Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৩-২০১৯

পর্দাকাণ্ডে ফরিদপুর হাসপাতালের ৩ ডাক্তারকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

পর্দাকাণ্ডে ফরিদপুর হাসপাতালের ৩ ডাক্তারকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

ঢাকা, ১৩ নভেম্বর- সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার পর্দাসহ ১৬৬টি চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে আলোচিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্টসহ তিন ডাক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা হলেন- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শেখ আবদুল, ডা. মিজানুর রহমান ও ডা এমানুল করিম।

বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল সোয়া ১০টা থেকে পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। দুদকের জনসংযোগ দফতর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চলতি বছরের অক্টোবর থেকে দুদকের উপ-পরিচালক শামছুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধান টিমের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- উপ-সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান ও ফেরদৌস রহমান। টিম এরই মধ্যে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী যাচাই ও মূল্য নির্ধারণে সরেজমিনে পরিদর্শনে যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রোগীকে আড়াল করে রাখার এক সেট পর্দার দাম দেখানো হয় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকার ১৬৬টি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। যেখানে এগুলোর প্রকৃত বাজার মূল্য ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬৫ টাকা। এরই মধ্যে অনিক ট্রেডার্স ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৭ টাকার বিল উত্তোলন করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আরও ১০ কোটি টাকার বিল বিভিন্ন অসঙ্গতিতে আটকে দেয়া হয়। বিল পেতে ২০১৭ সালের ১ জুন অনিক ট্রেডার্স হাইকোর্টে রিট করে। এরপরই মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির তালিকা চেয়ে পাঠান। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্তে দুদককে নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট।

অভিযোগের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, পর্দা ছাড়াও ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দামের একেকটি স্টেথিস্কোপের জন্য খরচ দেখানো হয় ১ লাখ সাড়ে ১২ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকার ডিজিটাল ব্লাডপ্রেশার মাপার মেশিন কেনা হয় ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। অব্যবহৃত আইসিইউর জন্য অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্টের দাম ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। খোদ জাপান থেকে আনলেও এর খরচ সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা হতে পারে বলে মনে করে সংশ্লিষ্টরা। অথচ প্ল্যান্টটি বন্ধ রুমটির দেয়ালে শ্যাওলা পড়ে নোনা ধরে স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বিআইএস মনিটরিং প্ল্যান্ট স্থাপনে খরচ হয় ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। যেখানে বাজার দাম ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এভাবে প্রায় ১৮৬ গুণ পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে ১৬৬টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স, যা জনবলের অভাবে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও মালামাল সরবরাহ করে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর ফমেক হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. আ. রাজ্জাক স্বাক্ষর করে ১০ প্রকারের যন্ত্রপাতি ও মালামাল বাবদ ১০ কোটি টাকার সরবরাহ করা মালামাল বুঝে নেন। কিন্তু গত কয়েক বছরের অযত্ন অবহেলায় ধুলাবালি পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ২০ আগস্ট ৬ মাসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য দুদককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত।

সূত্র : জাগো নিউজ২৪
এন কে / ১৩ নভেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে