Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১১-২০১৯

ক্রিসেন্টের আরও ৩৭৮ কোটি টাকা পাচার

গোলাম সাত্তার রনি


ক্রিসেন্টের আরও ৩৭৮ কোটি টাকা পাচার

ঢাকা, ১২ নভেম্বর- রপ্তানি না করেও ভুয়া রপ্তানি বিলের মাধ্যমে ক্রিসেন্ট গ্রুপের আরও ৩৭৮ কোটি টাকা পাচারের নতুন তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জাল-জালিয়াতি করে বিপুল পরিমাণ এ অর্থ পাচারে আগের মতোই সহায়ক ছিলেন জনতা ব্যাংকের পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জ শাখা ও জোনাল শাখার কর্মকর্তারা।

বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করার অভিযোগে গতকাল সোমবার রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রুপালি কম্পোজিটের চেয়ারম্যান এমএ কাদের, তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানের এমডি সুলতানা বেগম মনি, জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন এ মামলা করেন। এমএ কাদের বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘন করে ১৪৫, হাজারীবাগের রুপালি কম্পোজিট লেদারওয়্যার লিমিটেডের পণ্য চালান রপ্তানির নামে ১৯০টি বিলের বিপরীতে ৩৭৮ কোটি ৯ লাখ

টাকা বিদেশ থেকে ফেরত আসেনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, দেশি অর্থ বিদেশে পাচার করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি অপরাধ। তদন্তকালে অন্য কারও নাম পাওয়া গেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এমএ কাদেরের ভাই আবদুল আজিজ তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’য় পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ ব্যয় করেছেন। আবদুল আজিজ অর্থ পাচারের অন্য একটি মামলার আসামি। তবে তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে খুঁজছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. শহীদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় ক্রিসেন্ট গ্রুপ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে এমন আরও ৩৭৮ কোটি টাকা পাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে কারা কিভাবে জড়িত ছিল, তদন্তে এসব বিষয় উঠে আসবে।

শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালে ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ৪৯৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, রুপালি কম্পোজিট লেদারওয়্যারস লিমিটেড ৪১১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেড ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড ৫১৯ কোটি ৪০ লাখ এবং লেক্সকো লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। বিদেশি ২১টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য রপ্তানির নামে জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় ১ হাজার ১০৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় গ্রুপটি।

ওই ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চকবাজার থানায় মামলা করে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজার থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি করে জালিয়াতি, পরস্পর যোগসাজশ, প্রতারণায় সহায়তা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আর/০৮:১৪/১২ নভেম্বর

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে