Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৪-২০১৯

বিএনপির হারিয়ে যাওয়া বুদ্ধিজীবিরা

বিএনপির হারিয়ে যাওয়া বুদ্ধিজীবিরা

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর- রাজনীতিতে এক চরম সংকটে রয়েছে বিএনপি। দলের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা, দ্বিধা দ্বন্দ্ব এবং করণীয় নিয়ে বিভক্তি একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস এবং সর্বপরি দল পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে বিএনপি তার প্রতিষ্ঠালগ্নের পর থেকে সবচেয়ে ক্রান্তিকাল সময় অতিবাহিত করছে। আর এই ক্রান্তিকালে বিএনপিতে সরব দেখা যেত যে সমস্ত বুদ্ধিজীবিদেরকে তাদের একটি বড় অংশ এখন নিরব। তারা প্রায় লোক চক্ষুর অন্তরালে এবং অনেক হারিয়ে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের খবর পত্র নেই। এদের কয়েক জনকে নিয়েই এই প্রতিবেদন।

শফিক রেহমান
শফিক রেহমান বিএনপির অন্যতম প্রধান থিঙ্কট্যাঙ্ক ছিলেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। চার্টার্ড একাউন্ট থেকে সাংবাদিক শফিক রেহমান দীর্ঘ দিন ধরেই দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে নেই। বর্তমান সরকার আসার পর প্রথমে তাকে বেশকিছু দিন উদ্যোগী দেখা গেলেও, বর্তমানে তার কোন খোঁজ নেই। বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণ লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল। কিন্ত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় হত্যা প্রচেষ্টার ষড়ষন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি প্রায় লোক চক্ষুর অন্তরালে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে দৃশ্যমান নন।

মাহমুদুর রহমান
মাহমুদুর রহমান ছিলেন বিএনপির আরেক থিঙ্কট্যাঙ্ক। বিএনপিতে যারা দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে সক্রীয় ছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন এই মাহমুদুর রহমান। দৈনিক আমার দেশের এই ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এখন মুখে কুলুপ এটেছেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন। এবং এই গণপদত্যাগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার মতামত প্রতিক্রিয়া ইত্যাদিও কেউ জানে না। তিনি এক রকম বিএনপিকে বর্জন করে আছেন। তার ঘনিষ্ঠরা বলেন, মাহমুদুর রহমান কখনোই বিএনপির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। কিন্তু ২০০১-২০০৬ সালের  জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান যে বিএনপির অন্যতম নীতি নির্ধারক ছিলেন এ ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহ নেই।

ফরহাদ মজহার
ফরহাদ মজহার একদা বামপন্থী থেকে মৌলবাদী বুদ্ধিজীবী হিসেবে আর্ভিভূত হয়ে বিএনপির একজন থিঙ্কট্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াকে নানা হিত উপদেশ দেওয়ার জন্য তিনি আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে তিনি এখন লোক চক্ষুর অন্তরালে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও তার কোনো যোগাযোগ নেই। এর পাশাপাশি বিএনপিকে তিনি কোনো হীত উপদেশ দেন এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে তিনি একেবারে নিখোঁজ ব্যক্তি হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছেন।

ড. মাহবুব উল্লাহ
ড. মাহবুব উল্লাহ বিএনপির একজন বড় থিঙ্কট্যাঙ্ক ছিলেন। কিন্তু তার ছোট ভাই মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর পর থেকেই তিনি একজন নিবৃতচারী জীবন যাপন করছেন। তার ঘনিষ্ঠজনরা অবশ্য বলছেন, বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ত্যক্ত বিরক্ত হয়েই ড. মাহবুব উল্লাহ নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। এমনকি বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও তার কোনো যোগাযোগ নেই বলেই দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে।

ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ
ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বিএনপির সরব বুদ্ধিজীবিদের অন্যতম ছিলেন। কিন্তু সেই এমাজউদ্দীন আহমেদও এখন নিরব। শুধুমাত্র বিভিন্ন দিবসে কিছু লেখালেখি ছাড়া কোনো কার্যক্রমে নেই। অবশ্য তার ঘনিষ্ঠজনরা অবশ্য বলছেন, বার্ধক্যজনিত কারণেই তিনি নানা রকম অসুস্থতায় আক্রান্ত সেই জন্যই তাকে এখন দৃশ্যমান দেখা যায় না।

যার ফলে এই সমস্ত বুদ্ধিজীবিদের অভাবেই বিএনপির পক্ষে কথা বলার মতো সুশীল এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিএনপির দেউলিয়াত্বের এটি আরেকটি দিক বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আর/০৮:১৪/১৪ নভেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে