর - ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। উত্তরে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলামই। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনও দলীয় মনোনয়ন পাবেন- এমন প্রত্যাশায় নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

অন্যদিকে উত্তরে বিএনপি থেকে গতবারের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালই ফের মনোনয়ন পাচ্ছেন। দক্ষিণে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

দুই দলের সম্ভাব্য এ চার প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করেছেন হাবিবুর রহমান খান ও রেজাউল করিম প্লাবন।

আওয়ামী লীগের ভরসা আতিকুলই

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম। আগামী নির্বাচনেও তিনি মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হন আতিকুল ইসলাম। নির্বাচনে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নেয়ার।

এ বিষয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, আট মাসে চেষ্টা করেছি অনেক। অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও চেষ্টার অভাব ছিল না। আমি দায়িত্ব নেয়ার কয়েকদিন পরই বড় দুর্যোগ- ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মীমের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে। এটি নিয়ন্ত্রণ করতেই অনেকটা সময় গেছে। এরপর এফআর টাওয়ার, গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড। যখনই কাজে মনোনিবেশ করেছি তখনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, এগুলো শুধু দুর্ঘটনা ছিল না, এগুলো ছিল উন্নয়ন কাজে আমার এক একটি চ্যালেঞ্জ। মাত্র আট মাসে এত বাধা সত্ত্বেও বেশকিছু কাজ দৃশ্যমান করেছি। কিছু অর্জন তো আছে। এখন বুঝতে পারছি কোথায় কি করতে হবে। আট মাসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে চলতে চাই। নির্বাচনী প্রচার বলে কিছু নেই। মানুষের কাছে প্রতিদিন যাচ্ছি। কাজ হচ্ছে প্রচারও হচ্ছে।

মেয়রের দায়িত্ব পেয়ে গ্রিন ঢাকা গড়াসহ বেশ কিছু কাজ শুরু করেন আতিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো সাড়ে ৯ কিলোমিটার সাইকেল লেন করেছি। এটা দ্রুতই উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যে ২৮৮ মিটার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এটা কিন্তু সহজ কাজ নয়। নতুন আরও অনেক কিছু করার ইচ্ছা আছে। নেত্রী (শেখ হাসিনা) আবার সুযোগ দিলে সেগুলো বাস্তবায়ন করব।

আতিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের কাজের সুবিধার কথা চিন্তা করে হট লাইনন ‘৩৩৩’ চালু করেছি। এটা বাংলাদেশে প্রথম। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতেই এটা করেছি। জনপ্রতিশ্রুতি ও তা বাস্তবায়নের জবাবদিহিতার জন্যই এটি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম ১৯৬৯ সালের ১ জুলাই কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘ ৩২ বছর কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন ইসলাম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। তিনি ২০১৩-১৪ মেয়াদে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপিতে এবারও তাবিথ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি থেকে এবারও প্রার্থী হচ্ছেন তাবিথ আউয়াল। দলীয় সিগন্যাল পেয়ে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগসহ নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি শুরু করেছেন। দলের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও কথা বলছেন তিনি। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। দলের নেতাকর্মীদের যে কোনো প্রয়োজনে ছুটে যাচ্ছেন এ তরুণ নেতা।

তাবিথ আউয়ালের বাবা আবদুল আউয়াল মিন্টু বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। বাবার হাত ধরেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির হাতেখড়ি তাবিথের। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও বিএনপির বৈদেশিক কমিটির সদস্য।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাবিথ আউয়াল বৃহস্পতিবার বলেন, নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তফসিলের পর দল যদি সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি আছি। ইতিমধ্যে ভোটের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছি।

তিনি বলেন, এর আগে আমি বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে নির্বাচন করেছি। আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে কিছু কাজ করাও রয়েছে। ওই নির্বাচনে আমি দলের হাইকমান্ডে প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি বলে আমার বিশ্বাস। বলতে গেলে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি আমার সবসময় রয়েছে। সেই নির্বাচনে নগরবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি। আশা করি আগামীতেও এ সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে অভিযোগ করে তাবিথ বলেন, আগের রাতেই ভোট হয়ে যাচ্ছে। ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের কোনো সুযোগই পাচ্ছে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলে তাদের প্রতি দায়বদ্ধতাও থাকে না- যা আমরা এখন দেখতে পারছি। আগামী নির্বাচনও অবাধ-সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে সবার সংশয় রয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বিএনপি অংশ নিলে এবং মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী- জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, গত নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি শতভাগ আশাবাদী। কারণ, এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামব। এ প্রতীকের প্রতি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের একটা দুর্বলতা রয়েছে। এছাড়া সরকারের অন্যায়, জুলুম ও মেয়রদের ব্যর্থতায় নগরবাসী ক্ষুব্ধ। তারা ধানের শীষকে ভোট দেবে। এছাড়া তরুণ প্রার্থী হিসেবে যুব সমাজের বড় একটি অংশের সমর্থন আমি পাব। তরুণ নেতৃত্বের প্রতি নগরবাসীও আস্থা রাখবেন বলে আশা করি। প্রতীক আর তরুণ নেতৃত্ব- এ দুইয়ের সমন্বয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হব বলে আশা করি।

নগরবাসীর জন্য আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আমার স্লোগান ছিল ‘নতুন প্রজন্ম, নতুন ঢাকা’। এবারও এ স্লোগানকেই গুরুত্ব দেয়া হবে। একটি পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক মানের আদর্শ ঢাকা নগরী গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান কাজ।

উচ্চশিক্ষিত ও তরুণ ব্যবসায়ী তাবিথের জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে ইনফরমেশন সিস্টেম টেকনোলজিতে এমএস ও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে বিবিএ করেন।

এরপর দেশে ফিরে তাবিথ পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন এবং সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার জগতেও তার পরিচিত রয়েছে। বিশেষ করে ফুটবল অঙ্গনে তাবিথের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচিত সহ-সভাপতি।

সাঈদ খোকন আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন। ঢাকার প্রথম মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফের ছেলে তিনি। বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া সাঈদ খোকন ডিএসসিসির আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী।

ইতিমধ্যে মেয়র সাঈদ খোকন নাগরিকসেবার পাশাপাশি শুরু করেছেন আগামী নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। গত সাড়ে চার বছরে অর্জিত সফলতা-ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরছেন তিনি। শেষমুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোটের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে।

একই সঙ্গে প্রত্যাশা করছেন, আগামী নির্বাচনে ফের নির্বাচিত হলে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন।

নির্বাচনী প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার বিষয়টি আসে। তবে আমি জনগণের দোরগোড়ায় যাচ্ছি। সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ করছি।

নাগরিকসেবা করতে গিয়ে এডিস মশা ও ডেঙ্গু জ্বরসহ বেশকিছু বিষয় মোকাবেলা করতে হয়েছে সাঈদ খোকনকে। তিনি বলেন, এই সাড়ে চার বছরে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি। সামনে সুযোগ পেলে আরও ভালো কিছু করব আশা করি।

মেয়র সাঈদ খোকন ২০১৫ সালের নির্বাচনে ডিএসসিসির বাসিন্দাদের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার মধ্যে রয়েছে- ডিজিটাল মহানগরী, শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য অবারিত করা, আবাসন সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, ক্রীড়া ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে যানজট নিরসন, দূষণমুক্ত ও নিরাপদ বুড়িগঙ্গা, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর মহানগরী, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। নাগরিকদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ছিল সাঈদ খোকনের। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বাস্তবায়নের কথা বলেছিলেন তিনি।

মেয়াদের শেষদিকে এসে সেসব প্রতিশ্রুতির কতটুক বাস্তবায়ন হল জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, ইতিমধ্যে অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি। যেগুলো হয়নি তা বাস্তবায়নে জনগণের দোরগোড়ায় যাচ্ছি। সমস্যা শুনছি এবং সমাধান করছি। কিছু কাজ আছে যা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে সময় নিচ্ছি। এটাও নির্বাচনী কাজ বলতে পারেন। আমরা বসে নেই। কাজ করছি। আগামী নির্বাচন সামনে রেখেই এগোচ্ছি। এটা চলমান প্রস্তুতি।

সাঈদ খোকন ১৯৯৯ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০৪ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য।

বিএনপিতে সম্ভাবনা বেশি ইশরাকের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন ইশরাক হোসেন। সদ্যপ্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

দলীয় হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়ে দক্ষিণের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে নির্বাচন প্রসঙ্গে তাদের মতামত নিয়েছেন। প্রায় সব নেতাকর্মীই তাকে মেয়র পদে নির্বাচন করার পরামর্শ দেন। এতে আরও উজ্জীবিত হয়েছেন ইশরাক।

নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতার পরামর্শও নিয়েছেন। এরপর তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোটারদের প্রধান সমস্যা ও তা সমাধানে করণীয় নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। গত নির্বাচনে দক্ষিণে দলের সমর্থন পান স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এবার তিনি নির্বাচন করবেন না।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির বৈদেশিক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন বৃহস্পতিবার বলেন, দল যদি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচনে লড়ব। আমার বাবা অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন। তাই বাবার পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে পারব। আমি নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি শুরু করেছি।

তিনি বলেন, গুণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করি। তাছাড়া জন্মের পর থেকেই রাজনীতি খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাবা কীভাবে জনগণের বিপদ-আপদে ঝাঁপিয়ে পড়তেন, তা নিজ চোখে দেখেছি। বাবার আদর্শই আমাকে রাজনীতি করার প্রেরণা জোগায়। তাই উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশে ফিরেই মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে পুরোদস্তুর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি।

মনোনয়ন পেলে দলের সব নেতাকর্মী বিশেষ করে মির্জা আব্বাস আপনাকে সমর্থন দেবেন কি না- জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, বড় দল হিসেবে বিএনপিতে বাবা ও আব্বাস কাকার মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ছিল। সেটাকে আমি কখনও নেতিবাচক হিসেবে দেখিনি। তাছাড়া আব্বাস কাকা আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তিনি অভিভাবকের মতো আমাকে আগলে রেখেছেন।

তিনি বলেন, আব্বাস কাকা তার ছেলে মনোনয়ন পেলে যেভাবে কাজ করতেন, আমি নির্বাচন করলে সেভাবেই কাজ করবেন। তিনি আমাকে নিজের ছেলের মতোই স্নেহ করেন। বাবা মারা গেলেও আব্বাস কাকাসহ আরও কয়েকজন সেই শূন্যতা পূরণে সবসময় পাশে রয়েছেন। আশা করি সবসময় থাকবেন।

নির্বাচিত হলে কী করবেন- জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, বাবা মেয়র থাকাকালে নগরবাসীর সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। বাবা হয়তো অনেক কিছু করে যেতে পারেননি। একটি আধুনিক শহর গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। মেয়রকে নগরপিতা বলা হয়। পিতা যেমন তার সন্তানদের মায়া-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন, নির্বাচিত হলে আমিও চেষ্টা করব নগরবাসীকে পিতার স্নেহ দিয়ে আগলে রাখতে।

ইশরাক বলেন, নগরবাসীর জন্য সত্যিকার কিছু করতে হলে সিটি গভর্নমেন্টের বিকল্প নেই। আমার বাবা দীর্ঘদিন এ দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আমিও সেটা চাই। সিটি গভর্নমেন্ট হলে নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাসহ সার্বিক কাজকর্ম অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। যা উন্নত বিশ্বে লক্ষ করা যাচ্ছে।

সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার স্কলাস্টিকায় পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যান যুক্তরাজ্যে। সেখানে হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস করেন তিনি।

এরপর দেশে ফিরে বাবার ব্যবসার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে অল্পদিনেই নেতাকর্মীদের প্রিয় মানুষ হয়ে পড়েন। ২০১৪ সালে বাবা অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর থেকে মহানগরের রাজনীতির পুরোটাই দেখভাল করেন ইশরাক, বিশেষ করে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন। নেতাকর্মীরাও যে কোনো সহযোগিতায় ইশরাকের কাছে ছুটে যান। বাবার মতোই তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

সুত্র : যুগান্তর
এন এ/ ১৬ নভেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে